কানের খইল বা ময়লা প্রায় সবারই হয়। বেশির ভাগ মানুষ জিনিসটাকে নোংরা ও অপ্রয়োজনীয় ভাবেন। কিন্তু এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির একদল বিজ্ঞানীর দৃষ্টিভঙ্গি অন্য রকম। তাঁরা বলছেন, কানের ভেতরে জমা আঠালো জিনিসটি কৃত্রিম ফিল্টার বা ছাঁকনি এবং আঠা হিসেবে রোবটিকসসহ প্রযুক্তির অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।

 Use-robatikase-cerumen

কানের খইল বা ময়লা প্রায় সবারই হয়। বেশির ভাগ মানুষ জিনিসটাকে নোংরা ও অপ্রয়োজনীয় ভাবেন। কিন্তু এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির একদল বিজ্ঞানীর দৃষ্টিভঙ্গি অন্য রকম। তাঁরা বলছেন, কানের ভেতরে জমা আঠালো জিনিসটি কৃত্রিম ফিল্টার বা ছাঁকনি এবং আঠা হিসেবে রোবটিকসসহ প্রযুক্তির অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।


ওই প্রতিষ্ঠানের গবেষক অ্যালেক্সিস নোয়েল এখন কানের ময়লা ব্যবহারের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছেন। তাঁর বন্ধুর কানে একবার পানি ঢুকে গিয়েছিল। কানের খইলের কারণে সেই পানি ভেতরেই আটকে ছিল। নোয়েল বললেন, ওই ঘটনার কয়েক বছর পর চিন্তা হলো কী কারণে পানি এ রকম আবদ্ধ হলো। সেই থেকেই কানের খইল নিয়ে তাঁর গবেষণার শুরু। এখনো তাঁরা জিনিসটার কাজের ধরন জানতে চেষ্টা করছেন।

নোয়েল ও তাঁর সহযোগীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন, কানের খইলের স্বতন্ত্র কিছু গুণ আছে। এগুলো ব্যতিক্রমী ফিল্টার হিসেবে কাজ করে। সে কারণে বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া বা ময়লা আটকে রাখে এবং কানের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেয়। কানের সুস্থতার জন্য তাই এই খইল খুব প্রয়োজনীয়। আর এর আঠালো বৈশিষ্ট্যও বেশ কাজে লাগে। কোনো কিছুর স্পর্শ ছাড়া এটা অত্যন্ত আঠালো ও স্থির থাকে। কিন্তু বাইরের কিছু এসে লাগলেই এটা দ্রুত সেদিকে প্রবাহিত হতে শুরু করে। কানের ভেতরে থাকলেও একপর্যায়ে এই খইল বাইরে চলে যায়। এ ক্ষেত্রে চোয়ালের নড়াচড়া ও চাপের প্রভাব কাজ করে। এসব গুণ বা বৈশিষ্ট্য রোবট বা অন্যান্য প্রযুক্তিতে বিশেষ কাজে লাগতে পারে। কিন্তু এ জন্য বিজ্ঞানীদের আরও অনেক গবেষণার দরকার আছে।

অদ্ভুত বিষয়-আশয় নিয়ে নোয়েল আগেও গবেষণা করেছেন। তিনি বর্তমান গবেষণাকাজের ওপর একটি প্রতিবেদন সোসাইটি ফর ইন্টিগ্রেটেড অ্যান্ড কম্পারেটিভ বায়োলজির ২০১৭ সালের বার্ষিক সভায় উপস্থাপন করবেন।

Post A Comment: