সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ির জঙ্গি আস্তানা ‘আতিয়া মহলে’র অনতিদূরে একাধিক শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণে ৬ জন নিহতের ঘটনায় নগরজুড়ে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। উৎকণ্ঠায় রয়েছে ঘটনাস্থল ও এর আশপাশের সাধারণ মানুষ। শিববাড়ি, জৈনপুর, মেনিকলা, বন্দরঘাট, কৈত্য, নূরপুর ও পাঠানপাড়ার লোকজন আতংকে বাড়িঘর ফেলে চলে যাচ্ছে। সোমবার ২৭ মার্চ দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত ‘আতংকে বাসা ছেড়েছে শতাধিক পরিবার’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।


 সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ির জঙ্গি আস্তানা ‘আতিয়া মহলে’র অনতিদূরে একাধিক শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণে ৬ জন নিহতের ঘটনায় নগরজুড়ে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। উৎকণ্ঠায় রয়েছে ঘটনাস্থল ও এর আশপাশের সাধারণ মানুষ। শিববাড়ি, জৈনপুর, মেনিকলা, বন্দরঘাট, কৈত্য, নূরপুর ও পাঠানপাড়ার লোকজন আতংকে বাড়িঘর ফেলে চলে যাচ্ছে।

সোমবার ২৭ মার্চ দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত ‘আতংকে বাসা ছেড়েছে শতাধিক পরিবার’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। 

প্রতিবেদন সূত্রে, গত তিন দিন এলাকায় দফায় দফায় শক্তিশালী গ্রেনেড, বোমা বিস্ফোরিত হওয়ায় পুরো এলাকা কেঁপে উঠে। আতংক দেখা দেয় নারী-পুরুষ-শিশু সবার মধ্যেই। নিরাপত্তার অভাবে অনেকেই বাড়ি-ঘর তালাবদ্ধ করে ছুটছেন নিরাপদ আশ্রয়ে। ২৬ মার্চ রোববার বিকাল পর্যন্ত এসব এলাকা থেকে শতাধিক পবিরার বাসা-বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় এর ঢেউ লেগেছে বহির্বিশ্বেও। বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসীরা এসব এলাকায় থাকা স্বজনদের নিয়ে উদ্বিগ্ন। অভিযান শুরুর পর থেকে প্রবাসীরা ঘন ঘন খবর নিচ্ছেন স্বজনদের। 

আতংকের প্রভাব পড়েছে নগরীর জনজীবনেও। মধ্যরাতের বদলে ভোরে সূর্যোদয়ের সময় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে স্বাধীনতা দিবসের শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন শুরু হয়। লোকজনের উপস্থিতিও ছিল খুব কম। প্রতিটি জাতীয় দিবসে অন্যান্য সময়ে মধ্যরাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থাকত লোকে-লোকারণ্য। আতংকে অনেকেই ছেলেমেয়েদের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যেতে দেননি।

এ ব্যাপারে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট সিলেটের সাধারণ সম্পাদক গৌতম চক্রবর্তী জানান, এবার মধ্যরাতের পরিবর্তে ভোরে স্বাধীনতা দিবসের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সব অনুষ্ঠানে লোকজনের কম উপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সময় পরিবর্তন ও আগের দিনে বোমা বিস্ফোরণে ৬ জন নিহতের ঘটনা এতে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। একই অভিমত ব্যক্ত করেন সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের সাধারণ সম্পাদক রজতকান্তি গুপ্ত।

নিরাপত্তা জোরদারে নগরীতে প্রবেশের মূল প্রবেশপথসহ প্রত্যেকটি জায়গায় বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। মূল প্রবেশপথ ছাড়াও এলাকাভিত্তিক রাস্তাগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া শিশুদের নিরাপত্তার স্বার্থে দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকার স্কুলগুলো সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। কোনো বাড়ি কিংবা কোনো ব্যক্তিকে সন্দেহজনক মনে হলেই তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। 

এসএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুসা সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন। নগরীর অদূরে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবি) এবং সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা।

উল্লেখ্য, ২৫ মার্চ শনিবার সকাল নয়টা থেকে ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ শুরু করে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো বাহিনী। এই অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা লোকজনকে রাস্তায় না বের হওয়ার জন্য মাইকে ঘোষণা দিয়েছেন। আশপাশের এলাকা ও রাস্তায় কোনোও লোকজনকে দেখা যাচ্ছে না। সব দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। পুরো এলাকায় থমথমে বিরাজ করছে।


Post A Comment: