সেনা নিয়ন্ত্রিত গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় জরুরি অবস্থা জারি করে বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছ থেকে নেওয়া এক হাজার ২০০ কোটি টাকা ফেরতের বিষয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের করা আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে রায় ঘোষণা করা হবে।
Emergency-seized-1-billion-refund-verdict-Thursday 


সেনা নিয়ন্ত্রিত গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় জরুরি অবস্থা জারি করে বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছ থেকে নেওয়া এক হাজার ২০০ কোটি টাকা ফেরতের বিষয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের করা আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে রায় ঘোষণা করা হবে।



প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চার সদস্যের  বেঞ্চ বুধবার শুনানি শেষে রায়ের এ দিন ধার্য করেন।

আদালতে ব্যবসায়ীদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আহসানুল করিম ও খায়রুল আলম চৌধুরী। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন  ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম ও রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

২০০৭ সালে সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় জরুরি অবস্থা জারি করে দুর্নীতি দমন অভিযানের কথা বলে গ্রেফতার করা হয় দেশের শীর্ষ রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের। তখন ২০০৭ সালের এপ্রিল থেকে ২০০৮ সালের নভেম্বরের মধ্যে বিভিন্ন সময় প্রায় ৪০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এক হাজার ২০০ কোটি টাকা আদায় করা হয়।

এ বিষয়ে ২০১০ সালে জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানান, গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় ১ হাজার ২৩২  কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। ওই টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা রয়েছে। পরে ওই টাকা ফেরত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন ক্যাফেলি  ডেটেড টি অ্যান্ড ল্যান্ড লিমিটেড এবং এস আলম স্টিল লিমিটেড। পৃথক রিটে হাইকোর্ট ২০১০ ও ২০১১ সালে পৃথক রায়ে ক্যাফেলি  ডেটেড টি অ্যান্ড ল্যান্ড লিমিটেডের ২৩৭  কোটি টাকা এবং এস আলম স্টিল লিমিটেডের কাছ থেকে ৬০ কোটি টাকা  নেওয়াকে অবৈধ ঘোষণা করে তিন মাসের মধ্যে ওই অর্থ  ফেরত দিতে সরকারকে নির্দেশ দেন। এর ফলে জরুরি অবস্থার সময় ব্যাবসায়ীদের কাছ থেকে নেওয়া অন্যদেরও টাকা ফেরত পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু এ পর্যায়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল আবেদন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে ওই আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেন আপিল বিভাগ। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষকেও হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত লিভ টু আপিল (আপিল অনুমতি আবেদন) দায়ের করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এরই ধারবাহিকতায় বুধবার ওই লিভ টু আপিলের শুনানি নিয়ে রায়ের দিন ধার্য করেন আপিল বিভাগ।

Post A Comment: