আইপিওর ব্যয়ের তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও প্রক্রিয়ায় উত্তোলিত অর্থ কোম্পানিগুলো কীভাবে ব্যয় করছে তা প্রকাশ বাধ্যবাধকতামূলক করেছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সংশ্লিষ্ট কোম্পানি উত্তোলিত অর্থ ঘোষণা অনুযায়ী ব্যয় করছে কি-না, সেটির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এ শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
IPO-expenses-mandatory-disclosure 

 প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও প্রক্রিয়ায় উত্তোলিত অর্থ কোম্পানিগুলো কীভাবে ব্যয় করছে তা প্রকাশ বাধ্যবাধকতামূলক করেছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সংশ্লিষ্ট কোম্পানি উত্তোলিত অর্থ ঘোষণা অনুযায়ী ব্যয় করছে কি-না, সেটির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এ শর্ত আরোপ করা হয়েছে।


সর্বশেষ অনুমোদন পাওয়া শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের আইপিওর ক্ষেত্রে প্রথমবারের মতো এ শর্ত দেওয়া হয়। কোম্পানিটির আইপিও প্রসপেক্টাস পর্যালোচনায় এ তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে আইপিও প্রক্রিয়ায় মূলধন উত্তোলন করা কোম্পানি শুধু স্টক এক্সচেঞ্জ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিকে এ তথ্য প্রদান করত। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের তা জানার উপায় ছিল না।

বিএসইসির একাধিক কর্মকর্তা সমকালকে জানান, সাম্প্রতিক সময়ে আইপিও অনুমোদন পাওয়া উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কোম্পানির ক্ষেত্রে সময়মতো আইপিও অর্থ ব্যয় না করার প্রমাণ মিলেছে। এমনকি যে প্রকল্পে অর্থ খরচের কথা বলে আইপিও প্রক্রিয়ায় অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল, সেটির বদলে ওই অর্থ ব্যাংকে সঞ্চয় হিসেবে রাখা হয়েছে বা অন্য কোনো প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছে। আইপিওর সমুদয় অর্থ খরচ ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও কিছু কোম্পানি নিয়ম মানছে না বলেও প্রমাণ মিলেছে। এমন প্রেক্ষাপটে নিয়ন্ত্রক সংস্থা নতুন এ শর্ত আরোপ করেছে।

সংস্থার মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান বলেন, কিছু কোম্পানি আইপিওর অর্থ শর্ত অনুযায়ী খরচ করেনি বলে প্রমাণ পেয়েছে বিএসইসি। কোনো কোনো কোম্পানি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ খরচ করেনি। এ অবস্থায় স্বচ্ছতা বিধানের জন্য কমিশন নতুন করে শর্ত আরোপ করেছে।

শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রসপেক্টাস পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আইপিও অর্থ উত্তোলনের পর প্রতি মাস শেষে ১৫ দিনের মধ্যে উত্তোলিত অর্থের কত অংশ খরচ হয়েছে তার প্রতিবেদন স্টক এক্সচেঞ্জ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। বিনিয়োগকারীরা এ তথ্য যাতে সহজে জানতে পারে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জকে তার নিজস্ব ওয়েবসাইটের ওই কোম্পানি-সংশ্লিষ্ট পাতায় এবং অর্থ উত্তোলনকারী কোম্পানিকেও তার ওয়েবসাইটে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে আইপিও অর্থ ব্যবহার-সংক্রান্ত মাসিক প্রতিবেদন বিদেশি কোনো নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্তি আছে- এমন কোনো বহিঃ-নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান দ্বারা তা নিরীক্ষা করানোর শর্ত দেওয়া হয়েছে।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আইপিও প্রক্রিয়ায় উত্তোলিত অর্থ প্রসপেক্টাসে ঘোষিত পরিকল্পনা এবং কমিশনের এ সংক্রান্ত শর্ত পরিপালন না করায় বস্ত্র খাতের দুই কোম্পানি জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশনস ও ড্রাগন সোয়েটার অ্যান্ড স্পিনিং কোম্পানির আইপিও অর্থ খরচ বিষয়ে বিশেষ নিরীক্ষা করাচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। অবশ্য ২০১৪ সালে তালিকাভুক্ত এএফসি এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলেও প্রভাবশালীদের সুপারিশের কারণে এ বিষয়ে তদন্ত করেনি নিয়ন্ত্রক সংস্থা। অন্যদিকে তালিকাভুক্ত পেনিনসুলার ২০১৪ সালে আইপিওর অর্থ ব্যবহারের সময়সীমা ছিল ২০১৬ সাল। তবে আইপিওতে ঘোষণা অনুযায়ী নতুন হোটেল নির্মাণ করতে না পেরে গত বছর অর্থ খরচের পরিকল্পনা সংশোধন করে কোম্পানিটি।

কমিশনের শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলেন, আইপিও প্রসপেক্টাসের ঘোষণা অনুযায়ী কোম্পানির অর্থ ব্যয়ের তথ্য স্টক এক্সচেঞ্জ ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ওয়েবসাইটে প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে আইপিও অর্থ খরচে স্বচ্ছতা আসবে বলে জানান তিনি। তবে যৌক্তিক কোনো কারণে পূর্বপরিকল্পনা বা ঘোষণা অনুযায়ী আইপিও অর্থ খরচ করা সম্ভব না হলে শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতি নিয়ে ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্যে তা ব্যবহার করা যাবে। শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতি ছাড়া আইপিও অর্থ অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না।

Post A Comment: