এসএসসি পরীক্ষার কয়েক দিন আগে বিদ্যালয়ে প্রবেশপত্র আনতে গিয়েছিল রুবিনা আক্তার। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেছিলেন, পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রবেশপত্র দেওয়া হবে।

এসএসসি পরীক্ষার কয়েক দিন আগে বিদ্যালয়ে প্রবেশপত্র আনতে গিয়েছিল রুবিনা আক্তার। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেছিলেন, পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রবেশপত্র দেওয়া হবে। 

কেন্দ্রে গিয়েও পরীক্ষা দিতে পারল না মেয়েটি

তবে পরীক্ষার কেন্দ্রেও রুবিনাকে প্রবেশপত্র দেননি তিনি। ফলে পরীক্ষা না দিয়েই রুবিনাকে ফিরে যেতে হয়েছে।
বরগুনার আমতলী উপজেলার চুনাখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গত বৃহস্পতিবার এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে এ ঘটনা ঘটে।
রুবিনা ও তার অভিভাবকদের অভিযোগ, আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইসহাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাদাত হোসেন ফরম পূরণ না করে টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ফলে শিক্ষা বোর্ড থেকে তার প্রবেশপত্র আসেনি। রুবিনা পটুয়াখালী সদর উপজেলার তিতকাটা গ্রামের হাকিম আলী জমাদ্দারের মেয়ে।
রুবিনা জানায়, গুলিশাখালী ইসহাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে সে ২০১৫ সালে নাম নিবন্ধন করে। গত বছরের নভেম্বরে দুই হাজার টাকা দিয়ে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করে। গত ২৮ জানুয়ারি পরীক্ষার প্রবেশপত্র আনার জন্য বিদ্যালয়ে গেলে প্রধান শিক্ষক শাহাদাত হোসেন বলেন, পরে দেওয়া হবে। আবারও প্রবেশপত্র আনার জন্য বিদ্যালয়ে গেলে পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রবেশপত্র দেওয়ার কথা বলেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য সে চুনাখালী পরীক্ষাকেন্দ্রে যায়। প্রবেশপত্র চাইলে প্রধান শিক্ষক বলেন, গুলিশাখালী ইসহাক ও চরকগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একই সঙ্গে নিবন্ধন করায় বোর্ডের অনলাইনে রুবিনার ফরম পূরণ হয়নি।
এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘রুবিনা আমার বিদ্যালয় ছাড়াও স্থানীয় চরকগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে নিবন্ধন করেছে। দুটি বিদ্যালয় থেকে নিবন্ধন করায় বোর্ডের অনলাইনে তা ধরা পড়েছিল। এ জন্য তার ফরম পূরণ করা সম্ভব হয়নি। আর ওই শিক্ষার্থীর ফরম পূরণের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।’
তবে রুবিনা বলছে, অন্য বিদ্যালয়ে সে নিবন্ধন করেনি। ওই সমস্যার কথা আগে প্রধান শিক্ষক বলেননি এবং টাকাও ফেরত দেননি।
চরকগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হুমায়ূন কবির মুঠোফোনে বলেন, ‘রুবিনা নামের কোনো শিক্ষার্থীর নিবন্ধন আমার বিদ্যালয় থেকে হয়নি।’

Post A Comment: