পরিবহন ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনেও দুপুর পর্যন্ত নগরীর কোথাও কোনো গণপরিবহন চলাচল করেনি। বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচলে বাধা দিয়েছে পরিবহন শ্রমিকেরা। এমনকি রিকশা-ট্যাক্সি থেকেও যাত্রীদের নামিয়ে দিয়েছেন আন্দোলনরত শ্রমিকেরা। অবরোধের কারণে বিমানযাত্রীরা অত্যন্ত দুর্ভোগে পড়েন। অবরোধের নামে চরম নৈরাজ্য চালিয়েছে অবরোধকারীরা। তবে দুপুর ২টার পর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের নির্দেশনার পর ধর্মঘট তুলে নেয়। এরপর যানবাহন চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠে।


পরিবহন ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনেও দুপুর পর্যন্ত নগরীর কোথাও কোনো গণপরিবহন চলাচল করেনি। বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচলে বাধা দিয়েছে পরিবহন শ্রমিকেরা। এমনকি রিকশা-ট্যাক্সি থেকেও যাত্রীদের নামিয়ে দিয়েছেন আন্দোলনরত শ্রমিকেরা। অবরোধের কারণে বিমানযাত্রীরা অত্যন্ত দুর্ভোগে পড়েন। অবরোধের নামে চরম নৈরাজ্য চালিয়েছে অবরোধকারীরা। তবে দুপুর ২টার পর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের নির্দেশনার পর ধর্মঘট তুলে নেয়। এরপর যানবাহন চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠে।


অবরোধ কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন স্থানে নৈরাজ্য চালিয়েছে আন্দোলনকারী শ্রমিকেরা। সকালে অফিসগামী কর্মকর্তা, কর্মচারী, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, ডাক্তার, পুলিশবাহী চলাচলেও বাধা দিয়েছে। গণপরিবহন ছাড়াও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলও করতে দেয়নি। এমনকি এসএসসি পরীক্ষার্থীদেরও গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। এতে অনেকেই নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছুতে চরম দুর্ভোগে পড়ে। নগরজুড়ে আতঙ্ক আর শঙ্কায় চলাচল করেছেন সব ধরনের মানুষ। সরেজমিন দেখা যায়, গণপরিবহন চলাচল না করলেও নগরজুড়ে রিকশার দৌরাত্ম্য ছিল। অবরোধের সুযোগে রিকশা-ট্যাক্সি ভাড়া দ্বিগুণ আদায় করেন চালকেরা। তবে বিভিন্ন পয়েন্টে রিকশা থেকেও যাত্রীদের নামিয়ে দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। সকাল থেকে বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল থেকে বহদ্দারহাট ও আশপাশ এলাকা পরিবহন শ্রমিকদের নৈরাজ্য চলে আসছে। এছাড়াও কদমতলী বাস স্টেশন, শুভপুর বাস স্টেশনসহ বিভিন্ন পরিবহন স্টেশন ও পরিবহন কাউন্টার এলাকায় শ্রমিকদের অবস্থান ছিল।
সকাল সাড়ে আটটার দিকে আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড়ে গার্মেন্টস শ্রমিকবাহী বাস থেকে চালকদের মারধর করে গার্মেন্টস শ্রমিকদের নামিয়ে দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। এর প্রতিবাদে কয়েকশ গার্মেন্টস কর্মী রাস্তায় নেমে অবস্থান নেয়। এরফলে দেড়ঘণ্টা সড়ক অবরোধ ছিল। পরে অতিরিক্ত পুলিশ, শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দেওয়ানহাট, বহদ্দারহাট, বহদ্দারহাট বাস টার্নিমালসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাদুরতলা এলাকায় যানবাহন চলাচলে বাধা দেয়। এমনকি প্রাইভেট গাড়ি ট্যাক্সি রিকশা চলাচলেও প্রতিবন্ধতা সৃষ্টি করে। সকাল ১১টার দিকে বহদ্দারহাট এলাকায় একটি বহুজাতিক কোম্পানির দুগ্ধজাত পরিবহনের গাড়ির চাকা নষ্ট করে রাস্তায় বসিয়ে রাখে। সকাল ১১টার দিকে কালামিয়া বাজার সংলগ্ন তুলাতলী এলাকায় এক মহিলা পুলিশ কর্মকর্তার গাড়ি আটকিয়ে নামিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে আন্দোলনকারীরা। একই এলাকায় গাড়ি চালানোর কারণে এক পিকআপের চালককে জুতাপেটার চেষ্টা চালানো হয়। ১১টার দিকে শাহ আমানত সেতু এলাকায় দেখা যায়, যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় শত শত মানুষ পায়ে হেঁটে সেতু পার হয়। এসময় পশ্চিম পটিয়ার হালিমা বেগম নামে এক মহিলা জানান, শিশুপুত্রকে চিকিৎসাশেষে বাড়িতে ফেরার সময় অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হন। একশ টাকার ট্যাক্সি ভাড়া আড়াইশ টাকা হাঁকিয়েছে চালকেরা। শেষতক বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটেই সেতু পার হয়েছেন। অনেকেই রিকশা ভ্যানে করে সেতু পার হয়।
বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি গাড়ি চলাচলের চেষ্টা করলেও আন্দোলনরত শ্রমিকরা তা থামিয়ে যাত্রীদের নামিয়ে দেয়। তারা চালককে নামিয়ে দিয়ে গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখতে বাধ্য করে। এসময় শ্রমিকদের সঙ্গে যাত্রীদের বাকবিত-া হয়। বিভিন্ন স্থানে চালকদের মারধর ও গাড়ি ভাঙচুরও করা হয়েছে। নগরীতে সিটি সার্ভিস, মিনিবাস, টেম্পোসহ সব ধরনের গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকলেও রিকশা, সিএনজি ট্যাক্সি ও প্রাইভেট গাড়ি চলাচল করছে।
নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) সুজায়েত ইসলাম জানান, পরিবহন ধর্মঘটের কারণে দ্বিতীয়দিনের মতো নগরীতে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সকাল থেকেই গণপরিবহন চলাচল করেনি। এছাড়া দুরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এদিকে ধর্মঘটের কারণে দুইদিন ধরে গণপরিবহন চলাচল না করায় অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েছেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। নগরীর বিভিন্ন জায়গায় বাস ও টেম্পো স্ট্যান্ডগুলোতে যাত্রীদের গাড়ির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিল। অনেককেই দ্বিগুণ ভাড়ায় রিকশা, সিএনজি ট্যাক্সিতে বা পায়ে হেঁটে গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে দেখা গেছে।
দুর্ভোগের শিকার কয়েকজন যাত্রী বলেন, দেশে কি কোন আইন নেই? হাজার হাজার মানুষকে দুর্ভোগে ফেলে অবরোধ করা হচ্ছে। অফিসগামী হাজারো লোকজন মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। রিকশা-ব্যাটারি রিকশাও চলাচল করতে দিচ্ছে না।
বহদ্দারহাট বাস স্টেশন, কদমতলী বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন স্টেশনে দেখা যায়, সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। শত শত যানবাহন স্টেশনে অবস্থান নিয়েছে। বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলার অভ্যন্তরীণ রোডে বাস চলাচলও ধর্মঘটের কারণে বন্ধ রয়েছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক নেতা মৃণাল চৌধুরী পূর্বকোণকে বলেন, দুপুরের দিকে কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত মতে অবরোধ তুলে নিয়ে যানবাহন চালানো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিকেল তিনটার পর থেকে নগরী ও জেলায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়ে উঠে।

Post A Comment: