বৃষ্টি বারবার হামলে পড়েছে। খেলা বন্ধ থেকেছে। ওয়েলিংটনের সবুজ উইকেটে এই অবস্থায় প্রথম দিনেই ব্যাট করা কঠিন কাজ। কিন্তু সেই কঠিন পরীক্ষার প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের মুখে হাসি আছে
 However-the-Tigers-first-day

 বৃষ্টি বারবার হামলে পড়েছে। খেলা বন্ধ থেকেছে। ওয়েলিংটনের সবুজ উইকেটে এই অবস্থায় প্রথম দিনেই ব্যাট করা কঠিন কাজ। কিন্তু সেই কঠিন পরীক্ষার প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের মুখে হাসি আছে। বৃহস্পতিবার মাত্র ৪০.২ ওভার খেলা হয়েছে। সেখানে আছে তামিম ইকবালের ৫৬ রানের আলো ঝলমলে ইনিংস। প্রিয় প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মুমিনুল হক ৬৪ রানে অপরাজিত। সাকিব আল হাসান অপরাজিত ৫ রানে। আলোর স্বল্পতায় দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৫৪। বেসিন রিজার্ভের গ্রিন-টপে এ তো টাইগারদেরই দিন!


বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা এমন উইকেটে খেলতে একদম অভ্যস্ত না। তার ওপর এই শহর বাতাসের শহর। আকাশ মেঘলা। বাতাস আরো বেশি। এ তো সব মিলিয়ে ফাস্টবোলারদের স্বপ্ন দেখার মতো আদর্শ কন্ডিশন! তাই স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড টস জিতলেই প্রমাদ গুনতে হয়েছিল! তামিম একদিক দিয়ে হামলা চালালেন শুরুতে। কিন্তু দলের ১৬ রানেই পড়ল প্রথম উইকেট। ইমরুল কায়েস ১ রান করেই বিদায় নিলেন টিম সাউদিকে উইকেট দিয়ে। কিন্তু তামিমের ব্যাটে ঝড়। মুমিনুল যোগ দিয়েছেন ততক্ষণে।

বৃষ্টির কারণে আগেভাগে লাঞ্চ হয়। কিন্তু তামিম মেরে চলেন। ওয়ানডে স্টাইলের খেলা। কিউই বোলাররা খুব সুইং করালেন বা সিমের মুভমেন্ট থাকল খুব, তা নয়। উল্টো তারাই চাপে। তামিমের কারণেই ১৯ বলের মধ্যে ৭ বাউন্ডারির শিকার হয়েছিলেন ট্রেন্ট বোল্ট। পেসার শোধ তুলেছেন উইকেটটা তুলে নিয়ে। ৬০ রানের সময় তামিমের বিদায়। ৫০ বলে ১১ চারে ৫৬ রান তামিমের আগ্রাসণের দারুণ প্রমাণ।

তামিম ও মুমিনুলের জুটিটা ৪৪ রানের। এখন একটু জেনে নিন প্রথম দিন শেষে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মুমিনুলের ব্যাটিং গড়। ২২০ মাত্র! খুব অবাক হওয়ার কিছু নেই। এর আগে খেলা চার ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মুমিনুলের স্কোর যথাক্রমে ১৮১, অপরাজিত ২২, ৪৭ ও অপরাজিত ১২৬। তবে আগের দুই টেস্ট ছিল বাংলাদেশে। কিউইদের মাটিতেও মুমিনুল সেই সাফল্যের ধারাটা টেনে নিলেন।


মুমিনুলের সলিড ডিফেন্স। তবে এটা যে শট খেলারও উইকেট! সেখানেও কোনো সমস্যা নেই লিটল জিনিয়াসের। ১১০ বল খেলেছেন। তাতে ১০টি চারের মার। সাথে বাংলাদেশের ইনিংসের এখন পর্যন্ত একমাত্র ছক্কা। মাহমুদউল্লাহর (২৬) সাথে তৃতীয় উইকেটে ৮৫ রানের জুটি মুমিনুলের। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের প্রাথমিক ভিতটা তাতেই গড়া।

তামিমের ইনিংস যদি হয় আগ্রাসণ, তাহলে সত্যিকারের ঢাল মুমিনুলের ১১তম ফিফটিটা। উইকেট ধরে রাখার সময়টায় মাহমুদউল্লাহর সাথে দারুণ খেলেছেন। মাহমুদউল্লাহ শরীরে বলের আঘাত পেয়েও ঘুরে দাঁড়ান। কিন্তু বৃষ্টি তো প্রথম দিনেই এই ম্যাচের বিজ্ঞাপন হতে চাইল! তাতে সময়ের আগে চা বিরতি। ২৯ ওভারে ২ উইকেটে ১১৯ রান তখন টাইগারদের। বৃষ্টি আর থামে না। শেষে যখন থামল তখন আম্পায়াররা ঠিক করলেন অন্তত ৫৪ ওভার খেলা চালানো যেতে পারে। ৯০ ওভার তো সম্ভবই না। কিন্তু দিনের শেষে মেঘলা আকাশের কারণে আলো কম। তাই ওটাও হয়ে ওঠে না।

কিন্তু এই শেষের আগেই কিন্তু বিপদে পড়তে পারতো বাংলাদেশ। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পর মাঠে নেমেও মনোযোগ হারাননি মুমিনুল। তবে মাহমুদউল্লাহ ইনিংস বড় করতে পারলেন না। নেইল ওয়াগনারের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন। তার আগেই ফিফটি হয়েছে মুমিনুলের।

বিপদ ওঁৎ পেতে। সাকিব এসেই পড়েন সেই বিপদের সামনে। ওয়াগনারকে দারুণ এক বাউন্ডারি মারলেন। কিন্তু এক বল পরই পুল করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারান সাকিব। তাতে সোজা স্কয়ার লেগে উঠে যায় বল। মিচেল স্যান্টনারের হাতে গিয়ে জমা হচ্ছিল বলটা। সাকিবের বুকটা নিশ্চয়ই কেঁপেছে। কিন্তু স্যান্টনার তৈরি ছিলেন না বলে বলটা হাত গলে মাটির বুকে। তাতে সাকিব ও টাইগার সমর্থকদের বুকে স্বস্তি। নইলে যে দিনের শেষে ৩ নয়, ৪ উইকেটে হারানো দল হয়ে যায় বাংলাদেশ!

সাকিবের ওই ঘটনার পর খেলা চলেছে আর মাত্র তিন বল। ব্যাটসম্যানরা আলোর স্বল্পতায় অস্বস্তিতে। আম্পায়াররা আলো মাপেন। শেষ পর্যন্ত তারাও দেখলেন, এই অবস্থায় খেলা চলে না। বৃষ্টি ও আলোর স্বল্পতা তারপরও অবশ্য দিনের তারকা না। নিউজিল্যান্ডেরও খুব তৃপ্তির দিন নয়। তামিম ও মুমিনুলের ব্যাটে টেস্ট সিরিজের শুরুর দিনটা কেবলই বাংলাদেশের। ২০১৪ সালের পর আবার বিদেশের মাটিতে খেলতে নেমে এমন একটা প্রথম দিনের কথা নিশ্চয়ই আগে থেকে ভাবতে পারেননি বাংলাদেশের কেউ!

Post A Comment: