ঝিনাইদহ সদরের পোড়াহাটি গ্রামের সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানাটি থেকে ১৭ কনটেইনার বিস্ফোরণদ্রব্য উদ্ধারের কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বেলা পৌনে ১২টার দিকে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহমেদ এই তথ্য জানিয়েছেন।
 ঝিনাইদহের ‘জঙ্গি আস্তানায়’ ১৭ কনটেইনার বিস্ফোরক



ঝিনাইদহ সদরের পোড়াহাটি গ্রামের সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানাটি থেকে ১৭ কনটেইনার বিস্ফোরণদ্রব্য উদ্ধারের কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বেলা পৌনে ১২টার দিকে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহমেদ এই তথ্য জানিয়েছেন।


তিনি বলেন, ‘বাড়ির মধ্যে থেকে কাউন্টার টেরোরিজমের সদস্যরা ১৭ কনটেইনার হাইড্রোজেন পার অক্সাইড উদ্ধার করেছে। এছাড়াও সেখান থেকে একটি একটি পিস্তল, সাত রাউন্ড গুলি, ১৫/১৬টি জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযান এখনো শেষ হয়নি বলে জানান দিদার আহমেদ।

অভিযান শুরুর পর পাঁচটি বোমা নিষ্ক্রিয় করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

জঙ্গি আস্তানার খবর পেয়ে গতকাল বিকালে পোড়াহাটি গ্রামের আব্দুল্লাহর বাড়িতে ঘিরে ফেলে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা। গতকালই বাড়িটি থেকে বিপুল বিস্ফোরক, গ্রেনেড ও সুইসাইড ভেস্ট উদ্ধার করা হলেও কোনো জঙ্গিকে আটক করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে রাতের জন্য অভিযান স্থগিত করা হয়।

শনিবার সকাল সোয়া নয়টার পর বাড়িটিতে ‘সাউথ প’ বা দক্ষিণের থাকা অভিযান শুরু করে পুলিশ, র‌্যাব, পিবিআই ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা। অভিযানের আগে বাড়ির আশপাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বাড়ানো হয়। আশপাশের লোকজনকে সরিয়ে যেতে সকাল থেকে মাইকিং করা হয়। মোতায়েন করা হয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বেশ কয়েকটি গাড়ি।

অভিযানের শুরুর সময় টিনশেড বাড়িটির চারপাশ ভেঙ্গে ফেলে ভেতরে ঢোকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বাড়ির মধ্যে কোনো জঙ্গি না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা ভেতরে ঢোকে।

পরে বেলা পৌনে ১২টার দিকে ডিআইজি দিদার আহমেদ জানান, বাড়িটি থেকে এ পর্যন্ত ১৭ কনটেইনার বিস্ফোরকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযান শেষ হতে আরও কিছু সময় লাগবে।

স্থানীয়রা জানান, পোড়াহাটির ওই বাড়িটির মালিকের নাম আব্দুল্লাহ। তিন থেকে চার বছর আগে তিনি হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান হন। এর আগে তার নাম ছিল প্রবাদ কুমার। হিন্দু ধর্মে থাকার সময় তার স্ত্রী ও একটি ছেলে সন্তান ছিল। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর তিনি সদর উপজেলার পোড়াহাটি ধানহাড়িয়া চুয়াডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল লতিফের মেয়েকে বিয়ে করেন।

তারা আরও  জানায়, আব্দুল্লাহ নিজের পৈত্রিক বাড়ি ছেড়ে দুই রুম বিশিষ্ট টিনসেটের বাড়িতে স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন।

প্রতিবেশীরা জানান, আব্দুল্লাহ কখনো নছিমন চালাতেন, কখনো ছোট খাটো ব্যবসা করতেন। তবে গত তিন থেকে চার মাস ধরে স্থানীয়রা তাকে কোনে কাজ করতে দেখেননি।

Post A Comment: