একটি আন্তজেলা প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে কুড়িগ্রামের চারজন শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণী সর্বস্বান্ত হয়েছেন। ঢাকায় অবস্থানরত ওই চক্র বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভুয়া নিয়োগ ও যোগদানপত্র প্রদান করে ওই চারজনের কাছ থেকে ৩৭ লাখ ১১ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

একটি আন্তজেলা প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে কুড়িগ্রামের চারজন শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণী সর্বস্বান্ত হয়েছেন। ঢাকায় অবস্থানরত ওই চক্র বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভুয়া নিয়োগ ও যোগদানপত্র প্রদান করে ওই চারজনের কাছ থেকে ৩৭ লাখ ১১ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে চারজন সর্বস্বান্ত

এ ঘটনায় কুড়িগ্রামের মো. রাশেদুল ইসলাম নামের এক তরুণ ঢাকার দারুস সালাম থানায় ২০১৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ওই চক্রের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। মামলার খবর পেয়ে চক্রের সদস্যরা আত্মগোপনে চলে যান। পরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র্যা ব-৪ চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি অভিযান চালিয়ে দারুস সালাম থানা এলাকা থেকে মামলার আসামি আশিষ চৌধুরী (৩৪), মো. নাসির শিকদার (৩৫) ও ছামছুল আরেফিনকে (৫০) গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সিল, প্যাড, স্ট্যাম্প, ল্যাপটপ, মুঠোফোন, বিভিন্ন ব্যাংকের ঋণের কাগজপত্র, ফাঁকা চেক, চাকিরপ্রত্যাশীদের বায়োডাটা, এসেনসিয়াল ড্রাগ কোম্পানি লিমিটেডের কাগজপত্র, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কাগজপত্র জব্দ করা হয়।
এ ছাড়া গ্রেপ্তার হওয়া ওই তিনজনের কাছ থেকে বিভিন্ন তরুণ-তরুণীর নামে নানা ব্যাংক, কোম্পানি ও মন্ত্রণালয়ের ভুয়া নিয়োগপত্র জব্দ করা হয়। পরে আসামিদের ১৬ জানুয়ারি দারুস সালাম থানায় ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় মামলা করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে র্যা ব-৪।
গ্রেপ্তারকৃত আশিষ চৌধুরীর বাড়ি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া থানার কুশলা গ্রামে, ছামছুল আরেফিনের বাড়ি কোটালীপাড়া থানার টুপরিয়া গ্রামে এবং নাসির শিকদারের বাড়ি মাগুরার বুজরুক শ্রীকুন্ডি গ্রামে।
রাশেদুল ইসলামের করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পৌরসভার কৃষ্ণপুর মৌজার উত্তর ডাকুয়াপাড়া গ্রামের মো. আনছার আলীর ছেলে রাশেদুল ইসলামের (২৯) কাছ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরি দেওয়ার নাম করে কয়েক দফায় ১২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় ওই চক্র। টাকা নেওয়ার আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভুয়া নিয়োগপত্র ও যোগদানপত্রের ফটোকপি দিয়ে এ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাংক, কোম্পানি ও মন্ত্রণালয়ে চাকরি দেওয়ার নামে রাজারহাট উপজেলার নাজিমখান ইউনিয়নের নাজমুল হাসানের কাছ থেকে ৫ লাখ ৪৩ হাজার, সদর উপজেলার কামরুন্নাহারের কাছ থেকে ৬ লাখ ৫০ হাজার ও আবদুল হাকিমের কাছ থেকে থেকে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় ওই প্রতারক চক্র।
প্রতারক চক্রের সদস্য ছামছুল আরেফিন নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার বলে ভুয়া পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করছিলেন। এই চক্রের অন্য এক সদস্য আশিষ চৌধুরী নিজেকে কখনো প্রধানমন্ত্রীর অ্যাসাইনমেন্ট অফিসারের পিএস, কখনো সাংসদ শেখ সেলিমের পিএস পরিচয় দিয়ে আসছিলেন।
এই চক্রটি শিক্ষিত বেকার যুবকদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলতে প্রতিটি জেলায় স্থানীয় এজেন্টদের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক, বীমা ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ মন্ত্রণালয়ের লোভনীয় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অবশেষে প্রতারক চক্রের ওই তিন সদস্য র্যা বের হাতে ধরা পড়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছে।

Post A Comment: