পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল হাসেমের এক ছেলেকে গ্রেপ্তারের পর আরেক ছেলে আশফাক আজিজ রুবেলকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।
Another-son-Hashem-ACC-summons 


পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল হাসেমের এক ছেলেকে গ্রেপ্তারের পর আরেক ছেলে আশফাক আজিজ রুবেলকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।


সিটি ব্যাংকের পরিচালক রুবেলকে আগামী ১৫ জুলাই দুদকে হাজির হয়ে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির একটি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হবে।

এই মামলায় হাসেমের ছেলে আম্বার প্রুপের চেয়ারম‌্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আজিজ রাসেলকে গত ৯ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তার করেছিল দুদক। তবে তিনি জামিনে ছাড়া পান, রোববার আপিল বিভাগও তার জামিন আদেশ বহাল রেখেছে।

এদিনই রুবেলকে তলব করে দুদকের নোটিস যায়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি করা দুদকের মামলাটিতে ভাইয়ের সঙ্গে রুবেলকেও আসামি করা হয়।

তাকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম জিজ্ঞাসাবাদ করবেন বলে দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তদন্তের প্রয়োজনে তাকে তদন্ত কর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। এই জন্যই তলব করে তাকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।”

নিজের ব‌্যবসায়িক সাম্রাজ‌্যে সম্প্রতি পরিবর্তন এনে বিভিন্ন ছেলেকে বিভিন্ন দায়িত্ব দিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য হাসেম।

রুবেল পারটেক্স গ্রুপের বিভিন্ন কোম্পানির দেখভাল করছেন, তার সঙ্গে রয়েছেন আরেক ভাই আজিজ আল মাসুদ। রাসেল দেখছেন আম্বার গ্রুপ।

সিটি ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদে রুবেলের সঙ্গে তার সৈয়দা শিরিন আজিজও রয়েছেন।

এই মামলায় হাসেমপুত্রদের সঙ্গে সাবেক সচিব ও রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবালউদ্দিন চৌধুরীও আসামি। রাসেলের সঙ্গে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

ইকবালউদ্দিন রাজউকের চেয়ারম্যান থাকাকালে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার করে ও অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে’ অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে যোগসাজশে দুই ভাই রাসেল ও রুবেলকে ২০ কাঠা জমির দুটি প্লট বরাদ্দ দেন বলে অভিযোগ করা হয় মামলাটিতে।

দুদকের উপ সহকারী পরিচালক সিলভিয়া ফেরদৌসের করা এই মামলার বাকি পাঁচ আসামি হলেন এসডি ফয়েজ, একেএম ওয়াহেদুল ইসলাম, এস এম জাফরুল্লাহ, এইচএম জহিরুল হক ও রেজাউল করিম তরফদার। তারা এক সময় রাজউক বোর্ডের সদস্য ছিলেন।

ইকবালউদ্দিন ২০০১ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত সময়ে রাজউকের চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৮টি সরকারি ভবন বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের এক মামলায় জরুরি অবস্থার সময় ইকবালউদ্দিনকে কারাগারেও যেতে হয়েছিল।

সেনা নিয়ন্ত্রিত ওই সরকারের সময় সন্দেহভাজন দুর্নীতিবাজদের তালিকা হয়েছিল, তাতে নোয়াখালী-২ (বেগমগঞ্জ-সোনাইমুড়ী) আসনের সাবেক বিএনপি সাংসদ হাসেমের নামও ছিল, তিনি তখন গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন।

জামিনে মুক্তির পর থেকে গত প্রায় আট বছর রাজনীতিতে একপ্রকার নিষ্ক্রিয়ই ছিলেন এই ব্যবসায়ী। গত ডিসেম্বরে তিনি বিএনপি মহাসচিবকে চিঠি পাঠিয়ে পদত্যাগের কথা জানান।

হাসেমের ব্যবসায়িক গ্রুপের অধীনে রয়েছে ৬০টির বেশি কোম্পানি, যেগুলোর দায়িত্ব হাসেম দিয়েছেন পাঁচ ছেলের হাতে। হাসেমের স্ত্রী সুলতানা হাসেম ও পুত্রবধূরাও এসব কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে আছেন।   

সিটি ব্যাংক লিমিটেড, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, জনতা ইন্স্যুরেন্স ও আইডিএলসি ফাইন্যান্সের মালিকানার অংশ রয়েছে হাসেম পরিবারের হাতে।

Post A Comment: