নাসার মহাকাশচারী হতে হলে আপনার তেমন আকাশছোঁয়া যোগ্যতা লাগবে না। বিজ্ঞানে স্নাতক, শারীরিকভাবে সুস্থ এবং ৫৮.৫ ইঞ্চি থেকে ৭৬ ইঞ্চি লম্বা হতে হবে। তবে মানসিক কিছু যোগ্যতাও লাগে বটে। চাপের মাঝে মাথা ঠান্ডা রাখার ক্ষমতা, সমস্যা সমাধানের মনোভাব এবং দলগতভাবে কাজ করা জানতে হবে। নাসায় কাজ করতে হলে আপনাকে শুচিবায়ুগ্রস্ত হলে চলবে না। মহাশূন্যে টয়লেট নিয়ে এমন কিছু বিপদে পড়তে পারেন যা মোকাবেলা করতে হবে নাক সিটকানো ছাড়াই। মহাশূন্যে মাইক্রোগ্রাভিটিতে অনেক গা ঘিনঘিনে পরিস্থিতি তৈরি হয়। কার্পেটে পড়ে থাকা বাচ্চার বমি পরিষ্কার করতে অনেকের অনীহা থাকে। এবার ভাবুন তেমন বমি ভেসে বেড়াচ্ছে আপনার আশেপাশে। সেটা পরিষ্কার করতে সক্ষম হতে হয় মহাকাশচারীদের।


  নাসার মহাকাশচারী হতে হলে আপনার তেমন আকাশছোঁয়া যোগ্যতা লাগবে না। বিজ্ঞানে স্নাতক, শারীরিকভাবে সুস্থ এবং ৫৮.৫ ইঞ্চি থেকে ৭৬ ইঞ্চি লম্বা হতে হবে। তবে মানসিক কিছু যোগ্যতাও লাগে বটে। চাপের মাঝে মাথা ঠান্ডা রাখার ক্ষমতা, সমস্যা সমাধানের মনোভাব এবং দলগতভাবে কাজ করা জানতে হবে। নাসায় কাজ করতে হলে আপনাকে শুচিবায়ুগ্রস্ত হলে চলবে না। মহাশূন্যে টয়লেট নিয়ে এমন কিছু বিপদে পড়তে পারেন যা মোকাবেলা করতে হবে নাক সিটকানো ছাড়াই।

মহাশূন্যে মাইক্রোগ্রাভিটিতে অনেক গা ঘিনঘিনে পরিস্থিতি তৈরি হয়। কার্পেটে পড়ে থাকা বাচ্চার বমি পরিষ্কার করতে অনেকের অনীহা থাকে। এবার ভাবুন তেমন বমি ভেসে বেড়াচ্ছে আপনার আশেপাশে। সেটা পরিষ্কার করতে সক্ষম হতে হয় মহাকাশচারীদের।

এছাড়াও আরেক ধরণের ময়লা সব সময়েই মহাকাশযানে থাকে, আর তা হলো খসে পড়া ত্বক। মহাকাশে হাঁটাচলা করতে হয় না বলে পায়ের তলার শক্ত ত্বক খসে পড়ে, পায়ের তলা হয়ে যায় বাচ্চাদের ত্বকের মত নরম। এসব মৃত ত্বক কোষ যে কোনো সময়ে অসাবধানে মুখের ভেতরেও ঢুকে পড়তে পারে! পায়ের তলায় ত্বক নরম হলেও উল্টোটা ঘটতে পারে পায়ের পাতার ওপরের দিকের ত্বকে, কারণ মহাকাশচারীরা ফুট রেইল ব্যবহার করে চলাচলের সময়ে পায়ের ওপরের অংশ ব্যবহার করেন, এতে সেখানের ত্বক হয়ে পড়ে রুক্ষ।

এ ব্যাপারে মহাকাশ মিশন STS-1 এর কিছু হাস্যকর ঘটনার কথা না বললেই নয়। ১৯৮১ সালের এপ্রিলে নভোচারী জন ইয়ং এবং রবার্ট ক্রিপেন স্পেস শাটল কলাম্বিয়ার প্রথম মিশন শেষ করেন, তবে কিছু ঝামেলা হয় এতে। শুরুর দিকেই টয়লেটটা নষ্ট হয়ে আটকে যায়। ফলে তাদের দুজনকে ফিকাল কন্টেইনমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। এই সিস্টেম আদতে একটা লম্বাটে প্লাস্টিকের ব্যাগ যা নভোচারীদের পশ্চাদ্দেশের সাথে স্টিকি সিল দিয়ে আটকানো থাকে মল গ্রহণ ও নিরাপদে অপসারণের জন্য। আরও ভয়াবহ ব্যাপার হলো, ওই নষ্ট টয়লেটের ভ্যাকুয়াম ড্রাই করা মল আবার ভেন্টিলেশন সিস্টেমের মধ্যে দিয়ে মেইন কেবিনে প্রবেশ করে, তাও পৃথিবীতে ফেরার সময়ে। সে যাত্রায় এসব সহ্য করেই মিশন শেষ করেন ইয়ং এবং ক্রিপেন।

অ্যাপোলো মিশনের সময়ে হরহামেশাই ব্যবহার করা হতো এমন ফিকাল কন্টেইনমেন্ট সিস্টেম। এরা মোটেই শতভাগ কার্যকরী ছিল না। অ্যাপোলো ১০ এর সময়ে তাদের মিশন লগে দেখা যায় হাস্যকর একটি ঘটনার বিবরণ। এই মিশনে ছিলেন টম স্ট্যাফোর্ড, জিন কার্নান এবং জন ইয়ং। যখন তারা চাঁদকে প্রদক্ষিণ করছিলেন, তখন কিছু মল কন্টেইনমেন্ট থেকে বের হয় যায়। তখন লগে রেকর্ড করা একটি কথোপকথন:

“জলদি আমাকে একটা ন্যাপকিন দাও,” বলেন স্ট্যাফোর্ড। “বাতাসে একটা মল ভেসে বেড়াচ্ছে।”
“এ কাজ আমি করিনি,” বলেন ইয়ং। “ওটা আমার নয়।”
“ওটা আমারও নয়।” বলেন কার্নান।
“আমারটা আরো একটু চটচটে ছিল,” বলেন স্ট্যাফোর্ড। “ফেলে দাও ওটাকে।”
এই কমেডি শেষ করে তারা নিজ নিজ কাজ করতে থাকেন। একটু পর আবার ঝামেলা শুরু হলো।
“এই যে আরেকটা মল,” বলেন কার্নান। “তোমাদের সমস্যাটা কী?”

এসব উদ্ভট সমস্যা এড়াতে বর্তমানে ডিজাইন করা হয়েছে ভ্যাকুয়াম টয়লেট এবং ফিলট্রেশন সিস্টেম। এমনকি অ্যাস্ট্রোবায়োলজিস্ট কস্তূরী ভেংকটেস্বরণের মতে ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন আপনার বাসার বাথরুমের চাইতে অনেক অনেক গুণ বেশি পরিষ্কার।

সুত্র: আই এফ এল সায়েন্স

Post A Comment: