সাদা পোশাক পরিহিত পুলিশ পরিচয়ধারীরা গভীর রাতে চট্টগ্রাম শহরের বাসা থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা নুরুল আলম নুরুকে (৪৫) মাথায় গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। বাসা থেকে তুলে নেয়ার মাত্র ৭ ঘণ্টার ব্যবধানে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে রাউজানের বাগোয়ান ইউনিয়নের কোয়েপাড়া গ্রামের খেলারঘাটের পশ্চিম পাশে সওদাগর পাড়া এলাকার কর্ণফুলী নদী পাড়ের ভাঙ্গন প্রতিরোধের পাথরের মাঝামাঝিতে আটকাপড়া অবস্থায় প্রথমে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির লাশ হিসেবে দেখতে পান এলাকার লোকজন।
Raojan-Dal-leader-Nurul-Alams-body-recoveredসাদা পোশাক পরিহিত পুলিশ পরিচয়ধারীরা গভীর রাতে চট্টগ্রাম শহরের বাসা থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা নুরুল আলম নুরুকে (৪৫) মাথায় গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। বাসা থেকে তুলে নেয়ার মাত্র ৭ ঘণ্টার ব্যবধানে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে রাউজানের বাগোয়ান ইউনিয়নের কোয়েপাড়া গ্রামের খেলারঘাটের পশ্চিম পাশে সওদাগর পাড়া এলাকার কর্ণফুলী নদী পাড়ের ভাঙ্গন প্রতিরোধের পাথরের মাঝামাঝিতে আটকাপড়া অবস্থায় প্রথমে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির লাশ হিসেবে দেখতে পান এলাকার লোকজন।

 পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মোবাইল, ফেসবুকসহ বিভিন্নভাবে জানাজানি হলে পরিবারের সদস্যরা বেলা ১২ টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে নুরুর লাশ বলে শনাক্ত করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় রাউজান থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। নিহত নুরু রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের সাম মহালদার পাড়ার মৃত মো. হোসেনের ছেলে। নুরুল আলম নুরু কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের বর্তমান সহ-সাধারন সম্পাদক, উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক এবং তারেক রহমানের হেল্প সেলের সমন্বয়কারী। বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর খুবই ঘনিষ্ঠ ও সক্রিয় রাজনীতিবিদ ছিলেন। গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী এ হত্যাকা-ের জন্য পুলিশকে দায়ী করে বিভিন্ন গণমাধ্যমকে বক্তব্য প্রদান করেছেন।

নিহত নুরুর বড় ভাই মাহাবুল আলমের মেয়ের জামাই মো. ফারুক জানান, নুরুর স্ত্রী সুমি আকতার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আমাকে ফোন করে বলেন, ‘বুধবার রাত ১২টার দিকে পুলিশ পরিচয়ে কিছু সাদা পোশাকধারী ব্যক্তি ঘরে ঢুকে নুরুর বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট আছে বলে জানিয়ে নুরুকে ধরে নিয়ে যায়। এসময় নুরুর স্ত্রী সঙ্গে যাওয়ার কথা বললেও তাকে না নিয়ে নুরুকে একটি কালো হাইএসে (মাইক্রো) তুলে নিয়ে যায়। এরপর আমি বৃহস্পতিবার সকালে রাউজান থানায় গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি নুরু রাউজান থানায় নাই। বিষয়টি তার স্ত্রীকে জানাই। এরপর বেলা ১২টার পর দিকে বাগোয়ানের খেলারঘাট এলাকায় একটি লাশ পড়ে আছে বলে বিভিন্নভাবে জানতে পারলে নুরুর স্ত্রী, দুই বোন, ভাগিনাসহ স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অজ্ঞাত হিসেবে পড়ে থাকা লাশটি নুরুর বলে শনাক্ত করেন।

মো. ফারুক জানান, লুঙ্গি ও গেঞ্জিপড়া নুরুর দুইহাত রশিতে বাঁধা ছিল, তার শার্ট দিয়ে বাঁধা ছিল চোখ মুখ। পুলিশ আমাদের বলেছে তার মাথার পেছনে দুটি গুলির আঘাত রয়েছে।’ প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় জনগণ জানিয়েছেন নুরুর মাথা একেবারে থেতলে গেছে। দীর্ঘক্ষণ লাশ ঘটনাস্থলে পড়ে থাকায় শত শত উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিড় করে এবং বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন নুরুর রাজনৈতিক সহকর্মীসহ অনেক উৎসুক জনতা। পরে রাউজান থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিকেলে তার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নুরু ব্যক্তিজীবনে বিবাহিত। তার ২ ছেলে ও ১ মেয়ে রয়েছে। তিনি দুই বোন ও তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট। দুই ভাই থাকেন প্রবাসে। নুরুও মাঝেমধ্যে সংযুক্ত আরব আমীরাত আসা যাওয়া করতেন।

এ ব্যাপারে ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী ও সুরতহালকারী রাউজান থানার এসআই নুরুন্নবী জানান বিকেল ৪টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল করে লাশ থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। তার মাথার পেছনে দুটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। নুরুকে পুলিশ ধরে আনা প্রসঙ্গে রাউজান থানার ওসি কেফায়েত উল্ল­াহ বলেন, ‘রাউজান থানা পুলিশের বেশিরভাগ এস.আই গত বুধবার সারারাত পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের কাগতিয়ায় একটি জঙ্গী বিরোধী অভিযানে ব্যস্ত ছিল। নুরু নামের কাউকে থানায় আনার প্রশ্নই আসে না। যারা একথা বলছে, সেটি মিথ্যা কথা। হয়তো নিজেদের ফায়দা হাসিলের জন্য এ কথা বলছে।’

কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা নুরুল আলম নুরুকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে নগরীর কাতালগঞ্জ বাসা থেকে তুলে নিয়ে গুলি করে রাতের আধারে নির্মমভাবে হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন। তারা বলেন, এই জঘন্যতম হত্যাকা-ের নিন্দা জানানোর ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। সারাদেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের যেভাবে গুম করে হত্যা করা হচ্ছে ঠিক একইভাবে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক নুরুল আলম নুরুকে হত্যা করা হয়েছে। নেতৃবৃন্দ ছাত্রদল নেতা নুরুল আলম নুরু হত্যাকা-ের বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান এবং অবিলম্বে ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহবান জানান।

এদিকে এ হত্যাকা-ের জন্য বিএনপি নেতা গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বুধবার রাতে পুলিশের একটি দল নুরুকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। বৃহস্পতিবার তার লাশ কর্ণফুলী নদী পাড়ে পড়ে থাকা অবস্থায় পাওয়া যায়। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’ এদিকে স্বামী মৃত্যুর পর নুরুর স্ত্রী বার বার অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন বলে জানা গেছে।

Post A Comment: