অভিযোগ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফরে প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা চুক্তি থেকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে নিতেই বর্তমান সরকার জঙ্গিবাদের কৌশল অবলম্বন করেছেন। জনগণের কাছে আজ পরিষ্কার, জঙ্গিবাদকে ব্যবহার করে সরকার ফায়দা নিচ্ছে।’ ২১ মার্চ মঙ্গলবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ এক সম্মেলনে এ সব কথা বলেন তিনি।


 অভিযোগ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফরে প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা চুক্তি থেকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে নিতেই বর্তমান সরকার জঙ্গিবাদের কৌশল অবলম্বন করেছেন। জনগণের কাছে আজ পরিষ্কার, জঙ্গিবাদকে ব্যবহার করে সরকার ফায়দা নিচ্ছে।’

২১ মার্চ মঙ্গলবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ এক সম্মেলনে এ সব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, জঙ্গি দমনে সরকারের রহস্য জনক আচরণের কারণেই জঙ্গিবাদ এদেশ থেকে নির্মূল হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের প্রাক্কালে প্রস্তাবিত প্রতিবাদে সারাদেশ যখন ফুসে উঠছে ঠিক তখনই আবারো দেশব্যাপী রক্তাক্ত জঙ্গি তৎপরতা প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে মানুষের দৃষ্টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার কৌশল হিসেবে দেখছে জনগণ।

রিজভী ইংরেজি দৈনিক ইনডিপেনডেন্ট পত্রিকায় প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের উল্লেখ করে বলেন, পত্রিকাটির মালিক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। সুতরাং এটি স্পষ্ট যে সরকারের ইশারাতেই ওই প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে প্রতিবেদনটি ছাপা হয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘এটি কি সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের পালস বোঝার চেষ্টা?’

‘জঙ্গিবাদ জাতীয় নির্বাচনের অন্তরায়’- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন একটি বক্তব্যের উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার বক্তব্যে এটা পরিষ্কার যে জঙ্গি হামলার সুবিধাভোগী কারা। কারা জঙ্গিবাদ জিইয়ে রেখে রাষ্ট্রক্ষমতা আঁকড়ে রেখেছে। এখন জনগণের কাছে পরিষ্কার, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি বানচাল করার জন্যই জঙ্গি তৎপরতা সৃষ্টি করা হয়েছে।

এলজিআরডিমন্ত্রীকে উদ্দেশে রিজভী বলেন, গণমাধ্যমে এত খবর বের হচ্ছে, আপনাদের দলের বিভিন্ন নেতারা প্রতিরক্ষা চুক্তি বিষয়ে নানা কথা বলছেন অথচ সে বিষয়টি আপনার মতো কেবিনেট মন্ত্রীরা জানেন না, নাকি বেমালুম চেপে যাচ্ছেন। এখানেই তো আসল রহস্য লুকিয়ে আছে। আমরা সরকারের উদ্দেশ্যে পরিষ্কার বলতে চাই-আজকে দেশের স্বাধীনতা-সর্বভৌমত্ব নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, প্রস্তাবিত চুক্তির বিষয়ে এমনও শোনা যাচ্ছে যে, দুই দেশ সম্মিলিতভাবে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিধ্বংসী কোনো গুরুতর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে একসঙ্গে মোকাবিলা করবে। এর অর্থ হচ্ছে বিভিন্ন অজুহাতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতকে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ দেওয়া। এর ফলে যা হবে সেটি হচ্ছে ভারতের আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সোচ্চার জন গোষ্ঠীকে যাতে দমন করা সহজ হয়।

তিনি আরও বলেন, এই প্রতিরক্ষা চুক্তি আমাদের স্বাধীনতা-সর্বভৌমত্ব সুরক্ষার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত, যা অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। লাখ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে সেই স্বাধীনতা-সর্বভৌমত্ব নিয়ে কখনোই ছিনিমিনি খেলতে দেবে না জনগণ। বর্তমান সরকারকে দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি না করার আহ্বানও জানান রুহুল কবির রিজভী। 

Post A Comment: