নেগিনপাও কিপগেনমিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা-সংকট অনেক দিনের। এই সংকট নিয়ে দেশীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নানান আলাপ-আলোচনা ও উদ্যোগ লক্ষ করা যাচ্ছে। কিন্তু সংকট সমাধানের কোনো লক্ষণ এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না।

নেগিনপাও কিপগেনমিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা-সংকট অনেক দিনের। এই সংকট নিয়ে দেশীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নানান আলাপ-আলোচনা ও উদ্যোগ লক্ষ করা যাচ্ছে। কিন্তু সংকট সমাধানের কোনো লক্ষণ এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। 


এমন প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান খুঁজেছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী নেগিনপাও কিপজেন। এ বিষয়ে জিন্দাল স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের এই সহযোগী অধ্যাপকের নিবন্ধ ৪ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকক পোস্ট পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। ভাষান্তর সাইফুল সামিন 

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের সঙ্গে স্থানীয় বৌদ্ধদের চলমান সংঘাতের বাস্তবিক সমাধান কে করতে সক্ষম, তা নিয়ে অনেকে কৌতূহলী। অনেকে এই দায়িত্ব দেশটিতে গত বছর ক্ষমতায় আসা অং সান সু চি ও তাঁর ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) সরকারের ওপর দিতে চায়।

রোহিঙ্গা ইস্যুটি ২০১২ সাল থেকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘ, ওআইসি, আসিয়ান, বাংলাদেশ সরকারসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ এই সমস্যার সমাধানে সহায়তা করতে পারে বলে অনেকের ধারণা। তবে চূড়ান্ত দায়িত্ব মিয়ানমারের সেনাবাহিনী, সুশীল সমাজ ও সাধারণ জনগণের ওপর নিহিত।

মিয়ানমারে ২০০৮ সালে প্রণীত সংবিধান দেশটির সেনাবাহিনীকে তাৎপর্যপূর্ণ ক্ষমতা দিয়েছে। সংবিধান অনুয়ায়ী, জাতীয় ও রাজ্যসভায় সেনাবাহিনীর জন্য ২৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও সীমান্ত বিষয়ের মতো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ সশস্ত্র বাহিনীকে দেওয়া হয়েছে। মিয়ানমারের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করা ১১ সদস্যের জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা পরিষদে সেনাবাহিনীর আধিপত্য রয়েছে। সেনাবাহিনী ও তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন মন্ত্রণালয়গুলো প্রত্যক্ষভাবে রোহিঙ্গা এলাকায় সহিংসতা মোকাবিলায় যুক্ত থাকায় সেখানে এনএলডির নেতৃত্বাধীন বেসামরিক সরকারের চেয়ে সেনাপ্রধানের মনোভাবই প্রাধান্য পায়।

সেনাবাহিনী ও বেসামরিক সরকারের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির হাইব্রিড কাঠামোর কারণে সামরিক এস্টাবলিশমেন্টের বিপক্ষে যাওয়া সু চি ও প্রেসিডেন্ট থিন কিউয়ের জন্য মারাত্মক চ্যালেঞ্জের বিষয়। আইনের শাসনের গুরুত্ব এবং রোহিঙ্গা ইস্যু তদন্তে একটি স্টেট অ্যাডভাইজরি কাউন্সিল গঠনের বিষয়টি পুনরুল্লেখ সত্ত্বেও সেনাবাহিনীর অনুমোদন বা সহযোগিতা ছাড়া সহিংসতার অবসান ঘটানো সু চির জন্য কঠিন হবে।


বর্তমান শাসনব্যবস্থায় সেনাবাহিনী যদি সত্যিকার অর্থে আগ্রহী হয়, তবে রোহিঙ্গা সমস্যার কার্যকর ও দ্রুত সমাধান আসতে পারে। রোহিঙ্গা-সংকট সমাধানে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ উপাদান সুশীল সমাজের কণ্ঠস্বর। অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মতো মিয়ানমারের স্বাধীন সুশীল সমাজ সংগঠিত বা শক্তিশালী না হলেও তারা পরিবর্তনের প্রতিনিধি বা চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হিসেবে কাজ করতে পারে। বার্মিজ নৃগোষ্ঠীর প্রাধান্য থাকা সুশীল সমাজের গোষ্ঠীগুলো রোহিঙ্গাদের পক্ষে কাজ করতে অনাগ্রহী। কারণ, তারা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের প্রকৃত নাগরিক বিবেচনা করে না। অধিকাংশ বার্মিজ জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি সামরিক ও বেসামরিক এলিট দ্বারা প্রভাবিত। আবার এর বিপরীতও আছে।

রোহিঙ্গা বিষয়ে গণমাধ্যমেরও ভূমিকা পালনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এই ইস্যুতে স্বাধীন গণমাধ্যম নিরপেক্ষভাবে তথ্য ও আলোচনা উপস্থাপন করছে। কিন্তু রাষ্ট্র-সমর্থিত গণমাধ্যমে তেমনটি হচ্ছে না।

Post A Comment: