হুট করেই যেন অন্যরকম একটা জায়গায় হারিয়ে যাওয়া। এই ছিলেন আপনি বাস্তবে, মুহূর্ত পরেই আপনি চলে গেলেন প্রাচীন কোন আবহমণ্ডলে কিংবা খানিক পরেই হয়ত আপনি ছোট্ট ট্রেনে চড়ে ঘুরছেন কোন হ্রদের চারপাশে। উত্তরাঞ্চলের বিভাগীয় শহর রংপুরে বেসরকারিভাবে প্রায় ১শ’ একর জমির উপর গড়ে ওঠা ভিন্নজগত বিনোদন কেন্দ্রটি রংপুর এবং এর আশে পাশের শহরগুলোর জন্য একটা অত্যন্ত আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। মুলস্থান: রংপুর শহর থেকে ১১ কিলোমিটার দূরে, পাগলা-পীরে বিশাল এলাকা নিয়ে এই থিম পার্কটি অবস্থিত।

ভিন্নজগতে তৈরি তাজমহলের এই রেপ্লিকাটি সূর্যাস্তের সময় আকর্ষণীয় রূপ ধারণ করে। ছবি: ভিন্নজগত।

  হুট করেই যেন অন্যরকম একটা জায়গায় হারিয়ে যাওয়া। এই ছিলেন আপনি বাস্তবে, মুহূর্ত পরেই আপনি চলে গেলেন প্রাচীন কোন আবহমণ্ডলে কিংবা খানিক পরেই হয়ত আপনি ছোট্ট ট্রেনে চড়ে ঘুরছেন কোন হ্রদের চারপাশে। উত্তরাঞ্চলের বিভাগীয় শহর রংপুরে বেসরকারিভাবে প্রায় ১শ’ একর জমির উপর গড়ে ওঠা ভিন্নজগত বিনোদন কেন্দ্রটি রংপুর এবং এর আশে পাশের শহরগুলোর জন্য একটা অত্যন্ত আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।
 
মুলস্থান: রংপুর শহর থেকে ১১ কিলোমিটার দূরে, পাগলা-পীরে বিশাল এলাকা নিয়ে এই থিম পার্কটি অবস্থিত।
 
কীভাবে যাবেন: ঢাকার মহাখালী, কল্যাণপুর, মোহাম্মদপুর এবং গাবতলি থেকে রংপুরগামী বেশ কয়েকটি বিলাস বহুল এসি ও নন এসি বাস রয়েছে। এসব বাসের ভাড়া ৫শ’ টাকা থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে। এছাড়া কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে রংপুর এক্সপ্রেস সোমবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৯টায় রংপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। রংপুরে ট্রেন ভাড়া ২শ’ থেকে ৭শ’ টাকা। ঢাকা থেকে রংপুর আসতে সময় লাগবে সাড়ে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা। ট্রেনে লাগবে ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা। রংপুর থেকে সরাসরি ভিন্নজগতে যাওয়ার জন্য গাড়ির ব্যবস্থা রয়েছে। এক্ষেত্রে প্রাইভেট-কারের ভাড়া ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা এবং মাইক্রো-বাসের ভাড়া ৮শ’ থেকে ১ হাজার টাকা।
 
এছাড়া সৈয়দপুর দিনাজপুরের গাড়িতে চড়েও ভিন্নজগতে যাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে নামতে হবে রংপুরের পাগলাপীর বাসস্ট্যান্ডে। এছাড়া রংপুর থেকে জলঢাকাগামী গাড়িতে ভিন্নজগতে যেতে পারবেন। সেখান থেকে ১শ’ থেকে দেড়শ’ টাকায় ব্যাটারি চালিত ইজিবাইকে করে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে যাওয়া যায় ভিন্নজগতে।


বাচ্চাদের জন্য রয়েছে মনোমুগ্ধকর সব মূর্তি। ছবি: ভিন্ন জগত।
কী দেখবেন: জায়গাটিতে গেলে সবার আগে যেটা নজরে আসবে তা হল, সারাক্ষণ নানা জাতের পাখির কোলাহলে মুখরিত থাকে এটি। গাছে গাছে দেখা যায় নানান প্রজাতির পাখি, সারাদিন খাবারের সন্ধানে এদিক সেদিক ঘুরে সন্ধ্যা হলেই তারা তাদের নীড়ে ফিরে আসে। ভিন্নজগতে প্রাকৃতিক পরিবেশে ভিন্নতা পাচ্ছে দেশি-বিদেশি হাজারও বৃক্ষের সমাহারে। অসংখ্য গাছের ছায়ায় এখানে সেখানে সারাটা দিন ঘুরে বেড়াতে পারেন। ভিন্নজগতের প্রধান ফটক পার হলেই তিন দিকের বিশাল লেক ঘেরা নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখা শেষ হলেই সামনে পড়বে লোহার ১টি ব্রিজ। ব্রিজটি পার হলেই ভিন্নজগতের ভেতর যেন আরেকটি ভিন্নজগত।

এরকম একটি জাদুঘর খুব বেশি নেই বাংলাদেশে। ছবি: ভিন্নজগত।

বাংলাদেশের প্রথম প্লানেটোরিয়ামটি এখানেই স্থাপন করা হয়েছিল, সেটা এখনও চালু আছে। এছাড়া গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় নির্মিত দোকানপাট, তিনশ আসনবিশিষ্ট আধুনিক কনফারেন্স কেন্দ্র, কমিউনিটি সেন্টার, সুইমিংপুল ও মসজিদ। এছাড়া বাচ্চাদের জন্য রয়েছে রোবট স্ক্রিল জোন, স্পেস জার্নি, জল তরঙ্গ, সী-প্যারাডাইস, আজব গুহা, নৌকা ভ্রমণ, শাপলা চত্বর, বীরশ্রেষ্ঠ এবং ভাষা সৈনিকদের ভাস্কর্য, ওয়াক ওয়ে, থ্রিডি মুভি, ফ্লাই হেলিকপ্টার, মেরি গো রাউন্ড, লেক ড্রাইভ, সুইমিং পুল স্পিনিং হেড এর মত বিভিন্ন বিনোদন ব্যবস্থা। যারা শখের মৎস্য শিকারি, তাদের জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট ফী এর বিনিময়ে মাছ ধরার ব্যবস্থা।

লেকের ধারে এরকম একটি কাঠের সেতুতে সন্ধ্যা মিলিয়ে যাবার ব্যাপারটিই ভিন্নরকম! ছবি: ভিন্নজগত।

বিশাল দল নিয়ে পিকনিকে মেতে ওঠার মত পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে এখানে, রয়েছে গাড়ি পার্কিং এর সু-ব্যবস্থা। থাকার জন্য কটেজ রয়েছে ৭টি। রয়েছে থ্রি স্টার মডেলের ড্রিম প্যালেস। এখানকার জলাশয়ে রয়েছে নৌভ্রমণের সুবিধা। শিশুদের জন্য রয়েছে ক্যাঙ্গারু, হাতি, ঘোড়াসহ নানা জীবজন্তুর মূর্তি।

ভিন্নজগতের জলাশয়ের চারিধার জুড়ে রয়েছে পরিকল্পিতভাবে রোপিত নানা জাতের শোভা-বর্ধনকারী গাছ। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন, বাস, মাইক্রো-বাস, মোটরসাইকেল, রিকশা, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে প্রচুর মানুষ বেড়াতে আসেন এখানে।
 
থাকা: ভিন্নজগতের নিজস্ব থাকার ব্যবস্থা আছে যা অনেক উন্নত হোটেল এর সমমানের। এছাড়াও রংপুর শহরে বেশ কিছু থ্রি-স্টার হোটেল আছে যেখানে আপনি থাকতে পারেন। ভাড়া তিনশ টাকা থেকে থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

ছায়াঢাকা এই পথে হেটে যাবার অভিজ্ঞতাটিও হতে পারে ভিন্ন। ছবি: ভিন্নজগত।

 
বিশাল এই থিম-পার্কটির সম্প্রসারণের কাজ কিন্তু এখনও শেষ হয়নি। নিয়োজিত স্থপতিদের কথায় জানা যায় যে প্রতি বছর ধীরে ধীরে এটার আকার ও আয়তন বাড়ানো হচ্ছে, নতুন নতুন রাইড যোগ করা হচ্ছে। পুরো পরিকল্পনা মত এটার কাজ শেষ হতে হয়ত আরও বিশ বছর লেগে যেতে পারে। সামনে আরও নতুন কি আসছে সেটা হতে পারে একটা কৌতূহলের বিষয়।
 
বিস্তারিত আরও জানা যাবে ভিন্নজগত ওয়েবসাইট থেকে।
 
সম্পাদনা: প্রিয় ট্রাভেল/ ড. জিনিয়া রহমান।

Post A Comment: