নাজনীন আক্তারমুঠোফোনে পরিচয়। সামনাসামনি কখনো দেখা হয়নি। কেবল ফোনে কথা বলতে বলতেই সম্পর্কের গভীরতা বাড়ে। একসময় কিশোরীর মনে ঘর বাঁধার স্বপ্ন জেগে ওঠে। কিন্তু ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেনি ফাঁদে পড়েছে সে।
মুঠোফোনে সম্পর্ক। পরিণামে কিশোরীর মৃত্যু 
নাজনীন আক্তারমুঠোফোনে পরিচয়। সামনাসামনি কখনো দেখা হয়নি। কেবল ফোনে কথা বলতে বলতেই সম্পর্কের গভীরতা বাড়ে। একসময় কিশোরীর মনে ঘর বাঁধার স্বপ্ন জেগে ওঠে। কিন্তু ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেনি ফাঁদে পড়েছে সে। 

একদিন কাউকে কিছু না বলে নরসিংদীর ঘর ছেড়ে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় চলে আসে। সেখানে তার জন্য অপেক্ষা করছিল মৃত্যু।
কিশোরীর নাম নাজনীন আক্তার (১৫)। বাবা-মায়ের একমাত্র মেয়ে। গত বছরের ১২ নভেম্বর চট্টগ্রামে পা রাখে সে। তার বন্ধু মো. নাছির সাতকানিয়ার একটি হোটেলের কর্মচারী। সেদিন সন্ধ্যায় বাস থেকে চট্টগ্রাম নগরের অলংকার মোড়ে নামার পর নাছির তাকে সাতকানিয়ায় নিয়ে যান। রাতে উপজেলার কেরানিহাটের একটি হোটেলে খাবার খান তাঁরা। পরে বাড়িতে নেওয়ার কথা বলে নাজনীনকে অটোরিকশায় তোলেন নাছির। তখন নাছিরের সঙ্গে তাঁর দুই বন্ধু মো. রফিক ও মো. ইসমাইলও ছিলেন।
সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জত এলাকার একটি জঙ্গলে কিশোরীকে নিয়ে যান তাঁরা। সেখানে ধর্ষণের পর হত্যা করে পাশের চন্দনাইশ উপজেলায় ফেলে দেওয়া হয় কিশোরীর লাশ। পরে জঙ্গলে একটি ভ্যানিটি ব্যাগ খুঁজে পায় পুলিশ। ব্যাগের ভেতরে মুঠোফোন ছিল। এই মুঠোফোনের সূত্র ধরে ঘটনার এক সপ্তাহ পর গ্রেপ্তার করা হয় নাছিরসহ তিনজনকে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও চন্দনাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বাসুদেব নাথ বলেন, জবানবন্দিতে নাছিরসহ তিন আসামি শ্বাসরোধ করে নাজনীনকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। হত্যাকাণ্ডে তাঁর দুই বন্ধুও অংশ নেন। নিজেরা ধরা না পড়তে লাশটি চন্দনাইশে ফেলে আসেন তাঁরা। গত ২০ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ থেকে পাওয়া ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নাজনীনকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার নাছিরসহ তিন আসামির ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আবেদন করা হলে গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আবু ইউসুফ তা মঞ্জুর করেন।
মামলার বাদী কিশোরীর বড় ভাই জামাল মিয়া বলেন, তিন ভাইয়ের একমাত্র আদরের বোন ছিল নাজনীন। সরল মনের সুযোগ নিয়ে তার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। কাউকে না বলে একা ঘর ছেড়ে লাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে তাকে।
নাজনীনের বাবা বরকত আলী জানান, তাঁর একমাত্র মেয়েকে বিয়ের কথা বলে এভাবে যারা ডেকে নিয়ে মেরেছে, তাদের বিচার চান তিনি।

Post A Comment: