দুর্নীতির মামলায় সাজার বিরুদ্ধে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের করা আপিল এবং একই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের করা দুটি আপিলের শুনানির জন্য হাইকোর্টের নতুন বেঞ্চ ঠিক করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।
 

দুর্নীতির মামলায় সাজার বিরুদ্ধে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের করা আপিল এবং একই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের করা দুটি আপিলের শুনানির জন্য হাইকোর্টের নতুন বেঞ্চ ঠিক করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।


এ তিনটি আপিলের শুনানি বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে হবে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

রাষ্ট্রপতি থাকাকালে বিভিন্ন উপহার সামগ্রী রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে করা এরশাদের বিরুদ্ধে দুদকের করা এ মামলায় এরশাদের আপিলের রায় গত ২৩ মার্চ ঘোষণার কথা ছিল। তবে এ মামলার বিষয়ে আরও দুটি আবেদন উচ্চ আদালতে শুনানির অপেক্ষায় থাকায় সেগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রায় না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ওইদিন বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুসের একক বেঞ্চ মামলার সব নথি প্রধান বিচারপতির দফতরে পাঠিয়ে দেন।

দুদকের আইনজীবী জানান, মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানোর পর তিনটি আবেদন শুনানির জন্য সোমবার নতুন বেঞ্চ ঠিক করে দেওয়া হয়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের বিরুদ্ধে ১৯৯১ সালের ৮ জানুয়ারি তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরোর উপ-পরিচালক রাজধানীর সেনানিবাস থানায় দুর্নীতির একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ১৯৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর  থেকে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি থাকাকালে বিভিন্ন উপহার সামগ্রী রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা না দিয়ে এক কোটি ৯০ লাখ ৮১ হাজার ৫৬৫ টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়।

ওই মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ১৯৯২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি এরশাদকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে একই বছর এরশাদ হাইকোর্টে আপিল করলে দণ্ড স্থগিত হয়ে যায়। পরে ২০১২ সালের ২৬ জুন দুর্নীতি দমন কমিশন এ মামলায় পক্ষভুক্ত হয়। দুই যুগ পর গত বছরের ২২ আগস্ট আপিলটি শুনানির জন্য হাইকোর্টের আবেদন করে দুদক। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৯ মার্চ আপিলের শুনানি শেষে ২৩ মার্চ রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট। পরে ২৩ মার্চ রায় ঘোষণা না করে নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়।

প্রসঙ্গত, ১৯৯০ সালে গণআন্দোলনের মুখে এরশাদ সরকারের পতনের পর বিভিন্ন অভিযোগে প্রায় তিন ডজন মামলা হয় তার বিরুদ্ধে। এর মধ্যে তিনটি মামলায় তার সাজার আদেশ হয় এবং একটিতে তিনি সাজা খাটা শেষ করেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে এরশাদ নির্বাচন কমিশনে যে হলফনামা দেন, তাতে তখনও আটটি মামলা বিচারাধীন ছিল বলে উল্লেখ করা হয়। বাকি মামলাগুলো থেকে তিনি খালাস বা অব্যাহতি পেয়েছেন, অথবা মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। এই আট মামলার মধ্যে চারটির কার্যক্রম উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিত রয়েছে। মঞ্জুর হত্যাসহ তিনটি মামলা বর্তমানে চালু রয়েছে।

Post A Comment: