নতুন বছর শুরু হয়েছে। অনেকেই নতুন বছরে নতুন কিছু করে থাকেন। আপনি কি ট্যাটু কিংবা উল্কি করানোর কথা ভাবছেন? তবে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্যেই। অন্য যেকোন আর্ট এর মত ট্যাটুর ও বিভিন্ন ধরণ থাকে। যার যার রুচি, পছন্দ ও চাহিদা অনুযায়ী ট্যাটুর মাঝে ভিন্নতা আসে।

 1-in-the-world-in-the-new-tattoo

নতুন বছর শুরু হয়েছে। অনেকেই নতুন বছরে নতুন কিছু করে থাকেন। আপনি কি ট্যাটু কিংবা উল্কি করানোর কথা ভাবছেন? তবে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্যেই। অন্য যেকোন আর্ট এর মত ট্যাটুর ও বিভিন্ন ধরণ থাকে। যার যার রুচি, পছন্দ ও চাহিদা অনুযায়ী ট্যাটুর মাঝে ভিন্নতা আসে।
পলিনেসিয়ান
পলিনেশিয়ান সংস্কৃতিতেই প্রথম ট্যাটু করানোর প্রচলন শুরু হয়। তখনকার দিনে নিউজিল্যান্ড, হাওয়াই ও সামোয়া এসব বিভিন্ন দ্বীপে আধ্যাত্বিক চর্চা করা হত। এই ট্যাটুগুলো তখন জ্যামিতিক আকার ও নকশায় মানুষের জীবনের উদ্দেশ্যের কথা বলতে পারত। কালো রঙ দিয়েই খুব গাড়ভাবে নকশা করা হত, যেটিতে শরীরের বেশ বড় অংশই ঢেকে যেত। উল্কি-শৈলীর প্রক্রিয়াটি একই সঙ্গে শান্ত, নিবিড় ও বেদনাদায়ক ছিল। আজকের দিনেও অনেক পলিনেশিয়ানরা তাদের পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য ট্যাটু করে থাকেন। এই সংস্কৃতি এখন পাশ্চাত্যেও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
 
ইরেজুমি
জাপানিজরা ১০০০ খ্রিস্টপূর্ব থেকেই ট্যাটু করিয়ে আসছেন। কিন্তু আজকের সময়ে যেটি ইরেজুমি বলে পরিচিত সেটির উদ্ভব হয় ইয়াওই যুগে। এই শিল্পটি সব সময়ই মাপে খুব বড় হয়। সাধারণত পুরো হাত, পিঠ এমনকি পুরো শরীর ঢেকে দেয়। রঙের দিক দিয়ে বেশ নিপুণ হয় এই ইরেজুমি। কিছু স্বতন্ত্র শৈলী আছে এই ট্যাটুর। যেমন, বুদ্ধর প্রতিকৃতি শুধুমাত্র কোমরের উপর হতে হবে, আর কোথাও হওয়া যাবে না। নির্দিষ্ট ধরণের প্রানী, ফুল এর জুড়ি করতে হবে। অবশ্য জাপানের ট্যাটুগুলো এখনো একটু সেকেলে ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন। তারপরেও এই ইরেজুমি স্টাইল ও পাশ্চাত্যে বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী ট্যাটু
এই স্টাইলই পাশ্চাত্যের সবচেয়ে প্রাচীন ও জনপ্রিয় ট্যাটু স্টাইল। কঠিন কিছু নিয়ম-কানুন মেনে এই উল্কি তৈরি করা হয় যাতে করে সহজেই সবার চোখে পড়ে। যেমন, আকারে ছোট কিন্তু খুব গাড় রঙের ব্যবহার, কালো রঙের আউটলাইন, অভিনব কিছু ছবি, এই বৈশিষ্ট্যগুলোই এই ট্যাটু কে অন্যগুলো থেকে আলাদা করে তোলে। এই ঐতিহ্যবাহী উল্কির ক্রমবিকাশ এর কৃতিত্ব দেয়া হয় সেইলর জেরিকে ( আসল নাম নরম্যান কলিন্স)। তিনি জাপানিজ ট্যাটু শিল্পীদের কাছ থেকে এই শৈলী শিখেছেন। এবং নিজ দেশ আমেরিকায় ফিরে নিজের মত করে একটি প্ল্যাটফর্ম দাঁড় করিয়েছেন। এই ট্যাটুর খুব সাধারণ কিছু বিষয় হল হৃদয়, গোলাপ, ঈগল ইত্যাদি।
 
নিও ট্র্যাডিশনাল
নাম থেকেই কিছুটা টের পাওয়া যাচ্ছে, নিও ট্রাডিশনাল ট্যাটু হল একেবারে গোড়াও না আবার একদম আধুনিক ও না। মাঝামাঝি পর্যায়ের মধ্যে পড়ে এগুলো। ১৯৫০ এর দিকে এই উল্কি-শৈলি খুব জনপ্রিয় হয়ে যায়। আধুনিক শিল্পীরাই এন নিজ হাতে সূচের নিখুঁত আবেশে একেকটি ট্যাটু তৈরি করেন। খুব গাড় কালো রঙ এবং আউটলাইনই এই ধরনের ট্যাটুর প্রধান বৈশিষ্ট্য। এইগুলোর একমাত্র অনন্যতা হল ত্রিমাত্রিক ডিজাইন, সাদা আউটলাইন ও বাহ্যিক নানা বিষয়।
 
আধুনিক
আধুনিক ট্যাটুগুলো মূলত পুরনো ও সেকেলে ট্যাটুগুলোর সংস্করণ। আশি ও নব্বই এর দশকে এগুলোর প্রচলন শুরু হয়। পুরনো ট্যাটুগুলোর মতই নতুন গুলোতেও গাড় ও মোটা করে কালো আউটলাইন করা হয়। তবে আধুনিক ট্যাটুগুলো নির্দিষ্ট কোন ছাঁচে সীমাবদ্ধ নয়। কার্টুন কিংবা গ্রাফিটি স্টাইলে, বাড়তি পরিসরে এবং ছন্দমূলক ডিজাইনে করা হয় এগুলো।

বাস্তববাদী ও প্রতিকৃতিমূলক
কিছু ট্যাটু বিশেষজ্ঞ যেন চামড়ায় ট্যাটু না, জীবন্ত একেকটি গল্প রচনা করে ফেলেন। আশ্চর্যজনক বিভিন্ন আদলে তারা একেকটি বাস্তবমুখী উল্কি এঁকে ফেলেন। এগুলোর মধ্যে থাকে প্রাকৃতিক ভূদৃশ্য, পশুপাখি, এমনকি মানুষের ছবিও। আধুনিক ট্যাটুর মতই এই ট্যাটুগুলোর উদ্দেশ্য হল আসল ছবিকেই যথাসম্ভব চামড়ায় ফুটিয়ে তোলা। বাস্তবমূলক ট্যাটুগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কঠিন হল মানুষের প্রতিকৃতি আঁকা। কারণ শুধু একজন মানুষের ছবিই না, ছবির মানুষের চরিত্রকেও শিল্পীর ফুটিয়ে তুলতে হয়। এই ট্যাটু গুলো রঙিন, কালো কিংবা ধূসর হতে পারে।

জ্যামিতিক
পুরনো জ্যামিতিক ধাতের উল্কিগুলো প্রাচীন কাল থেকেই খুব জনপ্রিয় ছিল। আধুনিক ট্যাটুগুলো আসার পর এর জনপ্রিয়তা যেন আরো বেড়েছে। উল্কি শিল্পীগণ এবং যারা এই উল্কি করান তারা মনে করেন যে জ্যামিতিক উল্কিগুলো আধ্যাত্বিক মাপের হয়। এই ট্যাটুগুলো সাধারণত কালো রঙ দিয়ে করা হয়। তবে মাঝে মাঝে রঙিন আদল ও দেয়া হয়।

বিন্দুকর্ম
আপাতদৃষ্টিতে সহজ মনে হলেও এই ট্যাটু সবচেয়ে কঠিন। খুব ধৈর্যশীল না হলে কোন শিল্পীর পক্ষে সম্ভব না এই উল্কি-শৈলি করা। একেকটি স্বতন্ত্র বিন্দুকণা থেকে এই বিশাল ও বিস্তৃত উল্কিগুলো তৈরি করা হয়। খুবই বেদনাদায়ক এই উল্কি গুলো। খুব নিখুঁত কিছু সূচের আঁচড়ে এই উল্কিগুলো আঁকা হয়। জ্যামিতিক আদলে বানানো ট্যাটুর ভেতরেও এই বিন্দুকণার উল্কিগুলোর ছাপ দেখা যায়। সাধারণত কালো ও ধূসর কালি দিয়ে করা হয় এই কাজগুলো।

জলরঙ
যত দিন যাচ্ছে উল্কি-শৈলীর পদক্ষেপগুলো আরো সহজ ও উন্নত হচ্ছে। তেমন ই একটি পদ্ধতি হল জল রঙ এর উল্কি। অত্যন্ত অভিনব উপায়ে এই উল্কিগুলো আঁকা হয়, যেন কাগজেই আঁকা জলরঙ এর মত। শুধু পার্থক্য একটাই, ঐ শিল্পীরা করেন তুলি দিয়ে আর এই শিল্পীরা করেন ছুঁচ এর সাহায্যে। জলরঙ উল্কিগুলো তথাকথিত কালো আউটলাইনের না হয়ে খুব প্রাকৃতিক কিছু বৈশিষ্ট্য ধারণ করে।যেমন যেকোন চামড়ায় সহজেই মানিয়ে যায় এই ট্যাটু। মাত্র কয়েক বছর হল এই ট্যাটু আসার, দেখা যাক ভবিষ্যতে কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা পায় এটি।

স্কেচ
জলরঙ এর মতই স্কেচও তথাকথিত নিয়মে কাগজে করা হয়। ট্যাটু ডিজাইন গুলো দেখে মনে হয় যে কাগজেই মনে হয় করা ওগুলো। এই উল্কিগুলো সাধারণত পুরনো আদলেই করা হয়ে থাকে। কিন্তু একটু সৃজনশীলতা ও যতœ মাখানো। অনেক সময় স্কেচ ট্যাটু ও জলরঙ ট্যাটু এক করেই অভিনব বানানো হয়।

বায়োমেকানিক্যাল
যেবার রিডলি স্কট এর সাইন্স ফিকশন থ্রিলার ছবি ‘অ্যালিয়েন’ মুক্তি পেল এবং জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠলো, মানুষ যেন ফ্যান্টাসির জগতে বিচরণ করা শুরু করলো। তারা এমনই মজে গেল ঐ জগতে যে ট্যাটুতেও বায়োমেকানিক্যাল বস্তু আনা শুরু করলো। যারা এই উল্কি করাণ তাদের শরীরে বাস্তব ও ফ্যান্টাসির মধ্যে এক অজানা টান অনুভব করেন। এক অভুতপূর্ব মিল খুঁজে পান দুইয়ের মধ্যে।

ট্র্যাশ পল্কা
ট্র্যাশ পলকা ব্যাপারটি আসলে কি এটা বর্ণনা করা কিছুটা শক্ত। কিন্তু যখনই নতুন ধরনের কোন উল্কি দেখা যায়, পলকা ট্যাটুকে মুহূর্তের মধ্যে চেনা যায়। এই উল্কিতে বড় ও ভরাট করে কালো, লাল রঙ ব্যাবহার করা হয়। জার্মান শিল্পী ভল্কো মারসচকি ও সিমন ফাফ কে ট্র্যাশ পলকা উল্কি ২০১৪ সালে উদ্ভাবন করার কৃতিত্ব দেয়া হয়। তখন থেকে এটি আমেরিকা ও ইউরোপে ব্যাপক সুনাম কুড়িয়েছে।

Post A Comment: