রাজধানীতে নারীবান্ধব পাবলিক টয়লেটরাজধানীতে পাবলিক টয়লেট মানেই দুর্গন্ধ ও নোংরা পরিবেশের চিত্র ভেসে ওঠে। আর সীমিত সংখ্যক পাবলিক টয়লেট নারীদের ব্যবহারের উপযোগী না হওয়ায় দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাদের।

রাজধানীতে নারীবান্ধব পাবলিক টয়লেটরাজধানীতে পাবলিক টয়লেট মানেই দুর্গন্ধ ও নোংরা পরিবেশের চিত্র ভেসে ওঠে। আর সীমিত সংখ্যক পাবলিক টয়লেট নারীদের ব্যবহারের উপযোগী না হওয়ায় দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাদের। 



তাই নারীদের কথা চিন্তা করেই দুই সিটি করপোরেশন ও ওয়াসা সহায়তায় রাজধানীতে ২০টি আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করেছে ওয়াটারএইড। শিগগিরই আরও ১০টি নতুন পাবলিক টয়লেট চালু করা হবে। ফলে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন এসব পাবলিক টয়লেট বদলে দিচ্ছে পাবলিক টয়লেট সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা।



রাজধানীতে নারীবান্ধব পাবলিক টয়লেটরাজধানীতে কয়েকটি নতুন পাবলিক টয়লেট ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি পাবলিক টয়লেট খুবই পরিস্কার পরিচ্ছিন্ন। যেখানে পুরুষ, নারী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। টয়লেটের ভেতরে হাত ধোয়া, নিরাপদ খাবার পানি সংগ্রহ, সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সোলার সিস্টেম ও গোসলের ব্যবস্থা রয়েছে। এমনকি ব্যবহারকারীদের মালামাল রাখার জন্য লকারের ব্যবস্থাও রয়েছে। আর নিরাপত্তার জন্য সামনে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা।



রাজধানীর ফার্মগেইট ইন্দিরা রোডের পাবলিক টয়লেট তদারককারী এস এ বাবুল জানান, ‘টয়লেট ব্যবহারের জন্য জনপ্রতি ৫ টাকা ও গোসলের জন্য ১০ টাকা রাখা হয়। টাকা নেওয়ার পর রশিদ দেওয়া হয়। তবে প্রতিবন্ধীরা বিনামূল্যে টয়লেট ব্যবহার করতে পারেন।’

পাবলিক টয়লেট মানুষের ব্যবহার উপযোগী করতে ২০১৪ সালের ২৬ আগস্ট ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি), ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি), ঢাকা ওয়াসা এবং ওয়াটার এইড মধ্যে চুক্তি হয়। চুক্তির আওতায় দুই সিটি করপোরেশনের জায়গায় ৩০টি পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন টয়লেট নির্মাণ ও পরিচালনা করবে ওয়াটারএইড। ইতোমধ্যে রাজধানীর গাবতলী বাসস্ট্যান্ড, তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড, নাবিস্কো হাজি মরণ আলী রোড, ফার্মগেইট ইন্দিরা রোড, শ্যামলী পার্ক, মহাখালী ওয়াসার পানির পাম্প, ওসমানী উদ্যানে মুক্তিযোদ্ধা ক্লাব ও গেট সংলগ্ন, পান্থকুঞ্জু পার্ক, মুক্তাঙ্গণ পার্ক, বাহাদুর-শাহ পার্ক, পৌর ফিলিং স্টেশনসহ ২০টি স্থানে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া চিড়িয়াখানা রোড ও গুলশান-২ ডিসিসি মার্কেট সংলগ্ন পাবলিক টয়লেট নির্মাণ কাজ চলছে। আর আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিস সংলগ্ন, মাজেদ সর্দার রোড, টিকাটুলি পার্ক এবং রমনা কালী মন্দির এলাকায় পাবলিক টয়লেট নির্মাণ কাজ শুরুর প্রস্তুতি চলছে।



সাধারণত পাবলিক টয়লেট ইজারার দিয়ে পরিচালনা করে থাকে সিটি করপোরেশন। তবে এসব পাবলিক টয়লেট পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ওয়াটারএইড নিয়োগ করেছে পেশাদার ক্লিনিং প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের। চুক্তি মোতাবেক সামগ্রীক ব্যবস্থাপনার জন্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা ওয়াসা, ওয়াটারএইডের প্রতিনিধিসহ এলাকার নির্বাচিত প্রতিনিধি ও গ্রহণযোগ্য সমাজসেবক ব্যক্তিদের মাধ্যমে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি নিয়মিত টয়লেটের ব্যবস্থাপনা তদারকি করে। টয়লেটের নামে খোলা ব্যাংক একাউন্টে জমা হয় টয়লেট ব্যবহারকারীদের থেকে প্রাপ্ত অর্থ। সেই অর্থ কমিটির মাধ্যমে টয়লেট পরিচালনা, কর্মীদের বেতন, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ ও মেরামত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

জানা গেছে, উদ্বোধনের পর এ পর্যন্ত তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড সংলগ্ন নতুন পাবলিক টয়লেটটি ব্যবহার করেছেন ৭৮ হাজার ৫৮৭ জন। যার মধ্যে নারী ২ হাজার ৬০৭ জন এবং পুরুষ ৭৫ হাজার ৯৮০ জন। নাবিস্কো হাজি মরন আলী রোডে পাবলিক টয়লেট ব্যবহার করেছেন ৫১ হাজার ৫৪৩ জন। যার মধ্যে নারী ৪ হাজার ৩৬৫ জন এবং পুরুষ ৪৭ হাজার ১৭৮ জন। ফার্মগেইট ইন্দিরা রোড পাবলিক টয়লেট ব্যবহার করেছেন ৪৫ হাজার ৭৪০ জন। যার মধ্যে নারী ৪ হাজার ১০ জন এবং পুরুষ ৪১ হাজার ৭৩০ জন।

রাজধানীতে নারীবান্ধব পাবলিক টয়লেটএ বিষয়ে ওয়াটারএইডের প্রকল্প পরিচালক এবিএম মোবাশের হোসেন বলেন, ‘ঢাকা বিশ্বের ২২টি বৃহত্তম নগরীর মধ্যে পঞ্চম। শহরের জনসংখ্যার অনুপাতে পাবলিক টয়লেটের সংখ্যা অনেক কম। শহরের উন্নয়নে পানি ও স্যানিটেশনের উন্নয়ন বড় চ্যালেঞ্জ। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে যৌথভাবে পাবলিক টয়লেট স্থাপনে কাজ করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের জায়গায় স্থাপিত টয়লেটগুলো প্রচলিত প্রথায় ইজারা দেওয়া হতো। কিন্তু আমরা ইজারা না দিয়ে দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের মাধ্যমে এগুলো পরিচালনা করছি। যার ব্যয় মেটানো হয় টয়লেট ব্যবহার থেকে পাওয়া অর্থ থেকে। অর্থ সংকট দেখা দিলে ওয়াটারএইডের তহবিল থেকে তা মেটানো হয়।’

Post A Comment: