বাঘ মেরে ফেলার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি কারণ হলো আত্মরক্ষা। নিজেকে রক্ষা করতেই হিংস্র বাঘকে মারে মানুষ। তবে বাংলাদেশে শুধু আত্মরক্ষা নয়, অদ্ভুত কিছু কারণে বাঘদের হত্যা করা হয়।




বাঘ মেরে ফেলার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি কারণ হলো আত্মরক্ষা। নিজেকে রক্ষা করতেই হিংস্র বাঘকে মারে মানুষ। তবে বাংলাদেশে শুধু আত্মরক্ষা নয়, অদ্ভুত কিছু কারণে বাঘদের হত্যা করা হয়।


বাংলাদেশের সুন্দরবনে একসময় বাঘেদের ঘাঁটি ছিল। কিন্তু দিন দিন সে সংখ্যা কমে যাচ্ছে।


যুক্তরাজ্যের ক্যান্টাবেরির কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সামিয়া সাইফ এ বছরের অক্টোবরে ‘ওরিক্স’ নামের একটি সাময়িকীতে সুন্দরবনের বাঘ হত্যার কারণ নিয়ে নিয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন। তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা সুন্দরবনে বাঘ হত্যার পেছনে চারটি কারণ খুঁজে বের করেছেন।


প্রথম কারণটি হলো আত্মরক্ষা। সুন্দরবনে মানুষখেকো অনেক বাঘ রয়েছে। প্রতিবছর সেখানে বাঘের হামলায় গড়ে ৩০ জন মারা যায়। মানুষ নিজেকে রক্ষা করতে বাঘ মেরে ফেলে। বাঘ সাধারণত হরিণের মাংস খায়। তবে মাঝেমধ্যে গোমাংসও ভক্ষণ করে থাকে। মূল্যবান গোসম্পদ হারিয়ে খেপে যান কৃষকেরা। তাই রাগেও অনেকে বাঘ মেরে ফেলে।

বন্য প্রাণীর অবৈধ বাণিজ্যও বাঘ হত্যার কারণ। বাঘের শরীরের বিভিন্ন অংশ দিয়ে প্রাচীনকাল থেকে ওষুধ তৈরি হয়ে আসছে। চামড়া দিয়ে ঘরের শোভা বাড়ানো হয়। শৌখিন ব্যবহার্য জিনিসেও থাকে বাঘের চামড়া। এসব কারণেও পাচারকারীরা বাঘ হত্যা করে।


সুন্দরবনের জলদস্যুরাও বাঘ হত্যা করে। তাদের আচরণ অনেকটা ইতালির মাফিয়াদের মতো। তারা সুন্দরবনসংলগ্ন নদীতে ঘোরাফেরা করা জেলেদের অপহরণ করে নিয়ে যায়। বাঘেদের হত্যা করে।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে সুন্দরবনসংলগ্ন গ্রামের একজন বাসিন্দা সামিয়া সাইফকে বলেন, জলদস্যুদের কাছে সব সময় অবৈধ অস্ত্র থাকে। তাই বাঘ হত্যা করা তাদের কাছে কোনো ব্যাপারই নয়।


জলদস্যুদের হাতে অপহৃত ও পরে উদ্ধার পাওয়া স্থানীয় এক জেলের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে গ্রামের ওই বাসিন্দা বলেন, ওই জেলে জলদস্যুদের একটি বাঘ হত্যা করতে দেখেছে।


মাছ ধরার ট্রলারের একজন মালিক জানান, গত এক বছরে তাঁর ট্রলারে চলাচলকারী ১৭ জেলেকে অপহরণ করা হয়েছিল। জেলেরা অপহরণকারীদের ট্রলারে তিনটি বাঘের মাথার খুলি দেখেছিলেন।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই গ্রামের আরেক বাসিন্দা বলেন, জলদস্যুরা তাঁকে তিনবার অপহরণ করে। শেষবার অপহরণের পর তাঁকে একটি ট্রলারে তোলা হয়। সেখানে রাখা একটি বস্তার মধ্যে তিনি বাঘের পা দেখতে পান।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক এক বনদস্যু সামিয়া সাইফকে বলেন, বনের কোনো নতুন এলাকায় ঢুকলেই তিনি মাটিতে বাঘের পায়ের ছাপ খুঁজতেন। ছাপ মিলিয়ে মিলিয়ে বাঘ খুঁজে বের করতেন। এরপর বাঘ শিকার করতেন।


জলদস্যুদের হাতে সুন্দরবনে কত বাঘ মারা পড়েছে, তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান মেলেনি। তবে সামিয়া সাইফ বলছেন, জলদস্যুরা অনেক সময় মানুষকে বাঁচাতেও বাঘ হত্যা করে। পরে সেই মরা বাঘের চামড়া ও শরীরের বিভিন্ন অংশ বিক্রির টাকা সামাজিক কল্যাণের জন্য ব্যয় করে।


স্থানীয় ঐতিহ্য, বিশ্বাস ও সংস্কৃতির কারণেও জলদস্যুরা বাঘ হত্যা করে থাকে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জলদস্যুদের বন্ধুস্থানীয় এক ব্যক্তির ভাষ্য, জলদস্যু দলের অনেক নেতা বাঘের দাঁত দিয়ে তৈরি লকেট ব্যবহার করেন। পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় ওই লকেট পরেন। বাঘের দাঁতের লকেটকে জলদস্যুরা পৌরুষের প্রতীক মনে করে।


জলদস্যুরা পুরোনো অস্ত্র দিয়ে অবলীলায় বাঘ মেরে ফেলে। ২০০৯ সালে তাঁরা দুজন বনরক্ষীকেও হত্যা করেছে। 

Post A Comment: