দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া স্থাপনা তৈরি না করা এবং বিরল প্রজাতির কচ্ছপ ও শামুক রক্ষা করার আদেশ সঠিকভাবে প্রতিপালন না করায় চার সচিবসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। রুলে তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
বিপন্ন সেন্টমার্টিন: ৪ সচিবসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে রুল 


দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া স্থাপনা তৈরি না করা এবং বিরল প্রজাতির কচ্ছপ ও শামুক রক্ষা করার আদেশ সঠিকভাবে প্রতিপালন না করায় চার সচিবসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। রুলে তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে সেন্টমার্টিন নিয়ে। এসব প্রতিবেদন প্রকাশের পর বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারতি আশীষ রঞ্জন দাসের হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এই রুল জারি করেন। বেলা আবেদনের সঙ্গে  'দালানকোঠার ভারে বিপন্ন প্রবালদ্বীপ'




যাদের বিরুদ্ধে রুল জারি করা হয়েছে তারা হলেন- পরিবেশ ও বন সচিব, বিমান ও পর্যটন সচিব, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ সচিব, নৌ-পরিবহন সচিব, পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদফতরের মহাব্যবস্থাপক (এমডি), কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) ও জেলা পরিষদ সচিব,পরিবেশ অধিদফতরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক এবং সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

আইনজীবী সাইদ আহমেদ কবির সাংবাদিকদের বলেন, ২০০৭ সালে কোস্টাল অ্যান্ড ওয়েটল্যান্ড বায়োডায়ভার্সিটি ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্টের (সিডব্লিউবিএমপি) এক জরিপে দেখা যায় সেন্ট মার্টিনে ৭৪টি অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। সেই জরিপের প্রেক্ষিতে এসব অবৈধ স্থাপনা অপসারণের নির্দেশনা চেয়ে বেলার পক্ষ থেকে ২০০৯ সালে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়। সেই রিটের শুনানি শেষে ২০১১ সালের ২৪ অক্টেবার আদালত রায় দেয়। রায়ে বলা হয়, পরিবেশগত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ছাড়পত্রবিহীন স্থাপনা অপসারণ করতে হবে। একসইঙ্গে ছাড়পত্রবিহীন নতুন কোন স্থাপনা নির্মাণ না করা, বিরল প্রজাতির কচ্ছপ ও শামুক রক্ষায় নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। অবৈধ স্থাপনা নির্মাণে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়ারও নির্দেশ আসে হাইকোর্টের ওই রায়ে।

আইনজীবী সাইদ আহমেদ কবির আরও বলেন, আদালতের সেই নির্দেশ সত্ত্বেও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়নি এমনকি তা ক্রমবর্ধমান রয়েছে। সর্বশেষ সেন্টমার্টিনে ১০৬টি ভবন নির্মাণের খবর  প্রকাশিত হয়। সে কারণেই বেলার পক্ষ থেকে দুদিন আগে আমরা হাইকোর্টে আদালত অবমাননার আবেদন করি। আবেদনের সঙ্গে গত ২০ ফেব্রুয়ারি  'দালানকোঠার ভারে বিপন্ন প্রবালদ্বীপ'  শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনও জমা দেওয়া হয়। সেই আবেদনের শুনানি শেষে আদালত মঙ্গলবার এই রুল জারি করেছেন।

 আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সেন্টমার্টিনে ১০৬টি হোটেল-মোটেলসহ নানা স্থাপনা গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন সেন্টমার্টিন দ্বীপের সৌন্দর্য, পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সেন্টমার্টিন সাগরে ১০৩টি প্রজাতির অনেকগুলোই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। পর্যটকের অবাধ চলাচলের কারণে কাঁকড়ার প্রজনন কমে গেছে। অপরিকল্পিত পয়ঃনিষ্কাশন এবং যত্রতত্র আবর্জনা ফেলে পানি ও মাটিদূষণের কারণে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে। বর্তমানে এ দ্বীপে ১০ হাজার মানুষের বাস। তার ওপর পর্যটন মৌসুমে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার পর্যটক দ্বীপে যাচ্ছেন। যত না মানুষ তার চেয়ে বেশি রিসোর্ট। দ্বীপের ভারসাম্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখেই অপরিকল্পিতভাবে ইট-পাথরের দালান গড়ে উঠেছে। উঁচু ভবন নির্মাণের জন্য প্রবাল খুঁড়ে মাটি বের করা হচ্ছে। অবাধে আহরণ হচ্ছে শামুক-ঝিনুক-পাথর। সৈকতসংলগ্ন এলাকায় হোটেল, মোটেল, রেস্টুরেন্ট ও দোকান নির্মাণের জন্য কেয়াবন ও ঝোপঝাড় ধ্বংস করা হচ্ছে। হোটেলে চলা জেনারেটরের আওয়াজে দ্বীপে চলছে শব্দদূষণ। যে যেভাবে পারছেন, দ্বীপে ঘুরছেন। পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণহীন। মানুষের অতিরিক্ত চাপে পানি ও পরিবেশদূষণে হুমকিতে দ্বীপের প্রায় ৬৮ প্রজাতির প্রবাল।

Post A Comment: