স্টাফ রিপোর্টার, দুর্গাপুরঃ রাজশাহীর দুর্গাপুরে দুই কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন দুই ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার আমগাছি এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে দুর্গাপুর থানা পুলিশ।
Teenager-arrested-for-torturing-two-union-members 


স্টাফ রিপোর্টার, দুর্গাপুরঃ রাজশাহীর দুর্গাপুরে দুই কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন দুই ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার আমগাছি এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে দুর্গাপুর থানা পুলিশ।


গ্রেফতারকৃতরা হলেন, উপজেলার ৫ নং ঝালুকা ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ও আন্দুয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মোতালেব এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ও হাড়িয়াপাড়ার বাসিন্দা মির্জা আব্দুল লতিফ। নির্যাতনের শিকার জার্জিস হোসেনের (১৬) বাবা জিয়াউর রহমানের দায়ে করা মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়। তবে গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে রয়েছেন মামলার অন্যতম আসামী ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোজাহার আলী মণ্ডল।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকার্তা (ওসি) রুহুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বুধবার রাতে নির্যাতনের শিকার এক কিশোরের বাবা নয়জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন। এরপর ওই মামলার দুই আসামী ওই দুই ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। বিকেল তাদের আদালতে নেয়ার কথা। তবে চেয়ারম্যানসহ মামলার অন্য আসামীরা পলাতক। তাদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানান ওসি।

ওসি আরো বলেন, ছাগল চুরির অভিযোগে ওই দুই কিশোরকে সালিশের নামে নির্যাতনের অভিযোগ পেয়েছেন তারা। প্রাথমিকভাবে নির্যাতনের শিকার দুই কিশোরের জবানবন্দি পেয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেয়া হয়। সেখান থেকে ছাড়পত্র পেলে আদালতে নিয়ে তাদের জবানবন্দি নেয়া হবে।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার আন্দুয়া এলাকার রেজাউল করিমের একটি ছাগল চুরি করে পাশ্ববর্তী হাড়িয়াপাড়ার জিয়াউর রহমানের ছেলে জার্জিস হোসেন (১৬) ও পলাশবাড়ির সেকু আলীর ছেলে রতন আলী (১৫)।

বুধবার ভোর রাতে রাজশাহী নগরীর মতিহারের হরিয়ান বাজার অতিক্রমকালে নৈশ্য প্রহরীরা ছাগলসহ ওই দুই কিশোরকে আটক করে। খবর পেয়ে ঝালুকা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আব্দুল মোতলেব তাদের নিজ জিম্মায় নিয়ে যান। এরপর বেলা ১১টার দিকে ছাগল মালিক রেজাউলের বাড়ির পাশে সালিশ বসানো হয়। সেখানে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোজাহার আলী মণ্ডল ও সদস্য মির্জা আব্দুল লতিফসহ স্থানীয় গণ্যমান্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের নির্দেশেই গাছে বেঁধে প্রকাশ্যে বেদম পেটানো হয় ওই দুই কিশোরকে। পরে ১৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে তাদের পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয় হয়।

জরিমানার আড়াই হাজার টাকা দেয়া হয় ওই ছাগল মালিককে। বাকি টাকা নিজের কাছেই রেখে দেন ইউপি সদস্য আব্দুল মোতালেব। নির্যাতনের শিকার ওই দুই কিশোর উপজেলার আমগাছী সাহার বানু উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শুরু হয় তোলপাড়।

তবে গ্রেফতারের আগে ওই দুই কিশোরকে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেন ইউপি সদস্য আব্দুল মোতালেব। তিনি দাবি করেন, ছাগল চুরির কথা প্রথমে স্বীকার না করায় তাদের গাছে বেঁধে রাখা হয়েছিলো। পরে স্বীকার করায় তাদের জরিমানা করা হয়।

Post A Comment: