বাংলাদেশের প্রথম সাফারি পার্কটি তৈরি হয় কক্সবাজার-চকোরিয়া উপজেলার ডুলা-হাজরায়। এখানে রয়েছে কয়েক হাজার পশু-পাখী। সাফারি পার্ক ও চিড়িয়াখানার মধ্যে পার্থক্য হল -সাফারি পার্কে পশু-পাখী থাকে মুক্ত পরিবেশে আর দর্শনার্থীরা থাকে নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে। সাফারি পার্কের ধারণায় মূলত চেষ্টা থাকে বন্যপ্রাণীগুলোকে যেন তাদের আপন নিবাসে দেখানো যায়। বাঘ ও সিংহ যাতে একটি নির্দিষ্ট এলাকার জুড়ে ঘুরে বেড়াতে পারে সে জন্য ডুলা-হাজরা সাফারি পার্কে ৩০০ হেক্টর এলাকাকে আলাদা প্রাচীর দ্বারা বেষ্টিত করা হয়েছে। এসব বন্যপ্রাণী যাতে অবাধে ঘুরে বেড়ানো এবং প্রয়োজনে আবার খাঁচায় আবদ্ধ করা যায় তার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিস্তীর্ণ এলাকায় ঘুরে বেড়ানোর সময় বাঘ ও সিংহ কে দেখার জন্য উঁচু পর্যবেক্ষণ টাওয়ার নির্মিত হয়েছে।


বাংলাদেশের প্রথম সাফারি পার্কটি তৈরি হয় কক্সবাজার-চকোরিয়া উপজেলার ডুলা-হাজরায়। এখানে রয়েছে কয়েক হাজার পশু-পাখী। সাফারি পার্ক ও চিড়িয়াখানার মধ্যে পার্থক্য হল -সাফারি পার্কে পশু-পাখী থাকে মুক্ত পরিবেশে আর দর্শনার্থীরা থাকে নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে। সাফারি পার্কের ধারণায় মূলত চেষ্টা থাকে বন্যপ্রাণীগুলোকে যেন তাদের আপন নিবাসে দেখানো যায়। বাঘ ও সিংহ যাতে একটি নির্দিষ্ট এলাকার জুড়ে ঘুরে বেড়াতে পারে সে জন্য ডুলা-হাজরা সাফারি পার্কে ৩০০ হেক্টর এলাকাকে আলাদা প্রাচীর দ্বারা বেষ্টিত করা হয়েছে। এসব বন্যপ্রাণী যাতে অবাধে ঘুরে বেড়ানো এবং প্রয়োজনে আবার খাঁচায় আবদ্ধ করা যায় তার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিস্তীর্ণ এলাকায় ঘুরে বেড়ানোর সময় বাঘ ও সিংহ কে দেখার জন্য উঁচু পর্যবেক্ষণ টাওয়ার নির্মিত হয়েছে।
 

কোথায়: চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক সংলগ্ন মনোরম পরিবেশে এই সাফারি পার্ক অবস্থিত। চট্টগ্রাম শহর থেকে ১০৭ কিলোমিটার দক্ষিণে ও কক্সবাজার শহর থেকে ৩৫ কিলোমিটার উত্তরে এই সাফারি পার্কের অবস্থান। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক থেকে সুজা রোড ধরে কিছুদূর গেলেই এই সাফারি পার্কটি নজরে আসবে।

কিভাবে: ঢাকা থেকে মহাখালী ও সায়দাবাদ বাস-স্ট্যান্ড থেকে আপনি কক্সবাজারগামী বাসে সরাসরি নামতে পারেন ডুলা-হাজরা যাবার সুজা রোডে। আবার কক্সবাজার ভ্রমণ শেষে সেখান থেকেও আসতে পারেন লোকাল বাসে। চট্টগ্রাম থেকেও লোকাল বাসে আসতে পারেন এই সাফারি পার্কে।
 
এলাকার নামকরণ এবং ইতিহাস: চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক থেকে যে রাস্তা ধরে সাফারি পার্কে যাওয়া হয় তার নাম সুজা রোড। ঐতিহাসিক মতে, মোগল আমলে সম্রাট শাহ সুজা আপন ভাই আওরঙ্গজেবের তাড়া খেয়ে মিয়ানমার অঞ্চলে পালিয়ে যাওয়ার পথে বাজার জাতীয় মালামাল পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত ডুলা বা হাতা দিয়ে বাজার আনার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডুলা-হাজারা নামকরণ করা হতে পারে। কারণ বিপুল সংখ্যক সৈন্য সামন্ত থাকার কারণে শাহ সুজা’র অনুগতরা হাজারেরও অধিক ডুলা ব্যবহারের কারণে এই নামকরণ হয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। অন্যদিকে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাহ, রামু উপজেলার ঈদগড় প্রভৃতি নামকরণের সঙ্গেও সম্রাট শাহ সুজার কাহিনী জড়িত।


কি দেখবেন: কক্সবাজার জেলার ডুলা-হাজরা উপজেলার বনাঞ্চলে এক সময় উঁচু জাতের গর্জন, বৈলাম, চাপালিশ, তেলসুর, চাম্পা-ফুল এবং বিবিধ লতা গুল্মরাজি সমৃদ্ধ ছিল। তখন এই বনাঞ্চলে ছিল হাতী, ভালুক, বাঘ, হরিণ, বানরসহ অসংখ্য প্রজাতির পশুপাখি। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ ও অবৈধ শিকারের ফলে বন্যপ্রাণী ও বিভিন্ন উদ্ভিদ প্রজাতিগুলো হারিয়ে যেতে থাকে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য ১৯৮০-৮১ সালে কক্সবাজার বন বিভাগের ফাঁসিয়া-খালী রেঞ্জের অধীন ডুলা-হাজরা ব্লকের সাড়ে ৪২ হেক্টর জমিকে ঘিরে হরিণ প্রজনন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। দেশের চিড়িয়াখানা গুলোতে যে সব বন্য প্রাণী রয়েছে তার সবগুলো প্রাণী ছাড়াও এখানে রয়েছে বিরল প্রজাতির প্যারা হরিণ। যা প্রায় অর্ধ শতাব্দী আগে বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এছাড়াও ভারত থেকে আমদানি করা ২৯ টি মিঠা পানির কুমীর এই পার্কের লেকে ছাড়া হয়েছে।

ডুলা-হাজরা সাফারি পার্কে ২৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণী, ৫০ প্রজাতির পাখি ও ৮ প্রজাতির সরীসৃপ রয়েছে। এসব বন্যপ্রাণী, পাখি ও সরীসৃপের আনুমানিক সংখ্যা দেড় হাজার। এই পার্কে মাত্র ৫ টি হনুমান ছাড়া হলেও বর্তমানে শতাধিক হনুমানের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়। এছাড়া নিরাপদ পরিবেশ পেয়ে প্রচুর বানর বন জঙ্গল থেকে এখানে এসে ভিড় করেছে নিজে থেকেই, ফলে বন্য প্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই কারণে পাখির সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে প্রজনন সহায়তার কারণে সাম্বার হরিণেরও বংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
 

এখানে রয়েছে ন্যাচারাল হিষ্ট্রি মিউজিয়াম। প্রায় ২০০০ প্রাণীর দেহাবশেষ, ষ্টাফিং ও স্পেসিমেন সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে। প্রায় ৩০০ প্রজাতির গাছপালার হারবেরিয়াম সংগ্রহ করে এই মিউজিয়ামে রাখা হয়েছে। এছাড়া পার্কের প্রাকৃতিক বনাঞ্চলে রয়েছে অসংখ্য প্রজাতির গাছপালা। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে গণসচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ডুলা-হাজরা ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম স্থাপন যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
 
এখানে জীব বৈচিত্র্য দেখার জন্য পার্কে প্রবেশ করতে হলে বয়স্কদের ১০ টাকা দামের টিকিট নিতে হয়। ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য ৫ টাকা প্রবেশ ফি। শিক্ষা সফরে আগত ছাত্র ছাত্রীদের জন্য ২ টি প্যাকেজ রয়েছে। ৩০ থেকে ১০০ জনের গ্রুপকে দিতে হয় ১০০ টাকা প্রবেশ ফি। আর ১০০ জনের বেশী শিক্ষার্থীদের গ্রুপের জন্য প্রবেশ ফি ২০০ টাকা। বিদেশী পর্যটকদের জন্য ৫ ডলার বা সমপরিমাণ বাংলাদেশী মুদ্রা। সাধারণত: ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার পরদিন এখানে সর্বাধিক দর্শনার্থীর ভিড় হয়। কোন কোন বছর এসব দিনে অর্ধ লক্ষাধিক পর্যটক সমাগম ঘটেছিল। পর্যটন মৌসুমের প্রায় প্রতিদিন ১০০০ থেকে ৮০০০ লোক এ পার্ক পরিদর্শনের জন্য এসে থাকেন।

Post A Comment: