চন্দনাইশে প্রথমবারের মত দিনে-দুপুরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতিতে টেন্ডার বাক্স ভেঙ্গে দ্বিতীয় তলা থেকে নিচে ফেলে ভাংচুর করে পে-অর্ডারসহ দরপত্র ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। গতকাল ৮ মার্চ বেলা ১১ টার সময় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ রাতে সমঝোতার মাধ্যমে ৪টি দরপত্র পে-অর্ডারসহ উদ্ধার করেছে বলে জানা যায়। এ ব্যাপারে চন্দনাইশ পৌর মেয়র মাহবুবুল আলম খোকা বাদী হয়ে ৩ জন এসআই, ১ জন কনস্টেবল, স্থানীয় ৩ জন ইজারাদারকে সাক্ষী করে চন্দনাইশ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
Pay-Tender-Tender-Order-broke-box-looted-Chandanaish 


চন্দনাইশে প্রথমবারের মত দিনে-দুপুরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতিতে টেন্ডার বাক্স ভেঙ্গে দ্বিতীয় তলা থেকে নিচে ফেলে ভাংচুর করে পে-অর্ডারসহ দরপত্র ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। গতকাল ৮ মার্চ বেলা ১১ টার সময় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ রাতে সমঝোতার মাধ্যমে ৪টি দরপত্র পে-অর্ডারসহ উদ্ধার করেছে বলে জানা যায়। এ ব্যাপারে চন্দনাইশ পৌর মেয়র মাহবুবুল আলম খোকা বাদী হয়ে ৩ জন এসআই, ১ জন কনস্টেবল, স্থানীয় ৩ জন ইজারাদারকে সাক্ষী করে চন্দনাইশ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সকাল ৯ টায় চন্দনাইশ পৌরসভার অফিস যথারীতি শুরু হওয়ার পর পৌর আ.লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদুল ইসলাম ইজারাদার হিসেবে পৌরসভায় উপস্থিত হন। এ সময় মেয়র পৌরসভার সচিবসহ ইজারাদারের লোকজন নিয়ে টেন্ডার বাক্স খুলে দেখানোর পর তালা লাগিয়ে দ্বিতীয় তলায় বসানো হয়। এ সময় ৫/৬ জন ইজারাদার তাদের পে-অর্ডারসহ দরপত্র বাক্সে ফেলেন। অনুমান সাড়ে ১০ টার দিকে কিছু সংখ্যক লোকজন পৌরসভার দ্বিতীয় তলায় জমায়েত হতে দেখা যায়। একপর্যায়ে পুলিশের উপস্থিতিতে ২/৩ জন উচ্ছৃঙ্খল লোক টেন্ডার বাক্স দ্বিতীয় তলা থেকে নিচ তলায় ফেলে দেয়। এতে টেন্ডার বাক্স ভেঙে গেলে ছিনতাইকারীরা ৫/৬টি পে-অর্ডারসহ দরপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যায়। নেয়ার সময় তারা বিভিন্ন রকম হুমকি-ধমকি দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চলে যায়। এ সময় ৫০/৬০ জনের একটি গ্রুপ পৌরসভা থেকে দল বেঁধে বেরিয়ে ২৬ মার্চকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে মিছিল করে চন্দনাইশ সদর হয়ে থানার সামনে দিয়ে চলে যায়। এ ব্যাপারে পৌর মেয়র মাহবুবুল আলম খোকা বলেছেন, ছোট-বড় ৬টি বাজার ইজারা দেয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। ফলে ১ লক্ষ ৫০ হাজার ৪শ টাকা মূল্যের ৭৪টি ফরম বিক্রি হয়েছে, যা অতীতের তুলনায় অনেক বেশি বলে তিনি দাবি করেন। গতকাল ৮ মার্চ দরপত্র জমা করার শেষদিনে আ.লীগে অনুপ্রবেশকারীদের একটি গ্রুপ খানহাটকে নিয়ে ঝগড়া শুরু করে। এসআই যথাক্রমে রাজিব, সাধন, আল আমিন-এর উপস্থিতিতে একজন ছিনতাইকারী প্রকাশ্যে টেন্ডার বাক্স নিচে ফেলে ভেঙে ফেলে। সেখান থেকে ৫/৬টি পে-অর্ডার দরপত্রসহ নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে পে-অর্ডার ও দরপত্রসহ উদ্ধারের লক্ষ্যে থানায় অভিযোগ করেছেন বলে জানান মেয়র। সে সাথে দরপত্রটি পুনরায় আহ্বানের জন্য আজ ৯ মার্চ পত্রিকায় একটি বিজ্ঞপ্তিও প্রচার করেছেন বলে জানিয়েছেন। এদিকে পুলিশ রাত সাড়ে ৮ টার দিকে সমঝোতার ভিত্তিতে ৪টি দরপত্র উদ্ধার করে বলে জানিয়েছেন থানা অফিসার ইনচার্জ ফরিদ উদ্দিন খন্দকার। তিনি বলেন, যেহেতু দরপত্রগুলি উদ্ধারের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সে হিসেবে সমঝোতার মাধ্যমে অন্য একজন লোক দিয়ে ৪টি দরপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মেয়র অভিযোগ দিলেও অভিযোগে কারও নাম দেননি। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উদ্ধারকৃত দরপত্র যে ছিনিয়ে নিয়েছে তাকেও পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে আইনি ব্যাখ্যা হচ্ছে, চোরাই মালামাল যার কাছ থেকে উদ্ধার হবে, সে মামলার আসামি হবে। এ ব্যাপারে সদুত্তর দিতে পারেননি বলে থানা অফিসার ইনচার্জ ফরিদ উদ্দিন খন্দকার। তবে তিনি মেয়র অভিযোগ দেয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

স্থানীয়দের মতে, চন্দনাইশে এ ধরনের ঘটনা প্রথম হওয়ায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। চন্দনাইশ পৌরসভা সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে এ ধরনের কোন অপ্রীতিকর ঘটনা টেন্ডার নিয়ে হয়নি বলেও তারা অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তারা এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

Post A Comment: