যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার মনোনীত মন্ত্রীদের এখনই দেখা দিয়েছে বিরোধ। ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বললেও এমন নীতির বিরোধী তার মনোনীত পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন।
 With-Triumph-ministers-dispute


যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার মনোনীত মন্ত্রীদের এখনই দেখা দিয়েছে বিরোধ। ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বললেও এমন নীতির বিরোধী তার মনোনীত পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন। ট্রাম্প সন্ত্রাসী-আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে বুশ আমলের 'ওয়ারবোর্ডিং' ফিরিয়ে আনার পক্ষপাতী হলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মনোনীত সাবেক জেনারেল জন কেলি এমন ব্যবস্থার বিরোধী।


 অ্যাটর্নি জেনারেল মনোনীত জেফ সেশনসও ট্রাম্পের মুসলিম নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছেন। শুধু তাই নয়, টিপিপি চুক্তি বাতিল, মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল তোলা, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কসহ নানান ইস্যুতে ট্রাম্পের মতের সঙ্গে মিল নেই তার মন্ত্রীদের। মন্ত্রী হিসেবে চূড়ান্ত নিয়োগ পেতে বুধবার মার্কিন সিনেট কমিটির শুনানিতে এসব মতপার্থক্যের কথা জানান মন্ত্রীরা। তবে টিলারসনের মতে, মতপার্থক্য থাকলেও যে কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন কেবল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। খবর বিবিসি, এএফপি ও পিটিআইর।

যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানি এক্সনমোবিলের প্রধান নির্বাহী ৬৪ বছর বয়সী টিলারসন সিনেটের ফরেন রিলেসনস কমিটির শুনানিতে বলেন, আমাদের দেশে যেসব মানুষ আসছে তাদের বিষয়ে আমরা 'জাজমেন্ট' দিতে পারি। এটা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে বিশেষ কোনো গ্রুপের মানুষের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি আমি সমর্থন করি না। তিনি বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, যেসব মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে আসছে তাদের বিষয়ে যাচাই করা আমাদের জন্য গুরুতর একটি চ্যালেঞ্জ। যারা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি হতে পারে, তাদের বাছাই করার একটি পদ্ধতি প্রয়োগ করা যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী মুসলিমদের পৃথক তালিকা করার পক্ষে ট্রাম্পের মত রয়েছে। কিন্তু টিলারসন এ প্রস্তাবের বিপক্ষে। তিনি কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে নারাজ।

মার্কিন সিনেটের ফরেন রিলেশন্স কমিটির টানা ৯ ঘণ্টার শুনানিতে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে পরবর্তী প্রশাসনের সম্ভাব্য বিদেশ নীতির রূপরেখা তুলে ধরেন। শুনানিতে দেওয়া বক্তব্যে, টিলারসন বলেন, দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে পরিষ্কার বার্তা পাঠাবে ট্রাম্পের প্রশাসন। চীনকে অবশ্যই তাদের কৃত্রিম দ্বীপ বানানো বন্ধ করতে হবে। এবং ওই দ্বীপে তাদের প্রবেশ বন্ধ করতে হবে। তিনি পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধের পক্ষে। জাপানসহ বেশ কয়েকটি মিত্র দেশকে পারমাণবিক শক্তিধর হিসেবে দেখতে চান না। পাশের দেশ মেক্সিকোকে 'বন্ধু রাষ্ট্র' বলে উল্লেখ করে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয়ের কথা জানান টিলারসন। কিন্তু ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারণায় মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন।

ট্রাম্পের যৌন কর্মকাণ্ডের প্রমাণ আছে রাশিয়ায় -সিআইএ : ট্রাম্পের যৌন কর্মকাণ্ডের একাধিক প্রমাণ আছে রাশিয়ার কাছে। বুধবার প্রথম সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ার হাতে প্রমাণ থাকার অভিযোগ অস্বীকার করার ঘণ্টা কয়েক পর বিবিসিকে এ কথা বলে সিআইএ।

Post A Comment: