প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সকলকে আওয়ামী লীগের পতাকাতলে সমবেত হওয়ার আহবান জানিয়েছেন।
 আওয়ামী লীগের পতাকাতলে সমবেত হোন-শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সকলকে আওয়ামী লীগের পতাকাতলে সমবেত হওয়ার আহবান জানিয়েছেন।


তিনি বলেছেন,উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিন। তিনি বলেন, দেশ যাতে দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যায়, সে লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি। আমরা উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে চাই। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ অনুসরণ করে এ দেশের দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে আমি যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত। মঙ্গলবার মাগুরার মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বাবার মতো হাসিমুখে বুকের রক্ত দিয়ে দেশবাসীর সেবা করব। ১৫ আগস্ট একমাত্র বোন রেহানা ছাড়া বাবা-মাসহ স্বজন হারানোর বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, শোকব্যথা বুকে নিয়ে সব কষ্ট সহ্য করে একটা কারণে দেশে এসেছি, আপনাদের সেবা করার জন্য। জাতির জনক এ দেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করতে চেয়েছিলেন, সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পাই না। কারো কাছে মাথা নত করি না।

মাগুরাবাসীর উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। আপনাদের কাছে একটা দাবি, সকলের কাছে আবেদন— এখানে যেন কোনো রকম সন্ত্রাস, মাদক ও জঙ্গির স্থান না হয়। অভিভাবক, শিক্ষকসহ সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ছেলে-মেয়েদের প্রতি খেয়াল রাখবেন, তারা যেন বিপথে না যায়। বিপথগামীরা সঠিক পথে ফিরতে চাইলে সব সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা ভালো হতে চায় তাদের জীবন-জীবিকার জন্য যা যা প্রয়োজন তা আমরা করব। সব ধরনের সহযোগিতা দেবো।

জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সহকারী সচিব সাইফুজ্জামান শিখর এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের দাবি রেললাইন, মেডিক্যাল কলেজ এবং আইনজীবী সমিতি ও প্রেসক্লাব ভবন নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান। পরে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে দাবি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন।

জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি তানজেল হোসেন খানের সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্য, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ ও আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল ওয়াহাব, কেন্দ্রীয় নেতা এসএম কামাল হোসেন, মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়া খাতুন, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আখতার ও সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইনসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।

২৮টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাগুরায় ২৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন করা ১৯টি প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ১৫০ কোটি ৩১ লাখ টাকা। প্রকল্পগুলো হচ্ছে মাগুরা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, মাগুরা ২৫০ শয্যার হাসপাতাল, শ্রীপুর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন, মহাম্মদপুর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন, ফটকি নদীর ওপর ১০০.১০ মিটার ব্রিজ নির্মাণ, কাটাখালী জিসি-ইছাখাদা আরঅ্যান্ডএইচ পর্যন্ত প্রায় ৯.৭১ কিলোমিটার সড়ক, ৩০.৫০ মিটার নতুন বাজার সেতু, ঘণ্টায় ৩৫০ ঘনমিটার ক্ষমতাসম্পন্ন ভূগর্ভস্থ পানি শোধনাগার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান স্টেডিয়াম, সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের প্রশাসনিক ভবন, বেলনগর এলাকায় হ্যাচারিসহ আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার (তৃতীয় পর্যায়), আঞ্চলিক মসলা গবেষণা কেন্দ্রের জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণ ভবন ও অতিথিশালা, মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়, ৫০ শয্যার শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবন, শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০-শয্যায় উন্নীতকরণ প্রকল্প, মাগুরা টেক্সটাইল মিল পুনঃউত্পাদন কার্যক্রম, শালিখা উপজেলার আড়পাড়া ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র এবং মাগুরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

প্রধানমন্ত্রী ৯টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১৭৭ কোটি ১১ লাখ টাকা। প্রকল্পগুলো হচ্ছে মাগুরা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ভবন, ফটকি নদীর ওপর ৯৬ মিটার ব্রিজ নির্মাণ, বরইচারা আটিরভিটা-বরইচারা বাজার সড়কে ফটকি নদীর ওপর ৬৬ মিটার ব্রিজ নির্মাণ, চিত্রা নদীর ওপর ৯৬ মিটার ব্রিজ নির্মাণ, জাতীয় মহাসড়কের (এন-৭) মাগুরা শহর অংশ চার লেনে উন্নীতকরণ, মাগুরা পৌরসভার তৃতীয় নগর পরিচালনা ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (২য় পর্যায়), শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার, শ্রীপুর উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম এবং শালিখা উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্প।

Post A Comment: