শেরপুরে স্বামীকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার দায়ে আছমা বেগম (৪৩) নামে এক গৃহবধূকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে শেরপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ওই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে স্ত্রীর যাবজ্জীবন
 
শেরপুরে স্বামীকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার দায়ে আছমা বেগম (৪৩) নামে এক গৃহবধূকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে শেরপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ওই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আছমা বেগম উপজেলার রামেরকুড়া গরুহাটি এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার পর থেকেই আছমা কারাগারে রয়েছেন।

আদালতের অতিরিক্ত পিপি এডভোকেট ইমাম হোসেন ঠাণ্ডু জানান, প্রায় ২০ বছর আগে প্রথম স্ত্রী হালিমা খাতুন মারা যাওয়ার পর ঝিনাইগাতীর রামেরকুড়া গরুহাটি এলাকার ঠিকাদার সৈয়দুর রহমান ওরফে ফজু আছমা বেগমকে বিয়ে করেন। ফজুর প্রথম পক্ষে ৪ ছেলের পর আছমা বেগমের ঘরে ১ মেয়ে সন্তানের জন্ম নেয়। এরপর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফজু ও আছমা বেগমের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়।

এর জের ধরে ২০১৪ সালের ২৯ জুলাই রাতে স্ত্রী আছমা বেগম কুড়াল দিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় স্বামী সৈয়দুর রহমান ওরফে ফজুকে (৬০) এলোপাথাড়ি কুপাতে থাকে। ওই সময় ফজুর চিৎকারে আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে এগিয়ে গিয়ে আছমা বেগমকে আটক করে। পরে ফজুকে উদ্ধার করে দ্রুত জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওই ঘটনায় নিহত ফজুর ছেলে হারুন-অর-রশীদ বাদী হয়ে ঝিনাইগাতী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে পুলিশ ওই দিনই আছমা বেগমকে (৪০) আটক করে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখায়। পরদিন গ্রেফতার আছমা বেগম আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। এছাড়া আদালতে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ফজুর গৃহকর্মী সূর্যী বেগমেরও (১৩) জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। তদন্ত শেষে একই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর একমাত্র আসামি আছমা বেগমের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল হয়।

মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় বাদী, আসামির জবানবন্দি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসকসহ ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আছমা বেগমের বিরুদ্ধে ওই রায় ঘোষণা করা হয়।

মামলাটি রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পিপি এডভোকেট ইমাম হোসেন ঠাণ্ডু ও আসামি পক্ষে এডভোকেট আবুজার গাফফারী পরিচালনা করেন।

Post A Comment: