বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নীতিমালার তোয়াক্কা না করে চালকবিহীন ছোট উড়ন্ত যান বা ড্রোন এ দেশে উড়ছে। বাণিজ্যিকভাবে ড্রোন আমদানির ওপর এক বছর ধরে স্থগিতাদেশ রয়েছে। তবু ছোট এই উড়ন্ত যান বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। চাইলেই ভাড়াও পাওয়া যায়। ক্রেতার পছন্দ অনুযায়ী কিছু ড্রোন দেশেই তৈরি করে দিচ্ছে কিছু প্রতিষ্ঠান।


বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নীতিমালার তোয়াক্কা না করে চালকবিহীন ছোট উড়ন্ত যান বা ড্রোন এ দেশে উড়ছে। বাণিজ্যিকভাবে ড্রোন আমদানির ওপর এক বছর ধরে স্থগিতাদেশ রয়েছে। তবু ছোট এই উড়ন্ত যান বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। চাইলেই ভাড়াও পাওয়া যায়। ক্রেতার পছন্দ অনুযায়ী কিছু ড্রোন দেশেই তৈরি করে দিচ্ছে কিছু প্রতিষ্ঠান।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, মূলত আকাশ থেকে ভিডিওচিত্র ধারণ ও ছবি তোলার কাজে ড্রোন ব্যবহৃত হচ্ছে।


এনবিআরের স্থগিতাদেশের কারণে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত ১৪ মাসে আমদানি করা ৬১টি ড্রোন আটক করা হয়। এগুলো খেলনা হিসেবে আমদানির চেষ্টা করা হয়। ড্রোনগুলো দূরনিয়ন্ত্রণ (রিমোট কন্ট্রোল) যন্ত্রের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এগুলো ৪০০ ফুট বা ৪০তলা ভবনের সমান উচ্চতায় উড়তে সক্ষম। ওড়ার সময় কোনো শব্দ হয় না। পাঁচ কিলোমিটার দূর থেকে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা যায়।ড্রোন ওড়ানোর জন্য এ বছরের ১০ জানুয়ারি একটি নীতিমালা করে বেবিচক, যাতে বলা হয়েছে, ড্রোন ওড়ানোর জন্য অনুমোদন নিতে হবে বেবিচকের কাছ থেকে। এ বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত প্রায় ২০০টি ড্রোন ওড়ানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।


বেবিচকের পক্ষ থেকে সম্প্রতি এক বিজ্ঞাপনে বলা হয়, কিছু ব্যক্তি ও সংস্থা অনুমতি না নিয়ে দেশের আকাশে ড্রোন ওড়াচ্ছে। এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে নিয়মিত উড্ডয়নকারী বিমানের সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ড্রোন ওড়ানোর অন্তত ৪৫ দিন আগে বেবিচকের কাছ থেকে নির্ধারিত ফরমে অনুমতি নিতে হবে।


নীতিমালা প্রণয়নের পর ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও ড্রোন ওড়ানোয় অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না। ব্যবহারকারীরা খুব সহজেই ড্রোন ভাড়া করছেন। দেখা গেছে, এক দিনের জন্য ১৫ হাজার টাকায় ড্রোন ভাড়া দেওয়া হয়। রাজধানীতে ৮ থেকে ১০টি প্রতিষ্ঠান ভাড়া দেয়। ব্যক্তিগতভাবেও অনেকে ড্রোন ভাড়া দিয়ে থাকেন।


বেবিচকের পরিচালক (ফ্লাইট সেইফটি) উইং কমান্ডার জিয়াউল কবির প্রথম আলোকে বলেন, ড্রোন চালানোর বিষয়ে যাঁদের জ্ঞান রয়েছে, শুধু তাঁদের ওড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পরে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সনদ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। অনুমতি ছাড়া ড্রোন ওড়ানো হলে পুলিশকে জানানো হচ্ছে।ড্রোন ভাড়া দেয় এ রকম একটি প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মালিক বলেন, কোনো জায়গায় টেলিভিশনের বিজ্ঞাপন, নাটক ও সিনেমার শুটিংয়ের কাজে ড্রোন ভাড়া নেন ব্যবহারকারীরা। এর আগে স্থানীয় থানা-পুলিশকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হয়। যাঁরা ভাড়া নেন, তাঁরাই পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করেন।


ড্রোন ভাড়া দেয় এমন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা জানান, চীনের তৈরি কোনো কোনো ড্রোন প্রায় এক হাজার ফুট ওপরে উড়তে পারে। ঢাকার এলিফ্যান্ট রোড, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডির কিছু প্রতিষ্ঠান খুচরা যন্ত্রাংশ সংযোজন করে ড্রোন তৈরি করে দিচ্ছে। এলিফ্যান্ট রোডের এমএমআরসি টেকনোলজি লিমিটেড নামে একটি ড্রোন বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করে জানা গেছে, পেশাদার কাজে ব্যবহারের উপযোগী একটি ড্রোন তারা এক লাখ টাকায় তৈরি করে দিতে পারে।


২০১৫ সালের নভেম্বর মাস থেকে ড্রোন আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এনবিআর। ঢাকা কাস্টম হাউসের কমিশনার লুৎফর রহমান বলেন, আমদানি নীতিমালায় ড্রোন সম্পর্কে নির্দেশনা নেই।

Post A Comment: