প্রভাবশালী এক জনপ্রতিনিধির নেতৃত্বে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার খোঁচাবাড়ী গ্রামের একটি সাঁওতাল পরিবারের বসতভিটা ও আবাদি জমি দখলের পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঠাকুরগাঁওয়ে সাঁওতাল পরিবারের ভিটেমাটি দখলচেষ্টার অভিযোগ
 
প্রভাবশালী এক জনপ্রতিনিধির নেতৃত্বে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার খোঁচাবাড়ী গ্রামের একটি সাঁওতাল পরিবারের বসতভিটা ও আবাদি জমি দখলের পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, জগন্নাথপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর মৌজার পূর্ব দৌলতপুর খোঁচাবাড়ী গ্রামে বংশ পরম্পরায় সাঁওতালরা বাস করছেন। একটি সংঘবদ্ধ চক্র তাদের উচ্ছেদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে অত্যাচার করছে। সংঘবদ্ধ  ভূমিদস্যুদের হুমকিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে ওই সাঁওতাল পল্লীতে। দীর্ঘ ১৫ দিন ধরে ভুক্তভোগী সাঁওতাল পরিবারগুলো প্রাণের ভয়ে ঘরের বাইরে বের হতে সাহস পাচ্ছেন না। কাজে যেতে না পেরে অনাহারে দিনযাপন করছে।

এ গ্রামের আন্ধারু কিসকু ও সরকার মুরমু অভিযোগ করেন, যিনি জনগণের রক্ষক, তিনিই এখন অত্যাচারীর কাতারে সামিল হয়েছেন। তারা আরও বলেন, মার্টিনা হাঁসদার পৈতৃক সম্পত্তি জাল দলিল করে দখলে নিতে চায় সন্ত্রাসীরা। ভুক্তভোগীরা কোনো কূল-কিনারা না পেয়ে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

জেলা আদিবাসী পরিষদের নেতা সূর্য মুরমু অভিযোগ করে বলেন, খোচাবাড়ী এলাকায় ২০-২৫টি পরিবার ভূমিদস্যুদের আগ্রাসনে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। বাকি পরিবারগুলোকে উচ্ছেদ করে ভূমিদস্যুরা তাদের জায়গা-জমি দখল করতে চায়।

আন্ধারু কিসকু অভিযোগ করে বলেন, সন্ত্রাসীরা আমাদেরকে বাপ-দাদার ভিটায় থাকতে দেবে না। কীভাবে আমরা থাকি? জাল দলিল করে আমাদের উচ্ছেদ করে ভিটেমাটি দখল করতে উঠেপড়ে লেগেছে সন্ত্রাসীরা।

আন্ধারুর স্ত্রী মার্টিনা হাঁসদা কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমাদের এলাকার রানিং চেয়ারম্যান এখন আওয়ামী লীগের। সেই চেয়ারম্যান আমাদের জমিনের ওপরে আসে হুমকি দেয় আর বলে তোমাদের খবর খারাপ করে দেবো। তোমার পক্ষে যে কথা বলবে তারও খবর খারাপ করে দেবো।

জগন্নাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন মাস্টার বলেন, এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেখানে (সাঁওতাল পল্লীতে) গিয়েছিলাম। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে তা সঠিক নয়।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি মশিউর রহমান জানান, থানায় সাধারণ ডায়েরি হয়েছে, সাঁওতালদের বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। সেখানে পুলিশ টহল দিচ্ছে।

Post A Comment: