২০০০ সালের ১০ নভেম্বর, বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে প্রথমবারের মত সাদা পোশাকে খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেছে ১৬টি বছর। ঝুলিতে জমা পড়েছে ৯৯টি টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা। আগামী ১৫ মার্চ কলম্বোর পি সারা ওভাল স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজেদের শততম টেস্ট ম্যাচ খেলতে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত খেলা ৯৯ টেস্টে যতটা দলগত প্রাপ্তি, তারচেয়ে বেশি রয়েছে ব্যক্তিগত প্রাপ্তি। এই প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়েই সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে শততম টেস্ট খেলার অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশ।

  ২০০০ সালের ১০ নভেম্বর, বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে প্রথমবারের মত সাদা পোশাকে খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেছে ১৬টি বছর। ঝুলিতে জমা পড়েছে ৯৯টি টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা। 

আগামী ১৫ মার্চ কলম্বোর পি সারা ওভাল স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজেদের শততম টেস্ট ম্যাচ খেলতে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত খেলা ৯৯ টেস্টে যতটা দলগত প্রাপ্তি, তারচেয়ে বেশি রয়েছে ব্যক্তিগত প্রাপ্তি। এই প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়েই সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে শততম টেস্ট খেলার অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশ।


টেস্ট ক্রিকেটে ধীরে ধীরে বাংলাদেশের উন্নতি হলেও পরিসংখ্যান মোটেও সুখকর নয়। এখন পর্যন্ত ৯৯টি টেস্ট ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ আটটিতে জয় পেয়েছে, ১৫টিতে ড্র করেছে। বাকি ৭৬টিতে হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে।

টেস্টে বাংলাদেশ যে আটটি ম্যাচ জিতেছে তার মধ্যে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয় এসেছে পাঁচটিতে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দু’টিতে এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় এসেছে একটিতে। এর মধ্যে বাংলাদেশ সিরিজ জিতেছে তিনটি। এর মধ্যে দুইটি জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে। বাকি সিরিজটি জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।


২০০০ সালে ভারতের বিপক্ষে অভিষেক টেস্ট ম্যাচ খেলা বাংলাদেশ সাদা পোশাকে প্রথম জয় পায় ২০০৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। সর্বশেষ জয়টি ছিল গত বছরের অক্টোবরে শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।

টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোর ৬৩৮, ২০১৩ সালে গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। কাকতালীয়ভাবে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন স্কোরও ওই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই। ২০০৭ সালে কলম্বো টেস্টে লঙ্কানদের বিপক্ষে বাংলাদেশ গুটিয়ে গিয়েছিল মাত্র ৬২ রানে।


দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি টেস্ট রান তামিম ইকবালের (৪৮ ম্যাচে ৩৫৪৬ রান)। সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরিও (৮) তার। টেস্টে বাংলাদেশের হয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের মালিক সাকিব আল হাসান (২১৭, ২০১৭ সালে ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে)। সবচেয়ে বেশি গড় মুমিনুল হক সৌরভের (৪৬.৮৮)। এছাড়া বাংলাদেশের হয়ে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করার গৌরব অর্জন করেন মুশফিক।


সবচেয়ে বেশি উইকেট সাকিব আল হাসানের (৪৮ ম্যাচে ১৭০ উইকেট)। দেশের হয়ে ১০০ বা এর বেশি উইকেট আছে আর মাত্র একজনের, মোহাম্মদ রফিক। ৩৩ টেস্টে রফিকের উইকেট ঠিক ১০০টি। ব্যক্তিগত সেরা বোলিং তাইজুল ইসলামের, ৩৯ রানে আট উইকেট। ম্যাচসেরা বোলিং তরুণ স্পিনার মেহেদী মিরাজের ১৫৯ রানে ১২ উইকেট। 

বাংলাদেশি বোলাররা হ্যাটট্রিকের দেখা পেয়েছেন দু’বার। ২০০৩ সালে পেশোয়ারে অলক কাপালি হ্যাটট্রিক করেছিলেন পাকিস্তানের বিপক্ষে এবং ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন সোহাগ গাজী।


অভিষেক টেস্টেই ছয় উইকেট নিয়েছিলেন দুর্জয়। তবে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। অভিষেক টেস্টে ১৪৫ রানের ইনিংস খেলে ইতিহাসের পাতায় স্থায়ীভাবে নিজের নাম লিখে নিয়েছেন বুলবুল। 

নিজের অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করেছেন আবুল হাসান রাজুও। তার রেকর্ডটি আবার ১০ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলেছিলেন ১১৩ রানের ইনিংস। টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে যা অনন্য এক রেকর্ড।


তবে সোহাগ গাজীর রেকর্ডটি বিরল। ১৩৯ বছরের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে সোহাগ একমাত্র ক্রিকেটার যিনি একই টেস্টে সেঞ্চুরি ও হ্যাটট্রিক করেন। তবে সবাইকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসকে অনন্য কাতারে ঠাঁই দেন মোহাম্মদ আশরাফুল। টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে সেঞ্চুরি করেন আশরাফুল।

এছাড়া এখন পর্যন্ত খেলা ৯৯ টেস্টের মধ্যে দেশকে সবচেয়ে বেশি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন মুশফিকু রহিম (২৯টি)। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮ ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেছেন হাবিবুল বাশার। ১৩ ম্যাচ নেতৃত্ব দিয়ে তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছেন মোহাম্মদ আশরাফুল।

Post A Comment: