চট্টগ্রামের পটিয়ার ১০৮ মেগাওয়াট এবং হবিগঞ্জের ১১ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিজেদের সব শেয়ার বিক্রি করার উদ্যোগ নিয়েছে কনফিডেন্স সিমেন্ট। কেন্দ্র দুটির অপর উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশনের কাছেই এ শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানি। ৯ মার্চ উভয় কোম্পানি শেয়ার হস্তান্তরের বিষয়ে একটি সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। শেয়ার হস্তান্তরের বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে।
 

চট্টগ্রামের পটিয়ার ১০৮ মেগাওয়াট এবং হবিগঞ্জের ১১ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিজেদের সব শেয়ার বিক্রি করার উদ্যোগ নিয়েছে কনফিডেন্স সিমেন্ট। কেন্দ্র দুটির অপর উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশনের কাছেই এ শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানি। ৯ মার্চ উভয় কোম্পানি শেয়ার হস্তান্তরের বিষয়ে একটি সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। শেয়ার হস্তান্তরের বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে।

কনফিডেন্স সিমেন্ট শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত। পটিয়া ও হবিগঞ্জের বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকানা বিক্রি এবং আরও দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে অনুমতি পাওয়ার খবরে গত বছরের অক্টোবর থেকে শেয়ারবাজারের এ কোম্পানির দর বাড়ছে। ওই সময় শেয়ারটি ৮০ টাকা দরে কেনাবেচা হলেও এখন তা কেনাবেচা হচ্ছে ১৩৫ টাকা দরে। মাঝে সর্বোচ্চ ১৫১ টাকায় কনফিডেন্স কেনাবেচা হয়।

জানতে চাইলে পটিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কনফিডেন্স গ্রুপের পরিচালক ইমরান করিম , ব্যবসায়িক কারণে এ দুই বিদ্যুৎকেন্দ্রের শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে বিদ্যুতের ব্যবসা থেকে সরছে না কনফিডেন্স। এরই মধ্যে তারা নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন পেয়েছেন।

অবশ্য কত দামে শেয়ার কেনাবেচা হচ্ছে, এ বিষয়ে মুখ খোলেনি কোনো পক্ষ। এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন রশীদ সমকালকে বলেন, সব প্রক্রিয়া শেষে শেয়ারের দর নির্ধারণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎকেন্দ্র দুটির আইনগত সম্পত্তির মূল্য নির্ধারণের বিষয় আছে। পাশাপাশি নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে এর সম্পদ ও আয়ের বিষয়টিও বিবেচনায় থাকবে। তবে সব প্রক্রিয়ায় আগামী ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করা যাবে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, একসঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন (ইপিজিএল) ও কনফিডেন্স সিমেন্ট (সিসিএল) যৌথভাবে এনার্জিপ্যাক কনফিডেন্স পাওয়ার ভেঞ্চার লিমিটেড (ইসিপিভিএল) নামে একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করে। এতে কনফিডেন্স সিমেন্টের মালিকানা ৭০ শতাংশ বলে জানা গেছে।

ইসিপিভিএল প্রথমে হবিগঞ্জে ১১ মেগাওয়াটের গ্যাসভিত্তিক একটি ছোট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে। ১৫ বছর মেয়াদি চুক্তিতে উৎপাদিত বিদ্যুৎ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) কাছে বিক্রি করে ইসিপিভিএল। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে এ কেন্দ্রটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসে। পরে উভয় গ্রুপ যৌথভাবে চট্টগ্রামের পটিয়ায় ফার্নেস অয়েল চালিত ১০৮ মেগাওয়াটের আইপিপি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১২ সালের ১৬ এপ্রিল তারা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সঙ্গে বিদ্যুৎ বিক্রির চুক্তি স্বাক্ষর করে। ৭২০ কোটি টাকা বিনিয়োগে এ প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়। এখান থেকে ২০১৫ সালের ১৪ জানুয়ারি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়।

গত ৯ মার্চ শেয়ার হস্তান্তরের বিষয়ে কনফিডেন্স ও এনার্জিপ্যাকের মধ্যে এসওইউ চুক্তি হয়। কনফিডেন্স গ্রুপ পটিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রে থাকা তাদের পাঁচ লাখ শেয়ার বিক্রি করছে। পটিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বেশিরভাগ শেয়ারের মালিক কনফিডেন্স সিমেন্ট। কেন্দ্রটি পরিচালনও করে তারা। শেয়ার বিক্রি সম্পন্ন হলে এটি এনার্জিপ্যাক পরিচালনা করবে। চলতি সপ্তাহে শেয়ার হস্তান্তরের অনুমতি চেয়ে বিদ্যুৎ সচিবের কাছে চিঠি দিয়েছে ইসিপিভিএল। চিঠিতে তারা আশা করছে, শেয়ার হস্তান্তর হলেও কেন্দ্রটি আগের মতোই পরিচালিত হবে।

এদিকে বগুড়া ও রংপুরে দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য নির্বাচিত হয়েছে কনফিডেন্স সিমেন্ট ও কনফিডেন্স স্টিলের যৌথ মূলধনি কোম্পানি। প্রতিটি কেন্দ্র হবে ১১৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার। বগুড়া কেন্দ্রের প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কিনতে পিডিবির খরচ পড়বে ৮ টাকা ২৪ পয়সা। রংপুর প্রকল্পে বিদ্যুতের দাম হবে ৮ টাকা ২০ পয়সা। আর ঠাকুরগাঁও জেলার বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ পেয়েছে এনার্জিপ্যাক। ১১৫ মেগাওয়াটের প্রকল্পটির বিদ্যুৎ কিনতে পিডিবির ব্যয় হবে প্রায় ৮ টাকা ২২ পয়সা। এ প্রকল্পগুলো এখন ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের

Post A Comment: