মোবারকপুরে গ্যাসের সন্ধান অবশেষে পাবনা জেলার মোবারকপুরে গ্যাস পাওয়া গেছে। বুধবার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন কোম্পানির (বাপেক্স) অনুসন্ধান দল গ্যাস পাওয়ার চূড়ান্ত নিরীক্ষা (ডিএসটি-ড্রিলিং স্টেম টেস্ট) শুরু করে। বৃহস্পতিবার সকালে কূপের উৎসমুখে গ্যাস থাকার প্রমাণ হিসেবে শিখা জ্বলে ওঠে। মাটির নিচে ৪ হাজার ২০০ মিটার গভীরে দুটি স্তরে এই গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে।
Mobarakapure-gas 


অবশেষে পাবনা জেলার মোবারকপুরে গ্যাস পাওয়া গেছে। বুধবার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন কোম্পানির (বাপেক্স) অনুসন্ধান দল গ্যাস পাওয়ার চূড়ান্ত নিরীক্ষা (ডিএসটি-ড্রিলিং স্টেম টেস্ট) শুরু করে। বৃহস্পতিবার সকালে কূপের উৎসমুখে গ্যাস থাকার প্রমাণ হিসেবে শিখা জ্বলে ওঠে। মাটির নিচে ৪ হাজার ২০০ মিটার গভীরে দুটি স্তরে এই গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে।



পেট্রোবাংলা ও বাপেক্স সূত্র জানায়, এই কূপে গ্যাস বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হবে কি-না সে সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আরও কিছু পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে


পারে। এরপর গ্যাস প্রাপ্তির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।

মোবারকপুরে এই খনিজসম্পদ আবিষ্কারের ঘোষণা এলে এটিই হবে উত্তরবঙ্গের প্রথম গ্যাসক্ষেত্র। এ বিষয়ে বাপেক্সের এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে সমকালকে বলেন, উত্তরবঙ্গে বিশেষ করে বগুড়া-পাবনা অঞ্চলে গ্যাস প্রাপ্তির সম্ভাবনার কথা এতদিন তথ্য-উপাত্তে সীমাবদ্ধ ছিল। এখন তা প্রমাণিত। ভূতত্ত্ববিদ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরাও মোবারকপুরে গ্যাস প্রাপ্তিকে দেশের জন্য সুখবর হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন, এতদিন দেশে যেসব গ্যাসক্ষেত্র পাওয়া গেছে, সেগুলো সবই সহজে শনাক্তযোগ্য ছিল। কিন্তু মোবারকপুরের এই গ্যাস কাঠামোটি ছিল জটিল ও কঠিন। বাপেক্স প্রমাণ করেছে, দেশে ভূতাত্তি্বকভাবে কঠিন জোনগুলোতেও গ্যাস আবিষ্কার করতে সক্ষম।


সূত্র জানায়, আশির দশকে জার্মানির কোম্পানি জিজিএজি উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় অনুসন্ধানকালে পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলার মোবারকপুর গ্রামে গ্যাস প্রাপ্তির সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে পারে। পরে ২০০৬ সালে এখানে অনুসন্ধান কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হলেও সে প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি। ২০১০ সালে নতুন করে কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় কারিগরি কারণ দেখিয়ে মোবারকপুর থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার উত্তরে পাগলাদহ মৌজায় নতুন করে কূপ খননের স্থান নির্ধারণ করা হয়। তবে খনন কাজ শুরু হয় ২০১৪ সালের আগস্টে। খননকাজ চলাকালে একই বছরের ডিসেম্বরে ৪ হাজার ১৭৫ মিটার গভীরতায় খনন পাইপ আটকে যায়। তখন খনন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে দ্বিতীয়বারের মতো একই কূপে খনন কাজ শুরু হয়। সে সময় ৪ হাজার ৫৯৬ থেকে ৪ হাজার ৬০৪ মিটার গভীরতায় ৮ মিটার পুরুত্বের একটি স্তরে গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যায়। ভূগর্ভস্থ ঊর্ধ্বমূখী উদ্বেগজনক অতিরিক্ত চাপের কারণে দ্বিতীয়বারের মতো খনন কাজ বন্ধ রাখা হয়। পরে গত নভেম্বরে বাপেক্স নিজ খরচে আবার অনুন্ধান কাজ শুরু করে। গতকাল গ্যাস থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হয়। ৪ হাজার ২২০ থেকে ৪ হাজার ২২৩ মিটার এবং ৪ হাজার ২৪০ থেকে ৪ হাজার ২৪৪ মিটার গভীরতার দুটি স্তরে গ্যাস পাওয়া গেছে। কিন্তু গ্যাসের চাপ ও বাণিজ্যিকভাবে তা উত্তোলনযোগ্য কি-না তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এজন্য আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। বাপেক্সের একজন ভূতত্ত্ববিদ জানান, এই কূপের মাধ্যমে মোবারকপুরে গ্যাসের উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এখন পরবর্তী পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে বলা যাবে কী পরিমাণ গ্যাস আছে এবং তা বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলন করা লাভজনক হবে কি-না। তিনি বলেন, এখানে আরও কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। ভালোভাবে স্থান চিহ্নিত করে কূপ খনন করলে মোবারকপুরে আরও কয়েকটি স্তরে গ্যাস পাওয়া যেতে পারে।


এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বদরুল ইমাম সমকালকে বলেন, বাংলাদেশ ব-দ্বীপের ভূতাত্তি্বক গঠন অনুসারে মাটির নিচের দু'ধরনের কাঠামোয় সাধারণত গ্যাস থাকার কথা। এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রগুলো সহজে শনাক্ত ও উত্তোলনযোগ্য স্ট্রাকচারাল ট্রাপের অন্তর্গত। এ জাতীয় ক্ষেত্রগুলো মোটামুটি সবই আবিষ্কৃত হয়েছে। তুলনামূলক কঠিন কাঠামোর স্ট্রাটিগ্রাফিক ট্রাপে গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ দেশে আগে হয়নি। কারণ এই ধরনের কাঠামোতে গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। পেলেও গ্যাসক্ষেত্রগুলোর আকার সাধারণত ছোট হয়। তবে স্থান বিশেষে বড়ও হতে পারে। মোবারকপুরের স্ট্রাকচারটি এ ধরনের। এখানে গ্যাসের স্তর পাওয়া অবশ্যই ভালো খবর। এই কূপে বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য গ্যাস পাওয়া যাবে কি-না তা ডিএসটি পরীক্ষার ফল থেকে জানা যাবে। তবে মোবারকপুরে বাপেক্সের সাফল্য এই সুখবর দিচ্ছে যে, বাংলাদেশের স্ট্রাটিগ্রাফিক ট্রাপেও গ্যাস পাওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, মোবারকপুরে কূপটি খননে দীর্ঘ সময় লেগেছে। খননের পর দীর্ঘদিন ফেলে রাখা হয়েছিল। এর ফলেও গ্যাসের কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

Post A Comment: