সমুদ্র এলাকায় ব্যাপক সম্পদ থাকলেও এ খাতে উদ্যোগ ও দক্ষ জনশক্তির অভাবে তা দেশের কাজে আসছে না। পার্শ্ববর্তী দেশগুলো তাদের দক্ষতা দিয়ে এখান থেকে ঠিকই লাভবান হচ্ছে। প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিলে সম্ভাবনাময় সমুদ্রসম্পদই হবে দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির শক্তি। এ জন্য এখনই নীতিমালা প্রণয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ নিতে হবে।
গভীর সমুদ্রে বিনিয়োগে আগ্রহ বিদেশিদের 


সমুদ্র এলাকায় ব্যাপক সম্পদ থাকলেও এ খাতে উদ্যোগ ও দক্ষ জনশক্তির অভাবে তা দেশের কাজে আসছে না। পার্শ্ববর্তী দেশগুলো তাদের দক্ষতা দিয়ে এখান থেকে ঠিকই লাভবান হচ্ছে। প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিলে সম্ভাবনাময় সমুদ্রসম্পদই হবে দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির শক্তি। এ জন্য এখনই নীতিমালা প্রণয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ নিতে হবে।


ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত 'ব্লু ইকোনমি : নতুন দিগন্ত ও সম্ভাবনা' শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার চেম্বার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত পানপিমুন সোয়ানাপুনসে, মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার নূর আসহিকিন বিনতে মোহা তাইয়িব ও ব্রুনাই দারুস সালামের হাইকমিশনার বিশেষ অতিথি ছিলেন।

পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার ক্ষেত্রে সমুদ্রসম্পদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি হবে দেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ শক্তি। ইতিমধ্যে অনেক বিদেশি প্রতিষ্ঠান গভীর সমুদ্রে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে। দেশেরও অনেকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে কাজ করতে চান। সরকার পিপিপির অধীনে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম ইউনিটের সচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মো. খুরশেদ আলম মূল প্রবন্ধে বলেন, বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার আয়তন এক লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার। এই বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে মৎস্য ও খনিজ আহরণ, পর্যটন, গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপন, তেল ও গ্যাসকূপ খননসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে ব্যাপক আয় করা সম্ভব। সমুদ্রে 'কেইস কালচারিং'-এর মাধ্যমে ইলিশ উৎপাদন দ্বিগুণ করা যেতে পারে। এ জন্য সরকারি নীতি, বেসরকারি বিনিয়োগ ও দক্ষ মানবসম্পদ দরকার। পণ্য পরিবহনে তিনি এসব খাতে উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে নীতিমালা প্রণয়নের প্রস্তাব করেন।

ডিসিসিআইর সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, মিয়ানমার ও ভারতের মতো বাংলাদেশেরও গভীর সমুদ্র এলাকায় গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগর এলাকায় প্রতিবছর ৮০ কোটি টন মাছ ধরা হয়, যার বেশিরভাগই করে মিয়ানমার ও ভারত। তিনি সমুদ্রসম্পদ আহরণ ও যথাযথ ব্যবহার জন্য 'ন্যাশনাল ব্লু ওশান ইকোনমি ডেভেলপমেন্ট পলিসি' প্রণয়নের আহ্বান জানান।

ডিসিসিআই পরিচালক আকবর হাকিম বলেন, সমুদ্র এলাকাকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে হবে। তিনি বলেন, থাইল্যান্ডের জিডিপিতে কোস্টাল ট্যুরিজমের অবদান প্রায় ১৯ শতাংশ। বাংলাদেশের উচিত এ বিষয়ে আরও মনোযোগী হওয়া।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্স অ্যান্ড ফিশারিজের অধ্যাপক সাইদুর রহমান চৌধুরী বলেন, দেশের সমুদ্র এলাকায় ৪৭৫ প্রজাতির মাছ থাকলেও ১০০টি প্রজাতির মাছের চাহিদা রয়েছে। কোন ধরনের মাছের চাহিদা রয়েছে, তা জানতে গবেষণা দরকার। তিনি সমুদ্রসম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে 'মেরিন স্পেশাল অ্যাক্ট' প্রণয়নের প্রস্তাব করেন।

ব্লু ইকোনমি সেলের অতিরিক্ত সচিব গোলাম সফিউদ্দিন বলেন, সরকার সমুদ্র এলাকায় মৎস্যসহ অন্যান্য সম্পদের বিষয়ে তথ্য পেতে জরিপ পরিচলনায় সক্ষম নৌযান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, এ খাতে প্রযুক্তিগত দক্ষতাসহ দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির বিষয়ে আরও নজর দিতে হবে।

মুক্ত আলোচনায় ডিসিসিআইর পরিচালক ও ব্যবসায়ীরা সমুদ্রসম্পদ আহরণে সরকারি প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব করেন।

Post A Comment: