গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের উচ্ছেদের সময় তাদের বাড়ি-ঘরে আগুন লাগানোর ঘটনায় পুলিশের দুই সদস্যকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
Two policemen identified Santal village fireগাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের উচ্ছেদের সময় তাদের বাড়ি-ঘরে আগুন লাগানোর ঘটনায় পুলিশের দুই সদস্যকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই ঘটনায় হাইকোর্টে দেওয়া এক প্রতিবেদনে চিহ্নিতরা হলেন- গাইবান্ধা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুবুর রহমান ও গাইবান্ধা পুলিশ লাইনসের কনস্টেবল মো. সাজ্জাদ হোসেন। সমকাল

বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

আদালতে পুলিশ প্রশাসনের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

গত ৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জের রংপুর চিনিকলের জমিতে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ হয়। এতে তিন সাঁওতাল নিহত হন, আহত হন অনেকে।

পরে পুলিশ-র‌্যাব ওই দিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এক অভিযান চালিয়ে মিলের জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদ করে। এ ঘটনায় হাইকোর্টে গত নভেম্বরে 
পৃথক রিট করা হয়। এর মধ্যে তিনটি সংগঠনের করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে ১৭ নভেম্বর হাইকোর্ট রুলসহ অন্তবর্তীকালীন আদেশ দেন।

পরে একটি তদন্ত প্রতিবেদনে সাঁওতালদের ‘বাঙ্গালী দুষ্কৃতিকারী’ উল্লখ করায় গাইবান্ধার জেলা প্রশসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারকে হাইকোর্টে তলব করা হয়। এর পর গত ডিসেম্বরে তারা আদালতে হাজির হয়ে ক্ষমা চেয়ে অব্যহতিও পেয়েছেন।

অন্যদিকে ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টের একই বেঞ্চ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর ভিত্তিতে গাইবান্ধার মুখ্য বিচারিক হাকিমকে বিষয়টি তদন্ত করে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। সেই অনুযায়ী গাইবান্ধার মুখ্য বিচারিক হাকিমের তদন্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

পরে ওই ঘটনায় গাইবান্ধা পুলিশ সুপারসহসহ চামগাড়ি এলাকায় দায়িত্বরত সকল পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

Post A Comment: