রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি গুটিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যেই সেখানে নতুন চামড়া ঢুকছে। সাভারের চামড়া শিল্পনগরী থেকে কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের (ওয়েট ব্লু) পর তা আনা হচ্ছে। দ্রুত মজুদ চামড়া প্রক্রিয়াজাতের কাজ শেষ করতে এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন ট্যানারির উদ্যোক্তারা। কেননা, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ৬ এপ্রিলের মধ্যে পুরান ঢাকার এসব ট্যানারি সরাতে হবে।
 



রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি গুটিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যেই সেখানে নতুন চামড়া ঢুকছে। সাভারের চামড়া শিল্পনগরী থেকে কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের (ওয়েট ব্লু) পর তা আনা হচ্ছে। দ্রুত মজুদ চামড়া প্রক্রিয়াজাতের কাজ শেষ করতে এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন ট্যানারির উদ্যোক্তারা। কেননা, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ৬ এপ্রিলের মধ্যে পুরান ঢাকার এসব ট্যানারি সরাতে হবে।

উদ্যোক্তারা জানান, শিল্পনগরীতে এখনও কোনো ট্যানারি গ্যাস সংযোগ পায়নি। এ কারণে সাভারে ক্রাস্ট, ডাইং ও ফিনিশড চামড়া উৎপাদনে যেতে পারেননি তারা। এর ফলে হাজারীবাগে

নিয়ে এসে চামড়ার এসব প্রক্রিয়াকরণের কাজ করা হচ্ছে।

হাজারীবাগ ঘুরে দেখা গেছে, এখনও বেশিরভাগ ট্যানারি সরব। তবে বর্তমানে এসব ট্যানারিতে কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ অনেকটা বন্ধ রয়েছে। শেষ মুহূর্তে বেশিরভাগ ট্যানারিতে মজুদ চামড়া এবং সাভার ও চট্টগ্রাম থেকে নিয়ে আসা চামড়া প্রক্রিয়াকরণ করা হচ্ছে। এসব প্রক্রিয়ায় মধ্যবর্তী ধাপ ক্রাশড লেদার ও পণ্য তৈরির উপযোগী ফিনিশড লেদারের কাজ চলছে। এ কাজে শ্রমিকরা অনেক ব্যস্ত সময় পার করছেন।

এদিকে, ৬ এপ্রিলের মধ্যে ট্যানারি বন্ধের আগের আদেশ বহাল রেখেছেন আদালত। ঈদুল আজহা পর্যন্ত সময় চেয়ে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ) ও বাংলাদেশ ফিনিশ, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএলএলএফইএ) গত সপ্তাহে হাইকোর্টে আবেদন করে। দু'দিন উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত আবেদন খারিজ করে আদেশ দেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি মাসের শুরুতে হাজারীবাগে সব ট্যানারি বন্ধের আদেশ দেন আদালত। এখন আদালতের রায়ের কপি পেলেই অভিযানে নামবে বলে জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পনিসহ সব ধরনের সংযোগ বন্ধের উদ্যোগ নেবে সংস্থাটি।

আদালতের এমন সব আদেশের পরও আগের মতোই স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছে হাজারীবাগের ট্যানারিগুলোতে। চালু থাকা বেশিরভাগ ট্যানারিতে চলছে ওয়েট ব্লু করা চামড়ার গ্রেডিং, শুকানো, ডাইং, ফিনিশিংসহ চামড়া পাকা করার সব প্রক্রিয়া।

হাজারীবাগের ট্যানারিগুলো ঘুরে দেখা যায়, ট্যনারি মোড় থেকে লেদার কলেজের দিকে যেতে রাস্তার মধ্যে ট্রাকে বোঝাই রয়েছে ওয়েট ব্লু চামড়া। চট্টগ্রাম থেকে হাজারীবাগে নিয়ে এসেছেন বলে জানান ট্রাক ড্রাইভার। দিনভর ট্রাক থেকে ঠেলাগাড়িতে বোঝাই করে এ চামড়া নামিয়ে নেওয়া হয়েছে ট্যানারিগুলোতে। অন্যান্য ট্যানারির কারখানায়ও সাভার চামড়া শিল্পনগরী থেকে ওয়েট ব্লু চামড়া নিয়ে আসতে দেখা গেছে। এ চামড়া থেকে তৈরি করা হচ্ছে ক্রাশড ও ফিনিশড চামড়া। তবে বেশিরভাগ ট্যানারির প্রধান গেটে ঝুলছে তালা আর ভেতরে চলছে শ্রমিকদের কাজ। বিদেশি ক্রেতাদের সরবরাহ আদেশ অনুযায়ী চামড়া দিতে অনেক ট্যানারি তড়িঘড়ি করে শেষ করছে। ট্যানারি বন্ধ হওয়ার আগে মজুদ চামড়া প্রক্রিয়াকরণ শেষ করছে। ওই এলাকার ভেতরের দিকের ট্যানারিগুলোতে নানা কর্মকাণ্ডের বরাবরের মতো ট্যানারি এলাকায় ময়লায় ড্রেনের পানি লাল, কালো ও বাদামি রঙ ধারণ করেছে। তবে ওয়েট ব্লু না করায় ওই এলাকার দুর্গন্ধ কমেছে বলে জানান স্থানীয়রা।

বিএলএলএফইএর সভাপতি মহিউদ্দিন মাহিন সমকালকে বলেন, সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে এখনও গ্যাস সংযোগ মেলেনি। তা ছাড়া ট্যানারিগুলোতে ক্রাশড ও ফিনিশড চামড়ার মেশিনারি স্থাপন কাজ শেষ হয়নি। এ কারণে সাভার থেকে চামড়া আনা ছাড়া প্রক্রিয়াজাত শেষ করতে বিকল্প উপায় নেই। তিনি বলেন, হাজারীবাগ ট্যানারি এখন পুরোপুরি বন্ধ হলে ফিনিশড চামড়া ও চামড়া পণ্য উৎপাদন ব্যাহত হবে। এ কারণে বাধ্য হয়ে হাজারীবাগে উৎপাদন করা হচ্ছে। তবে ওয়েট ব্লু কাজ বন্ধ রয়েছে। এতে ৮০ শতাংশ দূষণ কমেছে দাবি করে তিনি বলেন, এখন ট্যানারির কারণে বুড়িগঙ্গা দূষণ হচ্ছে মাত্র ৩ শতাংশ। দূষণ বন্ধ করতে সাভারে দ্রুত গ্যাস সংযোগ দেওয়া জরুরি। তা ছাড়া সাভারে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যেতে এখনও প্রকল্পের অনেক কাজ বাকি, সেগুলো দ্রুত শেষ করা উচিত। বিশেষ করে সলিড ওয়েস্টের জন্য ডাম্পিং ইয়ার্ড তৈরি করার কথা। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ডাম্পিং ইয়ার্ড নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি। তা ছাড়া কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের কাজও শেষ হয়নি।

ডায়মন্ড ট্যানারির মালিক মো. শাখাওয়াত হোসেন  বলেন, ব্যবসা চালু রাখার স্বার্থে হাজারীবাগে চামড়া আনা হচ্ছে। সাভার এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। তবে কোনো কাঁচা চামড়া এখন হাজারীবাগে আসছে না। তিনি বলেন, সভারে যারা প্লট পায়নি, তারা এখন বিপদে আছেন।

হাজারীবাগে ডায়মন্ড ট্যানারি থেকে সামনে এগোতেই দেখা যায়, রাস্তায় প্রাথমিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া চামড়া ঠেলাগাড়ি বোঝাই করে রাখা হয়েছে। কিছুটা সমানে এগোতে কালাম ট্যানারির পাশের সড়কে ঠেলাগাড়িতে করে চামড়া শ্রমিকরা আনা-নেওয়া করছেন। ওই এলাকার আমিন, লুনা, শাহী, ভঁূইয়া, আনোয়ার, বিএলআইর ট্যানারিগুলোতে কর্মব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। ট্যানারিতে কর্মরত শ্রমিকরা জানান, ওয়েট ব্লু ছাড়া কারখানায় এখন সব কাজ হচ্ছে। ভেজা অবস্থায় কারখানায় নিয়ে আসা চামড়া প্রক্রিয়া করে পাকা চামড়ায় রূপ দেওয়া হয়। চামড়ায় বিভিন্ন কালার (রঙ), শুকানো ও আয়রন করার সব কাজই হচ্ছে।

Post A Comment: