পূর্ব সুন্দরবনের করমজল কুমির প্রজননকেন্দ্রের ৪৩টি কুমিরের বাচ্চার সব কটিই মেরে ফেলা হয়েছে বলে ধারণা করছে বন বিভাগের গঠিত তদন্ত কমিটি। অন্যদিকে পুলিশের ধারণা, যে ৯টি কুমিরের মৃতদেহ ও দেহাবশেষ পাওয়া গেছে, সেগুলো বাদে ৩৪টি কুমির পাচার হয়ে গেছে।

পূর্ব সুন্দরবনের করমজল কুমির প্রজননকেন্দ্রের ৪৩টি কুমিরের বাচ্চার সব কটিই মেরে ফেলা হয়েছে বলে ধারণা করছে বন বিভাগের গঠিত তদন্ত কমিটি। অন্যদিকে পুলিশের ধারণা, যে ৯টি কুমিরের মৃতদেহ ও দেহাবশেষ পাওয়া গেছে, সেগুলো বাদে ৩৪টি কুমির পাচার হয়ে গেছে।


পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ সূত্রে জানা যায়, করমজল বন্যপ্রাণী প্রজননকেন্দ্রের দুটি প্যান (কৃত্রিম পুকুর) থেকে গত রবি ও সোমবার ৪৩টি কুমির নিখোঁজ হয়। এর মধ্যে রোববার দুটি এবং সোমবার সকালে চারটি কুমিরের মৃতদেহ ও তিনটির দেহাবশেষ পাওয়া যায়। এখানকার কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, এই নয়টি বাদে বাকি কুমিরগুলোও মেরে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী মাহাবুব লস্করকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এ ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বন বিভাগের পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহেদীজ্জামানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।


গতকাল শুক্রবার করমজল বন্যপ্রাণী ও প্রজননকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে কেন্দ্রের কুমির জুলিয়েট ও পিলপিলের ফোটানো ডিম থেকে ৪৩টি বাচ্চা যে দুটি প্যানে রাখা হয়েছিল তা শূন্য। অন্যান্য প্যানে বিভিন্ন বয়সের কুমির রয়েছে। বর্তমানে এই কেন্দ্রে ২৩৪টি কুমির রয়েছে।
কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান দাবি করেন, তাঁকে ফাঁসানোর জন্যই কেন্দ্রের কর্মচারী মাহাবুব লস্কর এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। তাঁর সহযোগী কুমিরের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে বিনা বেতনে কর্মরত মো. জাকিরও এ ঘটনায় জড়িত।

এ ঘটনায় বন বিভাগের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান মেহেদীজ্জামান বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে আলামত যাচাই করে আমাদের মনে হয়েছে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ৪৩টি কুমিরের সব কটিকেই হত্যা করা হয়েছে। কুমিরগুলো যে স্থানে রাখা, সেখানে হিংস্র প্রাণীর প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। লোহার তার দিয়ে তা সুরক্ষিত। আর মারা যাওয়া কুমিরের গায়ে, মাথায় আমরা আঘাতের চিহ্ন পেয়েছি। আমরা এই ভয়াবহ ঘটনার ক্ষেত্রে বন বিভাগের কর্মচারী মাহাবুব ও বন বিভাগের বাইরের কর্মচারী জাকিরের সম্পৃক্ততা পেয়েছি। তারপরও সমস্ত বিষয় আমরা গভীরভাবে অনুসন্ধান করছি।  
\
তদন্ত শেষে পুরো বিষয় নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
এ ঘটনায় করমজল বন্যপ্রাণী প্রজননকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান খুলনার দাকোপ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। ঘটনার তদন্তে আসা দাকোপ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুক বলেন, ‘কেন্দ্রের ১৪ কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিকভাবে আমাদের মনে হয়েছে, ৩৪টি কুমির পাচার হয়ে গেছে। মারা যাওয়া কুমির ছাড়া অন্যগুলোর মৃতদেহের কোনো চিহ্ন বা আলামত আমরা পাইনি।’

Post A Comment: