সীতাকু-ের আমিরাবাদ ও প্রেমতলায় জঙ্গি আস্তানায় বিস্ফোরণ, ২ জঙ্গি গ্রেপ্তার ও বিভিন্ন বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় পৃথক ৪টি মামলা দায়ের হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে সীতাকু- থানার ওসি মো. ইফতেখার হাসান ও ওসি (তদন্ত) মো. মোজাম্মেল হক বাদি হয়ে মামলাগুলো দায়ের করেন। এতে গ্রেপ্তারকৃত ও নিহত জঙ্গিদের আসামি করা হয়েছে। এদিকে এলাকায় দুটি জঙ্গি আস্তানার হদিস ও সেখানে বন্দুক যুদ্ধ-আতœঘাতী বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে এখনো আতংক বিরাজ করছে। বিশেষত ঘটনাস্থলের আশপাশের বহু মানুষ নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।
 


সীতাকু-ের আমিরাবাদ ও প্রেমতলায় জঙ্গি আস্তানায় বিস্ফোরণ, ২ জঙ্গি গ্রেপ্তার ও বিভিন্ন বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় পৃথক ৪টি মামলা দায়ের হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে সীতাকু- থানার ওসি মো. ইফতেখার হাসান ও ওসি (তদন্ত) মো. মোজাম্মেল হক বাদি হয়ে মামলাগুলো দায়ের করেন। এতে গ্রেপ্তারকৃত ও নিহত জঙ্গিদের আসামি করা হয়েছে। এদিকে এলাকায় দুটি জঙ্গি আস্তানার হদিস ও সেখানে বন্দুক যুদ্ধ-আতœঘাতী বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে এখনো আতংক বিরাজ করছে। বিশেষত ঘটনাস্থলের আশপাশের বহু মানুষ নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।

থানা সূত্রে জানা গেছে, সীতাকু- পৌরসদরের নামার বাজার আমিরাবাদ এলাকার সাধন কুঠির ও প্রেমতলা চৌধুরীপাড়ার ছায়া নীড়ের জঙ্গি আস্তানা থেকে দুই জঙ্গি গ্রেপ্তার ও অস্ত্র-বিষ্ফোরক উদ্ধার এবং আতœঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনায় পৃথক ৪টি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাতে সীতাকু- থানার ওসি মো. ইফতেখার হাসান বাদি হয়ে মামলাগুলো দায়ের করেন। এতে গ্রেপ্তারকৃত ২ জঙ্গি ও নিহত ৪ জঙ্গিকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বাদি সীতাকু- থানার ওসি মো. ইফতেখার হাসান প্রতিবেদককে বলেন, সীতাকু-ের দুটি জঙ্গি আস্তানায় সংঘটিত বিস্ফোরণ, প্রানহানি, অস্ত্র ও বিষ্ফোরক উদ্ধারে মোট ৪টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলা হয়েছে অস্ত্র আইনে, ১টি হত্যা মামলা ও ২টি হয়েছে সন্ত্রাস দমন আইনে। এতে মোট ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। দুটি মামলার বাদি হয়েছেন ওসি মো. ইফতেখার হাসান এবং অপর দুটির বাদি ওসি (তদন্ত) মো. মোজাম্মেল হক। আসামিরা হলো নামার বাজার জঙ্গি আস্তানা থেকে গ্রেপ্তারকৃত মহিলা জঙ্গি আকলিমা ও তার স্বামী জসীম উদ্দিন এবং প্রেমতলা ছায়া নীড়ে নিহত ৪ জঙ্গি। তবে হত্যা মামলায় অজ্ঞাত সংখ্যক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এতে আকলিমা ও তার স্বামী জসিমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাদেরকে কোর্ট হাজতে পাঠিয়ে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।

অন্যদিকে দুটি জঙ্গি আস্তানায় নানান ঘটন অঘটনের কারণে এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল অর্থাৎ সাধন কুঠির ও ছায়া নীড়ে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আজ (শনিবার) ছায়া নীড়ে সিআইডির ক্রাইম সিন টিম আবারো পরিদর্শন করবে। নতুন কোন আলামত পাওয়া যায় কিনা তা দেখার পাশাপাশি সেখানে আর কোন বিষ্ফোরক আছে কিনা তা খতিয়ে দেখবে বিস্ফোরক নিস্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা। এ বিষয়ে সীতাকু- থানার ওসি মো. ইফতেখার হাসান বলেন, আরো কয়েকদিন এই অভিযান চলবে।

এদিকে জনবহুল পৌরসদরের মাত্র দেড় কিলোমিটারের মধ্যে দুটি জঙ্গি আস্তানার সন্ধান ও সেখানে বন্ধুক-যুদ্ধ, আতœঘাতী বিষ্ফোরণ, প্রচুর গ্রেনেড বিষ্ফোরণসহ পরপর ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলি এলাকার দারুন বিরুপ প্রভাব ফেলেছে। এখনো আতংকে ঘুমাতে পারছেন না ঘটনাস্থলের আশপাশের সাধারণ মানুষ। গতকাল শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে প্রেমতলার ছায়া নীড়ের আশপাশে ঘুরে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা এখনো দারুন আতংকিত। ছায়া নীড়ের পার্শ্ববর্তী বাসিন্দা নেপাল ভট্টাচার্য্য (পন্ডিত) ও তার স্ত্রী মালতী ভট্টাচার্য্য বলেন, বুধবার বিকালে ছায়া নীড় ঘিরে ফেলার পর থেকে এখনো আমরা আতংকে রাতে ঘুমাতে পারছি না। বুধ রাতে তো গ্রেনেডের বিকট শব্দে আমরা ঘুমাতেই পারিনি। বোমা বা গুলি ঘরে এসে পড়ে কিনা এই ভয়ে আশপাশের অনেকে মিলে এক ঘরে ঢুকে ছিলাম। পরে আরো নিরাপত্তার জন্য সবাই মিলে আরেকটি পাকা ঘরে অবস্থান নিই। আতংকের কথা জানান, এলাকার আরেক ভাড়াটিয়া মিরসরাইয়ের বাসিন্দা সন্তোষ নাথ। সীতাকু- বাজারের এই পান ব্যবসায়ী জানান, বুধবার বাড়িতে তিনি আটকা পড়ে যান। এরপর বৃহস্পতিবার পুরো দিনও আর বের হওয়া হয়নি। চারিদিকে যুদ্ধের পরিস্থিতি। পরিবারের সবাইকে নিয়ে খুব চিন্তায় ছিলাম। এখন অভিযান শেষ। কিন্তু শুনতে পাচ্ছি সেখানে বিষ্ফোরক থাকতে পারে। তাই এখনো আতংকিত আমরা। এভাবে এই এলাকার অনেকেই এখনো আতংকে আছে বলে জানান।

প্রসঙ্গত গত বুধবার সীতাকু- পৌরসদরের নামারবাজার সাধন কুঠিরের দুই ভাড়াটিয়া জসিম ও তার স্ত্রী আকমিলার জঙ্গি কার্যকলাপের প্রমাণ পেয়ে বাড়ির মালিক সুরেশ দাশ ও ছবি রানী দাশ, প্রতিবেশিদের সহযোগিতায় তাদেরকে ধরে পুলিশে দেয়। পরে ঐ জঙ্গিদের কাছে সুইসাইট বেস্ট (বেল), পিস্তল, শক্তিশালী গ্রেনেড পাওয়া যায়। এরপর সেখানকার সূত্র ধরে পুলিশ দেড় কিলোমিটার দূরবর্তী প্রেমতলা চৌধুরীপাড়া এলাকায় আরো একটি জঙ্গি আস্তানার হদিস পায়। বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে ছায়া নীড় নামক বাড়িটি ঘিরে রেখে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রশিক্ষিত সোয়াত সদস্যরা সেখানে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় অভিযান শুরু করে। প্রায় ৪৫ মিনিটের অভিযানে ২ জঙ্গি নিহত হলে অপর দুই জন আতœঘাতী বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে মারা যায়। এসব ঘটনায় জঙ্গিদের ৬ মাস বয়সী এক শিশু পুত্রও মারা যায়। এ ঘটনায় এলাকায় দারুণ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

Post A Comment: