কাজ, কাজ আর কাজ। চাই একটা বিরতি। একটু যদি ফুরসত মেলে তাহলে বেড়িয়ে আসা যায় ঢাকার আশপাশে কিংবা এর বাইরে কোথাও। ভ্রমণ যেখানেই হোক, দূরে কিংবা কাছে, সবার আগে দরকার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে নেওয়া। যাতে করে আপনার ভ্রমণের আনন্দটা মাটি না হয়ে যায়।

কাজ, কাজ আর কাজ। চাই একটা বিরতি। একটু যদি ফুরসত মেলে তাহলে বেড়িয়ে আসা যায় ঢাকার আশপাশে কিংবা এর বাইরে কোথাও। ভ্রমণ যেখানেই হোক, দূরে কিংবা কাছে, সবার আগে দরকার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে নেওয়া। যাতে করে আপনার ভ্রমণের আনন্দটা মাটি না হয়ে যায়।

পোশাক নির্বাচন
প্রথমেই পোশাক বেছে নেওয়ার পালা। পোশাকের ব্যাপারে আগেই জেনে নিন যেখানে যাচ্ছেন সেখানকার আবহাওয়া কেমন। এমনকি ঢাকায় সাধারণত যে তাপমাত্রা বিরাজ করে, সিলেটেই তার চেয়ে অনেক কম তাপমাত্রা। আর দেশের বাইরে ভ্রমণের ক্ষেত্রে আবহাওয়ার ব্যাপারটি তো আরও গুরুত্বপূর্ণ। কত দিন থাকবেন, কোথায় বেড়াবেন, পরিবহনব্যবস্থা—সব বিবেচনা করেই পোশাক নির্বাচন করুন।


বাক্স-প্যাটরা
ভ্রমণের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হলো বাক্স-প্যাটরা গোছানো। দরকারি জিনিসপত্র নেওয়ার জন্য প্রয়োজন সঠিক আকৃতির ও সহজেই বহনযোগ্য ব্যাগ। ভ্রমণ কোথায় করছেন, আর কত দিনের ভ্রমণ—তার ওপর নির্ভর করবে আপনার জিনিসপত্রের পরিমাণ। আর সেই হিসাবেই ব্যাগ কিনে নিন।


কথা হয় রাজধানীর আজিজ সুপার মার্কেটের ফোর ডাইমেনশনসের বিক্রেতা আজিজুল করিমের সঙ্গে। তিনি জানান, ‘ভ্রমণ যদি হয় ২-৩ দিনের, তবে বড় ব্যাগ না নেওয়াই ভালো। সবচেয়ে ভালো বহনযোগ্য ব্যাগ নেওয়া। এ ক্ষেত্রে ট্র্যাভেল ব্যাগ সুবিধাজনক। আর ভ্রমণ যদি হয় দীর্ঘদিনের তাহলে ট্র্যাভেল ব্যাগের চেয়ে ট্রলি ব্যাগই বেশি উপকারী। কেননা এগুলোর লম্বা হাতল ধরে চাকার সাহায্যে সহজেই গড়িয়ে নেওয়া যায়।’


আপনার সুবিধার জন্য নিতে পারেন কাঁধে ঝোলানো বড় কিংবা মাঝারি আকৃতির ব্যাগ। এমন ব্যাগে আবার হাতল, চাকাযুক্ত ব্যবস্থাও থাকে। তাই এর সুবিধা হলো এগুলো ট্রলি ব্যাগের মতো গড়িয়ে কিংবা হাতল ধরে বহন করা যায়। এতে আপনি চাইলে ল্যাপটপ, ক্যামেরাও নিয়ে নিতে পারেন।


তবে হ্যাঁ, ব্যাগ কিনবার সময় আপনার বয়স, পরিবারের সদস্য সংখ্যা কিংবা হাল আমলের স্টাইল মাথায় রাখুন। সেই সঙ্গে ব্যাগের চেইন, হ্যান্ডেল, ভেতরের চেম্বার, ব্যাগের কাপড় পানিরোধক কি না যাচাই করে নিন।


যন্ত্রপাতি
মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ক্যামেরা, ইলেকট্রিক রেজার কিংবা চুলের বিভিন্ন স্টাইলারসহ প্রযুক্তিগত এই জিনিসগুলোর প্রথমেই একটা তালিকা তৈরি করে নিন। সেই অনুযায়ী ঝটপট গুছিয়ে ফেলুন। ক্যামেরা, ল্যাপটপের জন্য আলাদাভাবে পানি নিরোধক কাভার নিতে পারেন। সঙ্গে ল্যাপটপ আর মোবাইল ফোনের চার্জার, পাওয়ার অ্যাডাপ্টার নিতে ভুলবেন না যেন। কোনো কোনো হোটেলে মাল্টি-প্লাগের ব্যবস্থা থাকে না। তাই একটা মাল্টি-প্লাগ সঙ্গে নিয়ে নিন।


আর চুলের স্টাইলার, ড্রায়ার কিংবা ইলেকট্রিক রেজার ছোট আকৃতির আলাদা কোনো ব্যাগে নিয়ে নিন। এ ক্ষেত্রে একটু ভারী কাপড়ের ব্যাগ বাছাই করা ভালো। যাতে ইলেকট্রিক এই জিনিসগুলো পানি বা অন্য কোনো কারণে নষ্ট না হয়।


জুতো জোড়া
এ ক্ষেত্রে ভ্রমণ স্থানের আবহাওয়া, নির্বাচিত পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে জুতো জোড়া গুছিয়ে নিন। বাটার এলিফ্যান্ট শো-রুমের সহব্যবস্থাপক আকরাম হক জানান, ভ্রমণে সাধারণত ফ্ল্যাট, কেডস বা স্নিকার ব্যবহার করাই ভালো। যেহেতু অতিরিক্ত হাঁটতে হয়, তাই এক জোড়া স্নিকার আর ফ্ল্যাট স্যান্ডেল নিতে পারেন। ভ্রমণের সময় এমন জুতা অনেক আরামদায়ক।


আর সমুদ্রসৈকতের পাড়ে প্লাস্টিকের স্যান্ডেল জোড়ার বিকল্প নেই। প্রয়োজনে অতিরিক্ত এক জোড়া জুতা নিতে পারেন।


টুকিটাকি আরও কিছু
আসল জিনিসগুলো গোছানো শেষ। কিন্তু টুকিটাকি প্রয়োজনীয় আরও অনেক কিছুই কিন্তু বাকি। নিত্যদিনের টুথপেস্ট, ব্রাশ, সাবানসহ বিভিন্ন টয়লেট্রিজ, প্রসাধন কিংবা অলংকারসামগ্রী গুছিয়ে নিন। সবচেয়ে যেটা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো ওষুধ। যেখানেই যান না কেন, সঙ্গে ছোট একটি ফাস্ট এইড বাক্স রাখুন। এ ছাড়া মশা নিধনকারী স্প্রে, হালকা খাবার ও যথেষ্ট পরিমাণে মিনারেল ওয়াটার সঙ্গে রাখুন।

Post A Comment: