মাত্র সাড়ে ৪শ মিটার দৈর্ঘ্যরে জাকির হোসেন বাই-লেনের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ করতেই প্রায় দুই বছর লেগে গেল চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক)। এখন শেষ মুহূর্তে এসে কার্পেটিংয়ের কাজ আটকে আছে চট্টগ্রাম ওয়াসার কারণে। সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় জিইসি মোড়ে যানবাহের চাপ বেড়ে গেছে।
Four-hundred-meters-of-the-road-is-not-the-end-of-two-years-of-work 


মাত্র সাড়ে ৪শ মিটার দৈর্ঘ্যরে জাকির হোসেন বাই-লেনের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ করতেই প্রায় দুই বছর লেগে গেল চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক)। এখন শেষ মুহূর্তে এসে কার্পেটিংয়ের কাজ আটকে আছে চট্টগ্রাম ওয়াসার কারণে। সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় জিইসি মোড়ে যানবাহের চাপ বেড়ে গেছে।


এই সড়কের ব্যবসায়ী মো. জসিম উদ্দিনসহ একাধিক ব্যবসায়ী পূর্বকোণকে অভিযোগে বলেন, জনসাধারণের চলাচলের স্বার্থে সড়ক সম্প্রসারণ করার জন্য তারা নিজেদের মৌরসী সম্পত্তি ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কাজটি সম্পন্ন না করে ফেলে রাখা হয়েছে। এই সড়ক সম্প্রসারণের কাজ শুরু পর থেকে তাদের ব্যবসা লাটে উঠেছে।

সড়কটি সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, নাছিরাবাদ সরকারি মহিলা কলেজ মোড় থেকে হোটেল লডর্স ইন পর্যন্ত সড়কটি ম্যাকাডাম করে ফেলে রাখা হয়েছে। পিচ ঢালাই করার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আনা হলেও তা ব্যবহার না করে সড়কের ওপর ফেলে রাখা হয়েছে। একারণে এই সড়ক দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘœ ঘটছে। এছাড়া সড়কের পাশে নালার ওপর নির্মিত স্লেবের কিছুদুর অন্তর যেসব ম্যানহোল রাখা হয়েছে সেখানেও কোন ঢাকনা দেয়া হয়নি। এসব গর্তে গাড়ির চাকা ঢুকে প্রায়শঃ দুর্ঘটনা ঘটছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নালার ওপর স্ল্যাব নির্মাণের সময় নালার ভিতরে যেসব বাঁশের খঁটি এবং মাটির বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল তাও অপসারণ করা হয়নি।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত দুই দিনের অল্প বৃষ্টিতেই ম্যানহোল দিয়ে নালা পানি উপচে সড়কের সড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকায় সড়কটি প্রায় আধা ফুট পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। জনগণকে ময়লা ডিঙ্গিয়ে যাতায়াত করতে হয়েছে। ব্যবসায়ী এবং আশপাশের বাসিন্দাদের আশংকা, নালার ভিতরের বাঁশের ঠেস এবং মাটির বাঁধ অপসারণ না করলে আসন্ন বর্ষায় তারা মারাত্মক দুর্ভোগে পড়বেন। চসিক সূত্র জানায়, সঠিক পরিকল্পনার অভাবে সাধারণ মানুষকে এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রথমে এক ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে সড়কটি আরো ১০ ফুট সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়। সেই বাড়তি কাজের টাকা দিতে রাজি হয়নি জাইকা। এনিয়ে আলোচনা করতে গিয়েই সময়ক্ষেপন হয়। শুরুতে পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা নেয়া হলে প্রকল্পের পুরো ব্যয় জাইকা অর্থায়ন করতো। কাজেও বিঘœ ঘটতো না। মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হতো না। এবিষয়ে জানতে চাইলে চসিকের প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল মহিউদ্দিন পূর্বকোণকে বলেন, জাকির হোসেন বাই লেন সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্পটি জাইকা’র অর্থায়নে হচ্ছে। সড়কটি ১৫ ফুট প্রশস্থ ছিল। এখন নালার ওপর স্ল্যাব বসিয়ে তা ২৫ ফুটে উন্নীত করা হয়েছে। এ কাজ করতে গিয়ে প্রকল্পের ব্যয় প্রায় আরো ৪০ লাখ টাকা বেড়ে গেছে। তিনি জানান, কাউন্সিলরের বাড়ি হতে লর্ডস ইন পর্যন্ত নালার উন্মুক্ত অংশটি আলাদা একটি প্রকল্পের মাধ্যমে স্ল্যাব দিয়ে সড়ক সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান প্রকৌশলী। সড়কের সব কাজ সম্পন্ন করে কার্পেটিং না করার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওয়াসা সিটি কর্পোরেশনকে বলেছে ওই সড়কে তাদের কিছু কাজ আছে। যে কারণে সড়কের কিছু অংশ তাদেরকে কাটতে হবে। তাই কার্পেটিংয়ের সব সরঞ্জাম আনার পরও কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। তারা যদি আগামি এক সপ্তাহের মধ্যে তাদের রাস্তা কাটার কাজ সম্পন্ন না করে তাহলে কার্পেটিং করে ফেলা হবে। আগামি এক বছরের মধ্যে ওয়াসাকে সড়কটি আর কাটতে দেয়া হবে না।

আলাপকালে স্থানীয় কাউন্সিলর মো. মোরশেদ আলম পূর্বকোণকে বলেন, এতদিনে কার্পেটিংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়ে যেত। ওয়াসা যে বড় পাইপলাইন বসিয়েছে তার সাথে লোকাল লাইনগুলির সংযোগের কাজ চলছে। গত দুই রাত ওয়াসা সড়ক বন্ধ করে কাজ করেছে। তাদের হয়তো আর দুই তিন দিন লাগতে পারে। সপ্তাহখানেকের মধ্যে এই সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ সম্পন্ন হবে। তিনি বলেন, উন্নয়নের জন্য এলাকাবাসীকে সাময়িক অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তবে কাজ সম্পন্ন হলে তারাই সবচেয়ে বেশি উপকার পাবেন।

Post A Comment: