গ্রামীণ ফোন দেশের ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়ার একটি ভালো সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছেন বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বুধবার জিপি হাউজে নতুন স্টার্টআপ ব্যাচের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

 

গ্রামীণ ফোন দেশের ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়ার একটি ভালো সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছেন বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বুধবার জিপি হাউজে নতুন স্টার্টআপ ব্যাচের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।


অর্থমন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ ফোন দেশের ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়ার সরকারের একটি ভালো সহযোগী। এ মুঠোফোন অপারেটর দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ইন্টারনেট সেবা দিয়ে ডিজিটালাইজেশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জিপি অ্যাকসেলারেটর চালুর ফলে সরকারের সাথে গ্রামীণফোনের সহযোগিতা আরো বাড়বে।

অনুষ্ঠানে জিপি অ্যাকসেলেরেটরের নতুন ব্যাচকে স্বাগত জানিয়ে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পিটার বি. ফারবার্গ বলেন, ‘ডিজিটাল বিশ্বে নিজেদের তুলে ধরার ক্ষেত্রে গ্রামীণফোন অ্যাকসেলেরেটর বাংলাদেশে তরুণ উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তাদের সহায়তা করার প্ল্যাটফর্ম। এ তরুণরাই সঠিক নির্দেশনায় দেশের উন্নয়নে পরবর্তী ধাপের মাধ্যম হতে পারে।’

গ্রামীণফোনের হেড অব ট্রান্সফরমেশন কাজী মাহবুব বলেন, ‘দেশের শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা আমাদের পরিবেশের সাথে আরও বেশি মানানসই সেবা দেখতে চাই। এসব সেবা আমাদের গ্রাহকদের জীবন সহজ করে তুলবে। জিপি অ্যাকসেলেরেটর তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য একটি ইকোসিস্টেম তৈরিতে কাজ করছে। যা এ ধরনের সেবার উন্নয়নকে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করবে।’

জিপি অ্যাকসেলেরেটরের প্রধান মিনহাজ আনোয়ার বলেন, ‘অ্যাকসেলেরেটরের তৃতীয় ব্যাচে পাঁচটি এবং অতিরিক্ত আরও একটি স্টার্টআপের একদম নতুন ব্যাচকে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এবারের ব্যাচে আমরা হার্ডওয়্যার, অগমেন্টেড রিয়ালিটি, ফিনটেক ও ডিজিটাল সমাধানের এক দারুণ সমন্বয় পেয়েছি। এ সমন্বয় আমাদের দৈনন্দিন জীবনের বেশকিছু সমস্যার সমাধান নিয়ে কাজ করবে। আমাদের প্রত্যাশা, আমাদের সহায়তায় এ স্টার্টআপগুলো বাংলাদেশের কোটি মানুষের জীবন সহজ, নিরাপদ ও আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলবে।’

এসডি এশিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর খান বলেন, ‘পুরো এক বছরের জন্য এ উদ্যোগটি পরিচালনা করার পর আমরা আমাদের দ্বিতীয় বছরের অংশগ্রহণকারীদের জন্য তিনটি বিশেষ খাতে আরো বলিষ্ঠ প্রশিক্ষণ সহায়তা নিয়ে আসছি। আমাদের নিজস্ব উদ্যোগ এবং পরিকল্পনাগত সহায়তা ছাড়াও, আমরা চার মাসের জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং, ফাইন্যান্স এবং প্রডাক্ট ডেভেলপমেন্ট সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ প্রদান করবো। আর আমরা পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী যে আমাদের অ্যালামনাই নেটওয়ার্কের সহায়তায় জিপি অ্যাকসেলেরেটর এ মুহূর্তে দেশের অন্যতম অ্যাকসেলেরেটর কর্মসূচি। যা আমাদের দেশের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখেই করা হয়েছে।’

এর আগে জিপি অ্যাকসেলেরেটরের তৃতীয় ব্যাচের চার মাসব্যাপী পথচলার উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী। এরপর ৬০০ আবেদন পত্রের মধ্যে থেকে কঠোর বাছাই প্রক্রিয়া, সরাসরি সাক্ষাৎকার এবং ভাবনা উপস্থাপন পর্বের পর  মনোনীত ছয়টি স্টার্টআপকে আমন্ত্রিত অতিথি ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় গ্রামীণফোন।

এসডি এশিয়ার যৌথ সহযোগিতায় জিপি অ্যাকসেলেরেটর (জিপিএ) প্রাথমিক পর্যায়ে থাকা দেশীয় প্রযুক্তি বিষয়ক স্টার্টআপগুলোকে সহায়তা করতে কাজ করছে। চার মাসব্যাপী কর্মসূচিতে স্টার্টআপগুলোকে কঠোর, তাৎক্ষণিক ও অত্যন্ত কার্যকরী প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। স্টার্টআপগুলো ব্যবসা শুরুর প্রাথমিক বিনিয়োগ হিসেবে ১১ লাখ টাকা, জিপি হাউজে কাজ করার সুযোগ এবং তদের ব্যবসার পরিসীমা ও সময়কাল বৃদ্ধিতে প্রাসঙ্গিক শিল্পখাতের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগের সুবিধা পাবে। নির্দিষ্ট মেয়াদ ও দলভিত্তিক এ কর্মসূচি স্টার্টআপগুলোকে বিনিয়োগযোগ্য ও বিস্তৃতি ঘটানোর সুযোগ দানের মাধ্যমে টেকসই ব্যবসায়িক মডেল নির্মাণের সুযোগ করে দিবে।

Post A Comment: