মতিঝিল থেকে হেফাজতিদের সরাতে সরকারের ১৩ মিনিট লাগে। বাংলাদেশের বড় দুটি দলের একটি বিএনপিকে রাস্তায়ই নামতে দেয়া হয় না। নিরীহ বামেরা সুন্দরবন বাঁচানোর দাবিতে রাস্তায় নামলে তাদের পিটিয়ে রাস্তাছাড়া করা হয়।

 

 মতিঝিল থেকে হেফাজতিদের সরাতে সরকারের ১৩ মিনিট লাগে।

বাংলাদেশের বড় দুটি দলের একটি বিএনপিকে রাস্তায়ই নামতে দেয়া হয় না।

নিরীহ বামেরা সুন্দরবন বাঁচানোর দাবিতে রাস্তায় নামলে তাদের পিটিয়ে রাস্তাছাড়া   করা হয়।


কিন্তু চালকরা আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে অবৈধ আন্দোলন করে গত ৮ দিন ধরে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ১০টি জেলা ও দুদিন ধরে গোটা দেশ অচল করে রেখেছে। অবৈধ আন্দোলন করার দায়ে যাদের গ্রেপ্তার করার কথা, তাদের সাথেই সমঝোতা হচ্ছে। কেন, কেন, কেন?

এই প্রশ্নের উত্তর আপনাদের জানা আছে কিনা জানি না। তবে আমি জানি। কারণ বাসচালকদের পৃষ্ঠপোষণ করেন সরকারের ক্ষমতাশালী একজন মন্ত্রী। সম্রাট শাজাহান মমতাজকে যতটা ভালোবাসতেন, মন্ত্রী শাজাহানও ঘাতক বাসচালকদের ততটাই ভালোবাসেন। সম্রাট শাজাহান তাজমহল বানিয়ে সারাবিশ্বের মানুষকে তাক লাগিয়ে দেন। আর মন্ত্রী শাজাহান খান ধর্মঘট ডেকে সারাদেশ অচল করে তাক লাগিয়ে দেন। সম্রাটের তাক ভালোবাসার, মন্ত্রীর তাক ভোগান্তির। তবে আমি একটা প্রশ্নের উত্তর সত্যি জানি না। সাবেক গণবাহিনী নেতা শাজাহান খানের ক্ষমতার উৎস কী? এবারই নয়, এর আগেও তিনি সারা দেশ অচল করে তার ক্ষমতা দেখিয়েছেন।

আসলে শাজাহান খানের কর্মতৎপরতায় আমি মুগ্ধ, অভিভূত। আমি মাঝে মাঝে তার পোর্টফোলিও ভুলে যাই, বিভ্রান্তি ঘোচাতে তালিকা ঘেঁটে দেখি তিনি নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে। ধন্দে পড়ে যাই নৌ পরিবহন মন্ত্রীর তো নৌ পরিবহন নিয়েই ব্যস্ত থাকার কথা। কিন্তু শাজাহান খানের যত ব্যস্ততা শ্রমিকদের নিয়ে, কখনো পরিবহন শ্রমিক, কখনো গার্মেন্টস শ্রমিক। এই শ্রমিকরাই নাকি তার ক্ষমতার উৎস, আয়ের উৎস।

মন্ত্রী বা এমপি হওয়াকে বাংলাদেশে বলা হয় ক্ষমতা। আসলে হলো দায়িত্ব। দায়িত্ব হোক আর ক্ষমতা হোক, তা নিতে হলে শপথ নিতে হয়। আর ক্ষমতা বা দায়িত্ব পালনের সময় সবাইকে কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট বা স্বার্থের সংঘাতের বিষয়টি মাথায় রাখতে হয়। মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার আগে শাজাহান খান বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি ছিলেন। কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু শপথ নেয়ার পর অবশ্যই তাকে এই পদত্যাগ করা উচিত ছিল। কারণ মন্ত্রী হিসেবে তিনি কারো প্রতি অনুরাগ বিরাগের বশবর্তী না হয়ে সবার প্রতি সমান আচরণ করার কথা। কিন্তু তিনি একটি বিশেষ পেশার মানুষের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করে যাচ্ছেন। তিনি ঘাতক বাসচালকদের প্রতি অনুরাগের বশবর্তী হয়ে কথা বলছেন, কিন্তু যারা মারা যাচ্ছেন, তাদের পরিবারের প্রতি তার কোনো অনুরাগ নেই। যা আসলে শপথ লঙ্ঘণ। মন্ত্রী হওয়ার পর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করা উচিত হলেও তাতো করেনইনি, বরং মন্ত্রী হওয়ার পর গার্মেন্টস শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের আহবায়ক হয়েছেন। তার মানে তার শপথ ভঙ্গের আওতা আরো বেড়েছে। সব দেখেশুনে আমার মনে হয়েছে শাজাহান খান সরকারের চেয়ে বড়। তিনি সবকিছুর উর্ধ্বে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সড়কমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের যখন ধর্মঘটকে অযৌক্তিক ও অবৈধ বলেন, তখন শাজাহান খান বলেন, ‘ধর্মঘট নয়, চালকেরা স্বেচ্ছায় গাড়ি চালানো থেকে বিরত আছেন। চালকেরা মনে করছেন মৃত্যুদন্ডাদেশ বা যাবজ্জীবনের মতো রায় মাথায় নিয়ে গাড়ি চালাবেন না।’ কী বুঝলেন? কার ক্ষমতা বেশি? সরকারের না শাজাহান খানের? কোন ক্ষমতাবলে তিনি শ্রমিক ধর্মঘট নিয়ে ব্রিফিং করেন। নিজের বাসায় ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নিয়ে আবার নিজেই ব্রিফিং করে তা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। সর্প হইয়া দংশন করে, ওঝা হইয়া ঝাড়ে।

তাই আমি বুঝে গেছি শাজাহান খানের পদত্যাগ বা অপসারণের দাবি করে লাভ নেই। বরং আমি তার প্রমোশন দাবি করছি। ২০১৪ সালের ৮ আগস্ট আমি ‘শাজাহা্ন খানের প্রমোশন চাই’ শিরোনামে একটি লেখা লিখেছিলাম। এখনও পরিস্থিতি বদলায়নি। আমি এখনও তার পদত্যাগ নয় প্রমোশনই দাবি করছি। অফিসিয়ালি নৌ পরিবহন তো সামলাচ্ছেনই, আনঅফিসিয়ালি শ্রম, বস্ত্র, বাণিজ্য, যোগাযোগ, রেলপথ সবই তার নিয়ন্ত্রণে। এখন প্রধানমন্ত্রীর উচিত শাজাহান খানকে প্রমোশন দিয়ে সুপারভাইজার মন্ত্রী বানানো। সবকিছু উনি সুপারভাইজ মানে দেখভাল করবেন। কিংবা ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট নামে একটা মন্ত্রণালয় বানিয়ে তাকে তার দায়িত্ব দেওয়া। যেখানেই ক্রাইসিস, সেখানেই শাজাহান খান।

Post A Comment: