সীতাকু-ে আটককৃত নারী জঙ্গি আকলিমা (৩৫) ছিলেন জেএমবি’র আতœঘাতী স্কোয়াডের সদস্য! তার সাথে সবসময় শরীরে বাঁধার জন্য বেল্টযুক্ত বোমা সংরক্ষিত থাকত। কোনো কারণে ধরা পড়লে অথবা জরুরি প্রয়োজনে যাতে তিনি আত্মঘাতী হতে পারেন সেটাই ছিলো লক্ষ্য।
 Sitakundu-female-suicide-squad-arrested


সীতাকু-ে আটককৃত নারী জঙ্গি আকলিমা (৩৫) ছিলেন জেএমবি’র আতœঘাতী স্কোয়াডের সদস্য! তার সাথে সবসময় শরীরে বাঁধার জন্য বেল্টযুক্ত বোমা সংরক্ষিত থাকত। কোনো কারণে ধরা পড়লে অথবা জরুরি প্রয়োজনে যাতে তিনি আত্মঘাতী হতে পারেন সেটাই ছিলো লক্ষ্য।


 গতকাল বুধবার সীতাকু- পৌরসদরের নামার বাজার ‘সাধন কুঠির’ থেকে বোমাযুক্ত কোমরের বেল্ট পরিহিত অবস্থায় তাকে গ্রেপ্তারের পর এমনটাই ধারণা করছে পুলিশ। যদিও এদিন ধরা পড়ার আগে কোমরে বেল্ট পরার পরও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির কারণে তিনি বোমা বিষ্ফোরণ ঘটাতে পারেননি। তার আগেই ধরা পড়ে বর্তমানে তার স্থান হয়েছে হাজতে। কিন্তু পুলিশ তাকে নিয়ে বেশ কৌতূহলী হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সীতাকু- পৌরসদরের নামার বাজার সাধন কুঠির নামক বাড়ির নিচতলার ভাড়াটিয়া আকলিমা ও তার স্বামী জসীম উদ্দিনের (গ্রেপ্তারকৃতরা এই নাম পরিচয় দিলেও সঠিক কিনা নিশ্চিত হওয়া যায়নি) কার্যক্রম সন্দেহজনক হওয়ায় বাড়ির মালিক কয়েকদিন তাদেরকে পর্যবেক্ষণ করে বেশ কিছু সন্দেহজনক সরঞ্জাম দেখতে পান। একদিন ঐ ভাড়াটিয়ার ঘরে ঢোকার পর কিছু ইলেক্ট্রনিক সরঞ্জাম দ্রুত লুকিয়ে ফেলার চেষ্টা করে জঙ্গিরা যা মালিকের সন্দেহ আরো বাড়িয়ে দেয়। এতে তাদের পরিচয়পত্র যাচাই করতে গেলে দেখা যায় সেটি ভূয়া। এরপর আর কোনো ঝুঁকি নিতে চাননি মালিক। গতকাল বুধবার দুপুরে বাড়ির মালিক সুরেশের স্ত্রী ছবি, তাদের প্রতিবেশি মুক্তা, লিটন ও সাগর তাদের কাছে গিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলেন। এসময় তাদের কাছে ৫ দিন সময় চায় ভাড়াটিয়া জঙ্গিরা। কিন্তু বাড়ির মালিকের স্ত্রী একদিনও সময় দিতে রাজি না হলে পরস্পরের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। এক পর্যায়ে দ্রুত আকলিমা পাশের ঘরে গিয়ে বোরখা পরে আসে। এসময় বোরখার উপরে একটি বেল্ট বাঁধা ছিলো। সেটি ছিলো সুইসাইড বেল্ট। তার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় মালিকের স্ত্রী অতকিছু না ভেবে তাকে জাপটে ধরেন। এসময় নারী জঙ্গি আকলিমা তার হাত কামড়ে দিয়ে পালিয়ে যেতে চেষ্টা করলে সেখানে উপস্থিত অপর প্রতিবেশি মুক্তা তাকে ধরে ফেলেন। একই সময়ে লিটন ও সাগর ঝাপটে ধরেন জঙ্গি জসীমকে। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে সব রহস্য বের হয়ে আসে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় আকলিমার সুইসাইড বেল্ট, গ্রেনেড ও বিভিন্ন বিস্ফোরক দ্রব্য। এদিন বিকাল ৩টায় পুলিশ ঘটনাস্থল নামার বাজার এলাকায় উপস্থিত হলেও ৭টার পর আকলিমা ও তার স্বামী জসীমকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময়ের মধ্যে তাদের ঘরটি তল্লাশি করে প্রচুর বিস্ফোরক দ্রব্য, জেহাদি বই উদ্ধার হয়। পরে আটক জঙ্গিদের সাথে কথাবার্তা বলে ও উদ্ধারকৃত সরঞ্জাম দেখে পুলিশ অনুমান করছে জঙ্গি আকলিমা জেএমবির সুইসাইড স্কোয়াডের সদস্য। তাই কারো কাছে আতœসমর্পণ না করে জীবন দিতে কোমরে বেল্টযুক্ত হাত বোমাও বেঁধে ফেলেন এই নারী জঙ্গি। অবশ্য তাকে ধরে ফেলায় তিনি আর বোমা বিস্ফোরণ ঘটাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ আসার পর সেই বেল্ট, হাত বোমা, গ্রেনেড, পিস্তলসহ অন্যান্য আগ্নেয়াস্ত্রসহ আকলিমা ও তার স্বামী জসীম উদ্দিনকে শিশুপুত্রসহ গ্রেপ্তার করে। এ বিষয়ে সীতাকু- থানার ওসি মো. ইফতেখার হাসান বলেন, আটক নারী জঙ্গি চেয়েছিলো আত্মঘাতী হতে। এজন্যই সে নিজের কোমরে বোমাযুক্ত সুইসাইড বেল্ট পরে ফেলেন। কিন্তু উপস্থিত বাড়ি মালিকের স্ত্রীসহ দুই নারী তাকে ধরে ফেলায় সে বিষ্ফোরণ ঘটাতে পারেনি। এতে একটি বড় অঘটন থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে। নইলে আত্মঘাতী হয়ে তার নিজের প্রাণহানির পাশাপাশি আরো কিছু মানুষের ক্ষতির আশংকা ছিলো।

এদিকে এ ঘটনার পর জেএমবির আত্মঘাতী দল কতটা সক্রিয় রয়েছে তা অনুসন্ধান জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন পুলিশের অন্য এক কর্মকর্তা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ কর্মকর্তা বলেন, আসলে সীতাকু-ে মাত্র এক-দেড় কিলোমিটারের মধ্যে এভাবে দুটি জঙ্গি আস্তানা আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। তারউপর আত্মঘাতী জঙ্গির বিষয়টিও ভীষন স্পর্শকাতর। তাই এসব বিষয় গুরুত্বের সাথে দেখা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

Post A Comment: