প্রত্যেকেরই রয়েছে ভ্রমণপিপাসু একটা মন। কিন্তু কাজের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে ঘুরে বেড়ানো সব সময় সম্ভব হয়ে ওঠে না। বছরজুড়েই অপেক্ষা করতে হয় ছুটির জন্যে। বছর শেষে অফিসের পাওনা ছুটি, ফাইনাল পরীক্ষা শেষে বাচ্চাদের স্কুলের ছুটি বা বড়দিনের ছুটিতে এই ডিসেম্বরেই ঘুরে আসতে পারেন দূরে কোথাও।
 

প্রত্যেকেরই রয়েছে ভ্রমণপিপাসু একটা মন। কিন্তু কাজের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে ঘুরে বেড়ানো সব সময় সম্ভব হয়ে ওঠে না। বছরজুড়েই অপেক্ষা করতে হয় ছুটির জন্যে। বছর শেষে অফিসের পাওনা ছুটি, ফাইনাল পরীক্ষা শেষে বাচ্চাদের স্কুলের ছুটি বা বড়দিনের ছুটিতে এই ডিসেম্বরেই ঘুরে আসতে পারেন দূরে কোথাও। 

প্রাত্যহিক জীবনের যান্ত্রিকতা থেকে একটু দূরে গিয়ে উপভোগ করতে পারেন প্রকৃতি। সতেজ একটা মন নিয়ে ফিরে এসে ফের নতুন উদ্যমে, নতুন বছরে শুরু করতে পারেন কোনো নতুন চ্যালেঞ্জ। কিন্তু কোথায় যাবেন? আমি বলবো সাতটা দিন সময় নিয়ে চলে যান দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে।

যেখানে আছে দিগন্ত বিস্তৃত নীল সমুদ্র, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত, সবুজ পাহাড় আর বন, মন্দির-প্যাগোডা, নারিকেল- সুপারির বাগান, লবণের ক্ষেত, বাংলাদেশের সর্বশেষ স্থলভাগ আর নীল পানি দিয়ে ঘেরা অপূর্ব সুন্দর এক দ্বীপ। 

কক্সবাজার বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম প্রধান পর্যটন এলাকা। প্রতি বছর লাখো পর্যটকের আগমন ঘটে ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্র সৈকতে, যা বিশ্বের দীর্ঘতমও বটে। তবে নিরিবিলি সময় কাটাতে চাইলে যেতে পারেন পর্যটন নগরী কক্সবাজার থেকে একটু দূরে, কোনো দর্শনীয় দ্বীপে। যেখানে জনসাধারণের ব্যাপক সমাগম না থাকলেও সৌন্দর্যের কোনো কমতি নেই।



কক্সবাজার সদর থেকে প্রায় ২৯ কিলোমিটার দূরের জনপদ উখিয়া। এক প্রান্তে বাংলাদেশ-মায়ানমারকে বিভক্তকারী নাফ নদী, অন্য দিকে বঙ্গোপসাগর। একসময় গভীর জঙ্গলে পূর্ণ ছিল উখিয়া। এখনও কিছু দুগর্ম পাহাড়ি এলাকা থেকে প্রায়ই বন্যহাতি হানা দেয় লোকালয়ে। হরিণের কথা কলা হলেও বর্তমানে বিলুপ্তির পথে। এখানকার ক্ষুদ্র নৃ-তাত্বিক গোষ্ঠী রাখাইনদের জীবনাচার পর্যটকদের আকৃষ্ট করে।

উখিয়ার অন্যতম আকর্ষণ ইনানী সৈকত। শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণের এ সৈকতটি হচ্ছে কক্সবাজার পর্যটনের ইমাজিং টাইগার। জেলা শহর থেকে টেকনাফ পর্যন্ত দীর্ঘ ১২০কিলোমিটার  সৈকতের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর, আকর্ষণীয় ও নয়নাভিরাম ইনানী। সৈতক জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ছোট বড় অসংখ্য প্রবাল, মৃত কোরালের উপরে বালি ও কাদা জমে সৃষ্টি করেছে বাড়তি সৌন্দর্যের।

 
 ইনানী বিচ।

ভালো সময় কাটানোর জন্যে হতে পারে এটি আপনার অন্যতম পর্যটন গন্তব্য। বন বিভাগের একটি মনোমুগ্ধকর রেস্ট হাউস রয়েছে, নতুন ভাবে গড়ে উঠেছে অনেক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট। সিনেমা ও নাটকের শুটিংস্পট হিসেবেও নজর কাড়ছে ইনানী। িএ সৈকত ঘিরে গড়ে উঠেছে নানা পিকনিক স্পটও।

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চিংড়ি পোনা উৎপাদনের অনেক হ্যাচারি এবং কুমিরের খামারও রয়েছে উখিয়াতে। পথের ধারে সারি সারি সুপারি গাছ বাড়িয়ে দিয়েছে এ জনপদের সৌন্দর্য। একপাশে সবুজ বন-পাহাড় আর আরেক পাশের সমুদ্র, এর মাঝেই চলে গেছে মেরিন ড্রাইভওয়ে। গাড়িতে, মোটর বাইক বা সাইকেলে যেতে পারেন মেরিন ড্রাইভওয়েতে। মেরিন ড্রাইভ দিয়ে টেকনাফ পৌঁছে যাওয়া যায়, যেভাবেই যান না কেন স্মৃতির ঝুলিতে এক অনন্য অভিজ্ঞতা জমা হবে নিঃসন্দেহে।

 
মেরিন ড্রাইভওয়ে
 
উখিয়া সদরে রয়েছে পাতাবাড়ী বৌদ্ধ বিহার। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পূণ্যস্থান। প্রায় ২০০ বছর আগে বিহারটি স্থাপিত হয়েছিল বলে স্থানীয়দের ধারণা। এছাড়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের পাটুয়ারটেক সৈকতের কাছে নিদানিয়া পাহাড়ের ভেতরে রয়েছে সুড়ঙ্গ গর্তের সমাহার কানারাজার গুহা।

প্রায় ১৪ ফুট উঁচু ও ১০ ফুট বেড়’র সুড়ঙ্গটির প্রবেশ মুখ থেকে সোজা ১২০-১৫০ ফুট দূরত্বের, দুই দিকে দু’টো দরজা রয়েছে। আছে একটি করে বিশাল কক্ষও।

ইতিহাস বলে, অতীতে টেকনাফ-উখিয়া এলাকাটি শাসন করতো রাখাইন রাজরা। এক রাখাইনরাজ (এক চোখ অন্ধ) আত্মরক্ষার্থে এখানে একটি গুহা নির্মাণ করেছিলেন বলে কথিত আছে। গুহার অভ্যন্তরে প্রচুর ধন রত্ন আছে বলে স্থানীয়রা এটিকে আন্ধার মানিক বলেও ডাকেন।

সুড়ঙ্গ পথে শুষ্ক মৌসুমে একটি ট্রাক অনায়াসে প্রবেশ করতে পারে। তবে বর্ষা মৌসুমে বিষাক্ত সাপ আর নাম না জানা জীবজন্তুর ভয় তো রয়েই যায়। তবে বর্তমানে সংরক্ষণের অভাবে কানা রাজার গুহার মুখ বন্ধ রয়েছে।

 
 ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে হাতি।


বর্তমান নাম ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাফারি পার্ক। জেলা শহর থেকে ৪৮ কিলোমিটার উত্তরে ও চকরিয়া উপজেলা থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে,কক্সবাজার জেলা দক্ষিণ বন বিভাগের ফাসিয়াখালি রেঞ্জের ডুলাহাজারা ব্লকে এর অবস্থান। মূলত হরিণ প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে ১৯৯৯ সালে এ পার্ক প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশ বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়।

বিলুপ্তপ্রায় ও বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও বংশবৃদ্ধিসহ মানুষের চিত্ত-বিনোদন, গবেষণার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক সংলগ্ন চকরিয়া উপজেলায়  স্থাপিত এ সাফারি পার্ক পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয় স্থান। হরিণ প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও বর্তমানে এখানে বাঘ, সিংহ, হাতি, ভালুক, গয়াল, কুমির, জলহস্তী, মায়া হরিণ, সাম্বার হরিণ, চিত্রা হরিণ, প্যারা হরিণও রয়েছে। এই পার্কে স্বাদুপানির কুমির যেমন আছে, তেমনি রয়েছে লোনা পানির কুমিরও।  



 
 ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের প্রবেশদ্বার।

পার্কে ঢুকতে প্রতি দর্শনার্থীর জন্যে ১০ টাকা মূল্যের টিকিট কিনতে হবে। ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য প্রবেশ ফি ৫ টাকা। ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা সফরের জন্যে দু’টি প্যাকেজ রয়েছে। ৩০ থেকে ১০০ জনের গ্রুপকে দিতে হয় ১০০টাকা প্রবেশ ফি। আর ১০০জনের বেশি শিক্ষার্থীদের গ্রুপের জন্য প্রবেশ ফি ২০০টাকা। বিদেশি পর্যটকদের জন্য ৫ ডলার বা সমপরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রা।  

রামু 
বৌদ্ধ বিহারের বা মন্দিরের জন্যে বিখ্যাত রামু। এখানে রয়েছে ছোট বড় অনেক বৌদ্ধ মন্দির। রাজারকুল এলাকায় পাহাড়চুড়ায় রামকোট বনাশ্রম বৌদ্ধ বিহার মন্দিরটি অবস্থিত। প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে ৩০৮ খ্রীষ্ট পূর্বে সম্রাট অশোক এটি নির্মাণ করেন। এর অভ্যন্তরে ২ টি বড় বুদ্ধ মুর্তি আছে। একটিতে গৌতম বুদ্ধ এর বক্ষাস্থি স্থাপিত হয়েছে।


 
 রামুতে অবস্থিত বৌদ্ধ মন্দির ।

রামুতে রয়েছে ২০০ একরের বেশি জায়গার নিারকেল বাগান। বলঅ হয়ে থাকে এটিই দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম নারিকেল বাগান। রামু মরিচ্যা সড়ক ধরে দক্ষিণে আধা কিলোমিটারের মধ্যে এর অবস্থান। ১৯৮১-১৯৮২ সালের দিকে মাত্র ৩৪ টি চারা রোপণের মাধ্যমে যাত্রা শুরু হয় এ বাগানের।


প্রচারের আড়ালে থাকা দর্শনীয় স্থান (পর্ব ২)

ড. জিনিয়া রহমান - ২৩ ডিসেম্বর ২০১৬, সময়-১২:৪৮
(প্রিয়.কম) প্রত্যেকেরই রয়েছে ভ্রমণপিপাসু একটা মন। কিন্তু কাজের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে ঘুরে বেড়ানো সব সময় সম্ভব হয়ে ওঠে না। বছরজুড়েই অপেক্ষা করতে হয় ছুটির জন্যে। বছর শেষে অফিসের পাওনা ছুটি, ফাইনাল পরীক্ষা শেষে বাচ্চাদের স্কুলের ছুটি বা বড়দিনের ছুটিতে এই ডিসেম্বরেই ঘুরে আসতে পারেন দূরে কোথাও।

প্রাত্যহিক জীবনের যান্ত্রিকতা থেকে একটু দূরে গিয়ে উপভোগ করতে পারেন প্রকৃতি। সতেজ একটা মন নিয়ে ফিরে এসে ফের নতুন উদ্যমে, নতুন বছরে শুরু করতে পারেন কোনো নতুন চ্যালেঞ্জ। কিন্তু কোথায় যাবেন? আমি বলবো সাতটা দিন সময় নিয়ে চলে যান দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে।

যেখানে আছে দিগন্ত বিস্তৃত নীল সমুদ্র, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত, সবুজ পাহাড় আর বন, মন্দির-প্যাগোডা, নারিকেল- সুপারির বাগান, লবণের ক্ষেত, বাংলাদেশের সর্বশেষ স্থলভাগ আর নীল পানি দিয়ে ঘেরা অপূর্ব সুন্দর এক দ্বীপ।  

কক্সবাজার বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম প্রধান পর্যটন এলাকা। প্রতি বছর লাখো পর্যটকের আগমন ঘটে ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্র সৈকতে, যা বিশ্বের দীর্ঘতমও বটে। তবে নিরিবিলি সময় কাটাতে চাইলে যেতে পারেন পর্যটন নগরী কক্সবাজার থেকে একটু দূরে, কোনো দর্শনীয় দ্বীপে। যেখানে জনসাধারণের ব্যাপক সমাগম না থাকলেও সৌন্দর্যের কোনো কমতি নেই।



কক্সবাজার সদর থেকে প্রায় ২৯ কিলোমিটার দূরের জনপদ উখিয়া। এক প্রান্তে বাংলাদেশ-মায়ানমারকে বিভক্তকারী নাফ নদী, অন্য দিকে বঙ্গোপসাগর। একসময় গভীর জঙ্গলে পূর্ণ ছিল উখিয়া। এখনও কিছু দুগর্ম পাহাড়ি এলাকা থেকে প্রায়ই বন্যহাতি হানা দেয় লোকালয়ে। হরিণের কথা কলা হলেও বর্তমানে বিলুপ্তির পথে। এখানকার ক্ষুদ্র নৃ-তাত্বিক গোষ্ঠী রাখাইনদের জীবনাচার পর্যটকদের আকৃষ্ট করে।
উখিয়ার অন্যতম আকর্ষণ ইনানী সৈকত। শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণের এ সৈকতটি হচ্ছে কক্সবাজার পর্যটনের ইমাজিং টাইগার। জেলা শহর থেকে টেকনাফ পর্যন্ত দীর্ঘ ১২০কিলোমিটার  সৈকতের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর, আকর্ষণীয় ও নয়নাভিরাম ইনানী। সৈতক জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ছোট বড় অসংখ্য প্রবাল, মৃত কোরালের উপরে বালি ও কাদা জমে সৃষ্টি করেছে বাড়তি সৌন্দর্যের।

ইনানী বিচ। ছবি: সংগৃহীত
ভালো সময় কাটানোর জন্যে হতে পারে এটি আপনার অন্যতম পর্যটন গন্তব্য। বন বিভাগের একটি মনোমুগ্ধকর রেস্ট হাউস রয়েছে, নতুন ভাবে গড়ে উঠেছে অনেক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট। সিনেমা ও নাটকের শুটিংস্পট হিসেবেও নজর কাড়ছে ইনানী। িএ সৈকত ঘিরে গড়ে উঠেছে নানা পিকনিক স্পটও।
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চিংড়ি পোনা উৎপাদনের অনেক হ্যাচারি এবং কুমিরের খামারও রয়েছে উখিয়াতে। পথের ধারে সারি সারি সুপারি গাছ বাড়িয়ে দিয়েছে এ জনপদের সৌন্দর্য। একপাশে সবুজ বন-পাহাড় আর আরেক পাশের সমুদ্র, এর মাঝেই চলে গেছে মেরিন ড্রাইভওয়ে। গাড়িতে, মোটর বাইক বা সাইকেলে যেতে পারেন মেরিন ড্রাইভওয়েতে। মেরিন ড্রাইভ দিয়ে টেকনাফ পৌঁছে যাওয়া যায়, যেভাবেই যান না কেন স্মৃতির ঝুলিতে এক অনন্য অভিজ্ঞতা জমা হবে নিঃসন্দেহে। 

মেরিন ড্রাইভওয়ে। ছবি সংগৃহীত 
উখিয়া সদরে রয়েছে পাতাবাড়ী বৌদ্ধ বিহার। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পূণ্যস্থান। প্রায় ২০০ বছর আগে বিহারটি স্থাপিত হয়েছিল বলে স্থানীয়দের ধারণা। এছাড়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের পাটুয়ারটেক সৈকতের কাছে নিদানিয়া পাহাড়ের ভেতরে রয়েছে সুড়ঙ্গ গর্তের সমাহার কানারাজার গুহা।
প্রায় ১৪ ফুট উঁচু ও ১০ ফুট বেড়’র সুড়ঙ্গটির প্রবেশ মুখ থেকে সোজা ১২০-১৫০ ফুট দূরত্বের, দুই দিকে দু’টো দরজা রয়েছে। আছে একটি করে বিশাল কক্ষও।
ইতিহাস বলে, অতীতে টেকনাফ-উখিয়া এলাকাটি শাসন করতো রাখাইন রাজরা। এক রাখাইনরাজ (এক চোখ অন্ধ) আত্মরক্ষার্থে এখানে একটি গুহা নির্মাণ করেছিলেন বলে কথিত আছে। গুহার অভ্যন্তরে প্রচুর ধন রত্ন আছে বলে স্থানীয়রা এটিকে আন্ধার মানিক বলেও ডাকেন।
সুড়ঙ্গ পথে শুষ্ক মৌসুমে একটি ট্রাক অনায়াসে প্রবেশ করতে পারে। তবে বর্ষা মৌসুমে বিষাক্ত সাপ আর নাম না জানা জীবজন্তুর ভয় তো রয়েই যায়। তবে বর্তমানে সংরক্ষণের অভাবে কানা রাজার গুহার মুখ বন্ধ রয়েছে।

ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক


ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে হাতি। ছবি: সংগৃহীত 
বর্তমান নাম ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাফারি পার্ক। জেলা শহর থেকে ৪৮ কিলোমিটার উত্তরে ও চকরিয়া উপজেলা থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে,কক্সবাজার জেলা দক্ষিণ বন বিভাগের ফাসিয়াখালি রেঞ্জের ডুলাহাজারা ব্লকে এর অবস্থান। মূলত হরিণ প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে ১৯৯৯ সালে এ পার্ক প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশ বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়।

বিলুপ্তপ্রায় ও বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও বংশবৃদ্ধিসহ মানুষের চিত্ত-বিনোদন, গবেষণার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক সংলগ্ন চকরিয়া উপজেলায়  স্থাপিত এ সাফারি পার্ক পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয় স্থান। হরিণ প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও বর্তমানে এখানে বাঘ, সিংহ, হাতি, ভালুক, গয়াল, কুমির, জলহস্তী, মায়া হরিণ, সাম্বার হরিণ, চিত্রা হরিণ, প্যারা হরিণও রয়েছে। এই পার্কে স্বাদুপানির কুমির যেমন আছে, তেমনি রয়েছে লোনা পানির কুমিরও। 

ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের প্রবেশদ্বার। ছবি সংগৃহীত

পার্কে ঢুকতে প্রতি দর্শনার্থীর জন্যে ১০ টাকা মূল্যের টিকিট কিনতে হবে। ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য প্রবেশ ফি ৫ টাকা। ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা সফরের জন্যে দু’টি প্যাকেজ রয়েছে। ৩০ থেকে ১০০ জনের গ্রুপকে দিতে হয় ১০০টাকা প্রবেশ ফি। আর ১০০জনের বেশি শিক্ষার্থীদের গ্রুপের জন্য প্রবেশ ফি ২০০টাকা। বিদেশি পর্যটকদের জন্য ৫ ডলার বা সমপরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রা।  

রামু 

বৌদ্ধ বিহারের বা মন্দিরের জন্যে বিখ্যাত রামু। এখানে রয়েছে ছোট বড় অনেক বৌদ্ধ মন্দির। রাজারকুল এলাকায় পাহাড়চুড়ায় রামকোট বনাশ্রম বৌদ্ধ বিহার মন্দিরটি অবস্থিত। প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে ৩০৮ খ্রীষ্ট পূর্বে সম্রাট অশোক এটি নির্মাণ করেন। এর অভ্যন্তরে ২ টি বড় বুদ্ধ মুর্তি আছে। একটিতে গৌতম বুদ্ধ এর বক্ষাস্থি স্থাপিত হয়েছে। 


রামুতে অবস্থিত বৌদ্ধ মন্দির । ছবি সংগৃহীত 

রামুতে রয়েছে ২০০ একরের বেশি জায়গার নিারকেল বাগান। বলঅ হয়ে থাকে এটিই দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম নারিকেল বাগান। রামু মরিচ্যা সড়ক ধরে দক্ষিণে আধা কিলোমিটারের মধ্যে এর অবস্থান। ১৯৮১-১৯৮২ সালের দিকে মাত্র ৩৪ টি চারা রোপণের মাধ্যমে যাত্রা শুরু হয় এ বাগানের।

নারিকেল

রামুর নারিকেল বাগান। 


পর্যটকদের আকৃষ্ট করবে রামুর রাবার বাগান। উপজেলার চৌমুহনী স্টেশন থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার উত্তরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশ ধরে এগোলেই চোখে পড়বে অসংখ্য রাবার বাগানের।  
কক্সবাজারের দর্শনীয় স্থান বলতে আমরা বিশেষত সমুদ্র সৈকত ও পরিচিত আরও কয়েকটি জায়গাকেই বুঝি। কিন্তু এর বাইরেও কক্সবাজারে রয়েছে সময় কাটানো ও উপভোগ করার মতো অনিন্দ্য সুন্দর কিছু জায়গা। কিন্তু সেগুলো সম্পর্কে তেমন আলোচনা নেই। তাই এবার সুযোগ পেলে ঘুরে আসুন প্রচারের আড়ালে থাকা ‘অপ্রচলিত’ মোহনীয় দর্শনীয় জায়গাগুলো থেকে। যা হতে পারে আপনার জীবনের অনন্য





Post A Comment: