গতকাল মুক্তি পেলো বাংলাদেশের সুপারস্টার শাকিব খান অভিনীত চলচ্চিত্র ‘সত্তা। ছবিটি প্রদর্শনের জন্য সিনেমা হল পেয়েছে ৪৮টি। অন্যদিকে কলকাতার চলচ্চিত্র ‘হরিপদ ব্যান্ডওয়ালা’ ছবিটি মুক্তি পেয়েছে ৭৮ হলে। এই ঘটনাকে বাংলাদেশের সিনেমা ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখছেন চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্টরা। কলকাতার ছবি প্রবেশে নতুন সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি।


গতকাল মুক্তি পেলো বাংলাদেশের সুপারস্টার শাকিব খান অভিনীত চলচ্চিত্র ‘সত্তা।  ছবিটি প্রদর্শনের জন্য সিনেমা হল পেয়েছে ৪৮টি।  অন্যদিকে কলকাতার চলচ্চিত্র ‘হরিপদ ব্যান্ডওয়ালা’ ছবিটি মুক্তি পেয়েছে ৭৮ হলে।  এই ঘটনাকে বাংলাদেশের সিনেমা ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখছেন চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্টরা।  কলকাতার ছবি প্রবেশে নতুন সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি।

‘সত্তা’ ছবির পরিচালক হাসিবুর রেজা কল্লোল ক্ষোভ প্রকাশ করে ভিন্ন-খবর বলেন, “আমাদের দেশের চলচ্চিত্রকে ধংস করার জন্য কলকাতার কিছু এজেন্ট এমন কাজ করছেন।  যেখানে সারা দেশের মানুষ ‘সত্তা’ ছবিটি দেখার জন্য অপেক্ষা করছেন, এমন সময় কলকাতার একটি ছবি মুক্তি দিয়ে আমাদের ছবির জন্য হল পাচ্ছি না।  শাকিব খান বাংলাদেশের সুপারস্টার, তাঁকে খাটো করতে পারলে আর কোনো তারকা নেই যিনি সামনে গিয়ে দাঁড়াতে পারবেন।  এটা আমার চলচ্চিত্র নয়, দেশের চলচ্চিত্রকে ধ্বংস করার জন্য এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে।  আমি বাংলাদেশের একজন পরিচালক হিসেবে এর প্রতিবাদ করি।  আর দর্শকদের বলতে চাই, আপনারা যদি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র দেখতে চান তাহলে কলকাতার চলচ্চিত্রকে কয়কট করুন, হলে আসুন আমাদের চলচ্চিত্র দেখুন।  তাহলেই আমাদের দেশে আরেকটি নতুন ভালো মানের চলচ্চিত্র নির্মাণ হবে।”

পরিচালক মনতাজুর রহমান আকবর বলেন, ‘দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই একটি চক্র কাজ করছে।  দেশে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর পাকিস্তানি ছবি নিয়ে অনেক রাজনীতি হয়েছে। দুই দেশে একসঙ্গে ব্যবসার নামে কলকাতার সঙ্গে শাবানা-ঋতুপর্ণা মিলে ছবি শুরু করেছিল। সেখান থেকে শুরু করে নগ্নতা, তারপর শুরু হয় নগ্ন ছবির অবাধ ব্যবসা।  কারা হলে এসব ছবি চালিয়েছে, কারা ডিস্ট্রিবিউট করেছে, যারা ৪০ বছর ধরে এক টিকেটে দুই ছবি দেখিয়েছে।  যারা দেশের কৃষ্টিকালচার শেষ করে দিতে চায়।  এখন ঢাকাই চলচ্চিত্রকে বাদ দিয়ে কলকাতার ছবিকে স্থান করে দেওয়া শুরু করেছে।’

দর্শদের প্রতি প্রত্যাশা রেখে মনতাজুর রহমান আকবর বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি দর্শক এসব ছবি দেখবে না।  বাঙালি জাতিকে কেউ বোকা ভাবলে সে ভুল করবে। আমরা সব সময় প্রতিবাদী। নিজের দেশের জন্য রক্ত দিতে আমরা পিছপা হই না।  এটা বারবার প্রমাণিত। আমি বিশ্বাস করি দর্শক কলকাতার ছবি দেখবেন না।  আমাদের কৃষ্টিকালচার শেষ হতে দেবেন না।’

বাংলাদেশ পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার বলেন, “আমি বিষয়টির তীব্র নিন্দা জানাই। আমাদের দেশের চলচ্চিত্র না নিয়ে যারা কলকাতার ছবি চালাচ্ছেন, তারা বুঝে বা না বুঝে হোক আমাদের চলচ্চিত্রের বিপক্ষে দাঁড়াচ্ছেন।  হলমালিকরা এর আগে বলেছেন ভালো ছবি নেই তাই কলকাতার ছবি চালাচ্ছি। কিন্তু ‘সত্তা’ তো ভালো ছবি, যা আমি সেন্সর বোর্ডে দেখেছি। তাহলে এমন ছবিতে কেন আপনাদের আগ্রহ নেই? আমরা পরিচালক সমিতি এই বিষয়টি নিয়ে বসব, চলচ্চিত্র নীতিমালা আমাদের হাতে এসেছে। প্রয়োজন হলে তা সংশোধন করে নতুন নীতিমালা তৈরি করব।  কলকাতার ছবি দিয়ে এভাবে আমাদের চলচ্চিত্রকে ধ্বংস করতে দেব না।”

Post A Comment: