শীতের আগমন একটু হলেও টের পাওয়া যাচ্ছে। ত্বকের একটু বেশি যত্ন নেওয়া শুরু করতে হবে এখন থেকেই। সারা দিনের কর্মব্যস্ততা শেষে হাতের ত্বক কেমন যেন মলিন হয়ে ওঠে। মাসে এক-দুবার হলেও ম্যানিকিউর করা উচিত, এমনটাই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

 শীতের আগমন একটু হলেও টের পাওয়া যাচ্ছে। ত্বকের একটু বেশি যত্ন নেওয়া শুরু করতে হবে এখন থেকেই। সারা দিনের কর্মব্যস্ততা শেষে হাতের ত্বক কেমন যেন মলিন হয়ে ওঠে। মাসে এক-দুবার হলেও ম্যানিকিউর করা উচিত, এমনটাই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

আবহাওয়ার কারণেও ত্বক ধীরে ধীরে এ সময় আর্দ্রতা হারাতে থাকবে। সৌন্দর্যচর্চার প্রতিষ্ঠান ওম্যানস ওয়ার্ল্ডের রূপবিশেষজ্ঞ এবং পরিচালক ফারনায আলম বলেন, ‘বিভিন্ন ঋতুতে বাতাসে আর্দ্রতার তারতম্য দেখা যায়। আমাদের ত্বক এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে না। আবহাওয়ার কারণে ছত্রাকজনিত সংক্রমণ (ফাঙাল ইনফেকশন), অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে।’


বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের প্যাক লাগানো ছাড়াও নিয়মিত ম্যানিকিউর করা উচিত। বাজারে নানা ধরনের ম্যানিকিউর কিট পাওয়া যায়। পায়ের যত্নে অর্থাৎ​ পেডিকিউর করাতেও এগুলো কাজে লাগে। এসব কিটে ফাইলার, বাফারসহ বিভিন্ন সামগ্রী থাকে। তবে অনেকেই ম্যানিকিউর করার ধাপগুলো সঠিকভাবে না জানার কারণে পারলারে গিয়ে করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
আয়ুর্বেদিক রূপবিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা বলেন, ‘হাতের কালচে বরন, মৃত কোষ পরিষ্কারে মাসে অন্তত দুইবার ম্যানিকিউর করা যেতে পারে। আপনি চাইলে ঘরে বসেই সেরে নিতে পারেন প্রক্রিয়াটি।’
এ জন্য বেশ কিছু ধাপ মেনে চলতে হবে।



১.নখে নেইলপলিশ থাকলে রিমুভার দিয়ে সবার আগে সেটা তুলে ফেলুন। নেইলপলিশ তোলার ক্ষেত্রে সবার প্রথমে কড়ে আঙুল থেকে শুরু করে বুড়ো আঙুল পর্যন্ত রিমুভার দিয়ে পরিষ্কার করে নিন।


২.হাতের নখ কেটে নিন। নেইল কাটার যাতে পরিষ্কার থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। তারপর নেইল ফাইলার দিয়ে ফাইল করে নিন। নখের আকৃতি ঠিক রাখার জন্যই এই ফাইলার।


৩.এরপর একটি বাটিতে কুসুম গরম পানি নিন। এতে সামান্য পরিমাণ সি-সল্ট বা লবণ মিশিয়ে নিতে পারেন। স্ক্রাবের কাজ করবে। এবার একটি পরিষ্কার তোয়ালে পানিতে ভিজিয়ে নিয়ে হাত পরিষ্কার করে মুছে নিন।


৪.এবার স্ক্রাবিং। প্রতিটি হাত নরম ব্রাশ দিয়ে ৫ মিনিট করে মালিশ করে নিন। মালিশের সময় হাতের আঙুলগুলো টান টান করে রাখা ভালো।


৫.স্ক্রাবিং হয়ে গেলে কুসুম গরম পানি দিয়ে হাত ধুয়ে মুছে নিন। মুলতানি মাটি, সামান্য হলুদ মিশিয়ে তৈরি প্যাক লাগান। প্যাক শুকিয়ে গেলে কবজি পর্যন্ত দুই হাত হালকা গরম পানিতে ডুবিয়ে রাখুন।


৬.এবার নখ। কিউটিক্যাল জেল একটা নেইল স্টিকে নিয়ে নখের ওপর মেখে নিন। এই জেল কিন্তু শুধুই নখের জন্য। এর সঙ্গে স্টিকের কম ধারালো অংশ দিয়ে ঘষে নখের ওপর জমে থাকা ধুলোবালি কিংবা ডেড পার্ট তুলে ফেলুন। স্টিকের ধারালো অংশটি ব্যবহার করুন নখের ভেতরকার নোংরা পরিষ্কারের জন্য।


৭.নখ পরিষ্কার হয়ে গেলে পানি দিয়ে মুছে নিন। এ তো গেল কিউটিক্যাল জেলের কাজ। এবার এক টুকরো লেবু দিয়ে আবারও নখ পরিষ্কার করে নিন। লেবুর রসের কারণে নখ উজ্জ্বল দেখাবে।


৮.কিউটিক্যাল কাটার দিয়ে নখের দুপাশের মরা চামড়া তুলে ফেলুন। একই যন্ত্র দিয়ে নখের বাড়তি অংশও কেটে নিন। এ ক্ষেত্রে খেয়াল রাখুন, আপনি নখে কী ধরনের আকৃতি দিতে চান। একেক জনের নখের ধরন কিন্তু একেক রকম। কারও চার কোনা, লম্বাটে আবার কারও গোলাকৃতির। সেই অনুযায়ী নখটা কেটে নিন।


৯.এবারে ময়েশ্চারাইজার। ত্বকের শুষ্কতা রোধের জন্য ময়েশ্চারাইজারের কোনো বিকল্প নেই। এমনকি যাঁদের ত্বক তৈলাক্ত, তাঁরাও সামান্য পরিমাণে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।


১০.ঝটপট নেইলপলিশ লাগিয়ে নিন। নেইলপলিশ দেওয়ার সময় সবার আগে বেস কোট দিন। তারপর একে একে মূল রং এবং টপ কোট দিয়ে নিন।


খেয়াল করুনযাঁরা নেইলপলিশ দিতে চান না, তাঁরা বাফার দিয়ে ঘষে নখটা আরেকটু পরিষ্কার করে নিতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, ম্যানিকিউর করার প্রতিটি সামগ্রী যাতে পরিষ্কার থাকে। প্রতিবার ব্যবহারের আগে জিনিসগুলো সামান্য গরম পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে।যদি এত কিছু করতে না চান তাহলে হালকা গরম পানিতে শ্যাম্পু গুলে হাত ভিজিয়ে রাখুন ১০ থেকে ১৫ মিনিট। পানিতে সামান্য লবণ কিংবা লেবুর রস ব্যবহার করতে পারেন। এতে জীবাণু কমে যায়। তারপর হাত-পা পানি থেকে উঠিয়ে স্ক্র্যাব করে নিন। নখে একটু ভ্যাসলিন লাগিয়ে চারপাশ পরিষ্কার করে নিন। লেবুর রসও খুব ভালো পরিষ্কারক হিসেবে কাজ করে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, পরিষ্কার করার ব্রাশটা যাতে নরম হয়। আর লেবুর রস দীর্ঘক্ষণ যাতে ত্বকে না লেগে থাকে। এতে অনেকের ত্বকে জ্বালাপোড়া করে।

Post A Comment: