উত্তর কোরিয়ার পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বন্ধের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া তাদের যৌথ বার্ষিক সামরিক মহড়া স্থগিত করতে পারে—চীনের এমন প্রস্তাব উড়িয়ে দিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, এটা ‘যুক্তিসংগত’ কোনো সমঝোতা নয়। আর জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেছেন, উত্তর কোরিয়া ‘অযৌক্তিক’ আচরণ করছে।

উত্তর কোরিয়ার পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বন্ধের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া তাদের যৌথ বার্ষিক সামরিক মহড়া স্থগিত করতে পারে—চীনের এমন প্রস্তাব উড়িয়ে দিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, এটা ‘যুক্তিসংগত’ কোনো সমঝোতা নয়। আর জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেছেন, উত্তর কোরিয়া ‘অযৌক্তিক’ আচরণ করছে।


উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপে প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান এবং তাদের মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ক্ষুব্ধ। পরীক্ষামূলকভাবে জাপান সাগরে ছোড়া কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্রের তিনটি জাপানের জলসীমায় পড়ে। এর প্রতিক্রিয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ায় আলোচিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ‘থাড’ মোতায়েন করার কাজ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে চলমান উত্তেজনা নিরসনে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বন্ধের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া স্থগিতের প্রস্তাব করে চীন।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন বুধবার মন্তব্য করেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে, কোরিয়া উপদ্বীপে দুই দেশ তীব্র গতির ট্রেন, যেগুলো পরস্পরের দিকে ধাবমান এবং কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ।...উভয় পক্ষের সম্মতিতে সামরিক কার্যক্রম স্থগিত রাখাই হবে উত্তেজনা নিরসন এবং ফের আলোচনা শুরু করার প্রথম পদক্ষেপ।’

চীনের ওই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র মার্ক টোনার বলেন, চীনের মন্তব্য ‘আপেলের সঙ্গে কমলালেবুর’

তুলনা করার মতো। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যা করছি তা দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সামরিক সহযোগিতার অংশ। আর উত্তর কোরিয়ার কার্যক্রম আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট বিরুদ্ধাচরণ।’

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র আরও বলেন, উত্তর কোরিয়াকে অর্থবহ আলোচনায় আনার জন্য সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এখন দেশটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নতুন নীতির ব্যাপারে চিন্তা করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে।

উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে গত বুধবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। পরিষদ মনে করে, দেশটির ক্রমবর্ধমান ‘উগ্র আচরণের’ কারণে ওই অঞ্চলে সমরাস্ত্রের প্রতিযোগিতা বাড়ছে। জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি সাংবাদিকদের বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার নেতার সঙ্গে যখন আলোচনা হচ্ছে, তখন বিশ্বকে মনে রাখতে হবে কোনো যুক্তিপরায়ণ ব্যক্তির সঙ্গে কথা হচ্ছে না।’

নিকি হ্যালি চীনকে আশ্বস্ত করে বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থাড স্থাপনে দেশটির আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

আগামী সপ্তাহে চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া সফরে যাবেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন। সেখানে তাঁর আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার কথা।

উত্তর কোরিয়া আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করে সম্প্রতি কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে। এ নিয়ে আঞ্চলিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

Post A Comment: