কুমিল্লা: কুমিল্লাকে বিশ্বমানের শহরে পরিণত করতে চান কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী মো. মনিরুল হক সাক্কু। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় ২৭ দফা নির্বাচনী ইশতেহারে তিনি ওই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। নগরের বাদুড়তলা এলাকায় অবস্থিত ধর্মসাগরপাড়ের নির্বাচনী কার্যালয় প্রাঙ্গণে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি ওই ইশতেহার ঘোষণা করেন।


কুমিল্লা: কুমিল্লাকে বিশ্বমানের শহরে পরিণত করতে চান কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী মো. মনিরুল হক সাক্কু।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় ২৭ দফা নির্বাচনী ইশতেহারে তিনি ওই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। নগরের বাদুড়তলা এলাকায় অবস্থিত ধর্মসাগরপাড়ের নির্বাচনী কার্যালয় প্রাঙ্গণে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি ওই ইশতেহার ঘোষণা করেন।

তবে সাক্কুর ইশতেহারের বেশির ভাগ অংশজুড়ে বিগত পাঁচ বছরের উন্নয়ন তুলে ধরা হয়।

২৭ দফা নির্বাচনী ইশতেহারে বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী মনিরুল হক যেসব বিষয় উল্লেখ করেন, সেগুলো হলো জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, যানজট নিরসন, নতুন করে করের বোঝা না চাপানো, শিক্ষাক্ষেত্রে নওয়াব ফয়জুন্নেছার নামে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, কুমিল্লায় প্রকৌশল এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, লালমাই পাহাড়ের ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর জন্য মাতৃভাষা কেন্দ্র স্থাপন, উপমহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতজ্ঞ শচীন দেববর্মনের নামে সংগীত কলেজ ও নগরের দক্ষিণ এলাকায় মেয়েদের জন্য দুটি ও ছেলের জন্য বিদ্যালয় স্থাপন, নগর সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্র, ২৭টি ওয়ার্ডে কীর্তিমান ব্যক্তিদের নামে পাঠাগার স্থাপন ও পর্যটনকেন্দ্র স্থাপন, মা ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন, কর্মজীবী নারীদের জন্য ইপিজেড এলাকায় হোস্টেল নির্মাণ ও শৌচাগার নির্মাণ, নকশা প্রদানে দ্রুত সিদ্ধান্ত, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা, কাঁচা রাস্তা পাকাকরণ, নালা নির্মাণ, নগরের দক্ষিণ এলাকায় স্টেডিয়াম নির্মাণ, রাতের আলোকসজ্জা বাড়ানো, সড়ক ও স্থাপনার নাম মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নামকরণ, নিউমার্কেটে আইটি সেন্টার স্থাপন, হকার পুনর্বাসন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য আবাসন নিশ্চিত করা, বস্তিবাসীর উন্নয়র, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কাঁচাবাজারের সংস্কার, সব ধর্মের প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, মুক্তিযোদ্ধাদের হোল্ডিং কর ও পানির বিল মওকুফ, প্রবীণ নাগরিক ও নারীদের নগর ভবনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবা প্রদান, সন্ত্রাসমুক্ত কুমিল্লা গঠন, মাদকমুক্ত কুমিল্লা ও কুমিল্লা বিভাগের নাম কুমিল্লা রাখা।

১১ পৃষ্ঠার নির্বাচনী ইশতেহারের শেষ অংশে বলা হয়, কুমিল্লা ঐতিহ্যগতভাবেই একটি শান্তির নগরী। আমরা চাই না, এ শহরের সড়কে দাঁড়িয়ে কেউ গোলাগুলি করে জনমনে আতঙ্ক তৈরি করুক। লাশ গুম করুক, মা–বোনদের স্বাধীনভাবে পথচলা রুদ্ধ হোক। এ অবস্থায় শান্তি, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির আদর্শ কুমিল্লা গড়তে চাই।

এতে নগরবাসীর কাছে সমর্থন ও ভোট চেয়েছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রধান সমন্বয়কারী নজরুল ইসলাম খান, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, জয়নুল আবেদীন ফারুক, হাবিবুর রহমান, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ও ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সাবেক সাংসদ আবদুল গফুর ভূঁইয়া, আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) কেন্দ্রীয় মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ ও কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদসহ বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা।

এর আগে ২১ মার্চ আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমা ২৯ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন। ৩০ মার্চ কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।


Post A Comment: