চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো যুক্ত হচ্ছে অটোমেটিক মাল্টিলেভেল ডিজিটাল কার পার্কিং। নগরীর ঐতিহ্যবাহী বিপণিবিতানে (নিউ মার্কেট) অত্যাধুনিক এই কার পার্কিং নির্মাণ করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।
The-first-multi-level-parking-cars-in-Ctg 


চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো যুক্ত হচ্ছে অটোমেটিক মাল্টিলেভেল ডিজিটাল কার পার্কিং। নগরীর ঐতিহ্যবাহী বিপণিবিতানে (নিউ মার্কেট) অত্যাধুনিক এই কার পার্কিং নির্মাণ করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।


সিডিএ’র অর্থায়নে চার কোটি টাকা ব্যয়ে এই ডিজিটাল কার পার্কিং নির্মাণ করা হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আজিজ এ- কোম্পানি লি. বিশ্বমানের এই পার্কিং নির্মাণ কাজ শুরু করেছে। সাত তলাবিশিষ্ট এই পার্কিং স্পেসে ৫টি কার পার্কিংয়ের সমপরিমাণ জায়গায় মাল্টিলেভেল পদ্ধতিতে ২৯টি গাড়ি রাখা যাবে। প্রতিটি স্লেটে চারটি করে কার পার্ক করা হবে। ছয়তলায় ছয়টি স্থান খালি থাকবে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ি উঠানো-নামানোর জন্য একটি করে গাড়ি নড়া-চড়ার স্পেস খালি রাখা হয়েছে।
নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক এ কে এম মইনুল হক দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, কম সময়ের মধ্যে দ্রুত পার্কিং স্পেস নির্মাণ করা যায়। এতে কম স্থানের মধ্যে বেশি গাড়ির সংকুলান করা যায়। এছাড়াও গাড়ির নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত করা যায়। কোনো প্রকার ঝক্কি-ঝামেলা ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে খালি স্থানে গাড়ি পৌঁছে যাবে।

ঢাকার মৎস্য ভবনে দেশে প্রথমবারের মতো এই ডিজিটাল কার পার্কিং স্থাপন করা হয়। চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো বিপণিবিতাণে (নিউ মার্কেট) এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়াও সরকারি-বেসরকারি আরও অনেক প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল পার্কিং নির্মাণের লক্ষ্যে জরিপ করা হচ্ছে বলে জানান নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক। দেখা গেছে, বিপণিবিতানের (নিউ মার্কেট) উত্তর কোণে পুরোনো গাড়ি পার্কিংয়ের স্থানে নির্মিত হচ্ছে এই অত্যাধুনিক কার পার্কিং। ৫-৬ জন শ্রমিক স্টিলের অবকাঠানো নির্মাণ কাজ করছেন। সাত তলা পর্যন্ত অবকাঠামো নির্মাণ কাজ চলছে। কাজের তদারক করছেন দুইজন পরিচালক।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সূত্র জানায়, জাপান ও জার্মানি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এই মাল্টিলেভেল কার পার্কিং নির্মাণ করা হচ্ছে। কারিগরি সহায়তা করছে চায়নিজ কোম্পানি। আগামী ৯ মার্চ চায়নিজ কোম্পানির প্রকৌশলীরা চট্টগ্রাম এসে পৌঁছার কথা রয়েছে। এরপর মূল স্লেট, পিএলসি, ডিজিটাল কন্ট্রোল বোর্ডসহ পূর্ণাঙ্গ নির্মাণ কাজ শুরু হবে। ইতিমধ্যেই যন্ত্রপাতি চলে এসেছে। চলতি মাসের মধ্যেই নির্মাণ কাজ শেষ করা হবে।

কার্ড পাঞ্চিং বা কোড ব্যবহার করেই সাত তলা পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ি ওঠা-নামা করবে উল্লেখ করে এ কে এম মইনুল হক আরও বলেন, নিচে পাঁচটি স্লেট থাকবে। যেকোনো একটি স্লেটে কার পার্কিং করা হবে। এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে উপরের যেকোনো তলার খালি স্পেসে গাড়ি পার্ক হয়ে যাবে। কার্ড পাঞ্চিং বা কোড ব্যবহারের মাধ্যমে এসব কাজ করা হবে। একইভাবে কার্ড পাঞ্চিংয়ের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ি নেমে আসবে।

সিডিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী আহমদ মঈনউদ্দিন পূর্বকোণকে বলেন, ‘৬০ এর দশকে নির্মিত বিপণিবিতানের (নিউমার্কেট) ঐতিহ্য এখনো অক্ষুণœ রয়েছে। দেশের সর্বপ্রথম এস্কেলেটর (স্বয়ংক্রিয় সিঁড়ি) নির্মিত হয়েছিল এই মার্কেটে। সিডিএ ইতিমধ্যেই নিউ মার্কেটে অনেক উন্নয়ন প্রকল্প শেষ করেছে। এরই ধারাবারিকতায় প্রথমবারের মতো ডিজিটাল কার পার্কিং নির্মাণ করা হচ্ছে। সিডিএ’র চেয়ারম্যানের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় চট্টগ্রাম প্রথমবারের মতো বিশ্বমানের মাল্টিলেভেল পার্কিংয়ের সাথে যুক্ত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য প্রথমে কার পার্কিংয়ের জন্য কোনো টাকা নেয়া হবে না। এই প্রকল্প সফল হলে পরবর্তীতে আরও প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হবে।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, প্রতিটি কাজে চট্টগ্রাম সবসময়ে এগিয়ে রয়েছে। দেশ ছোট, মানুষ বেশি। দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, মানুষের চাহিদাও সেভাবে বাড়বে। বাড়ছে গাড়ির সংখ্যাও। কিন্তু জায়গা বাড়ানোর উপায় নেই। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে মাল্টিলেভেল পার্কিং নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। তিনি আরও বলেন, নিউ মার্কেটের জায়গা নির্দিষ্ট। এখানে জায়গা বাড়িয়ে বা সৃষ্টি করে গাড়ি পার্কিংয়ের কোনো সুযোগ নেই। তাই মাল্টিলেভেলের মাধ্যমে চার গুণ বেশি গাড়ি রাখার পার্কিংয়ের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। চট্টগ্রামে নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে। এই দেখাদেখি অনেকেই এগিয়ে আসবে। এরফলে পার্কিং সমস্যা অনেকাংশে সমাধান হবে।

Post A Comment: