রিয়াল মাদ্রিদ কোচ জিনেদিন জিদানের কোনো সংশয়ই ছিল না ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ‘শ্রেষ্ঠত্ব’ নিয়ে। কাল তাঁর হ্যাটট্রিকে নগর-প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ৩-০ গোলে জয়ের পর জিদান বুঝে ফেলেছেন ২০১৬ সালের ব্যালন ডি’অর পুরস্কারটি কার হাতে উঠতে চলেছে। রোনালদো শনিবার রাতে কেবল হ্যাটট্রিকই করেননি, মাদ্রিদ ডার্বিতে ১৮ গোল করে রিয়াল গ্রেট আলফ্রেডো ডি স্টেফানোর রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন।




রিয়াল মাদ্রিদ কোচ জিনেদিন জিদানের কোনো সংশয়ই ছিল না ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ‘শ্রেষ্ঠত্ব’ নিয়ে। কাল তাঁর হ্যাটট্রিকে নগর-প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ৩-০ গোলে জয়ের পর জিদান বুঝে ফেলেছেন ২০১৬ সালের ব্যালন ডি’অর পুরস্কারটি কার হাতে উঠতে চলেছে। রোনালদো শনিবার রাতে কেবল হ্যাটট্রিকই করেননি, মাদ্রিদ ডার্বিতে ১৮ গোল করে রিয়াল গ্রেট আলফ্রেডো ডি স্টেফানোর রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন।


জিদানকে ব্যালন ডি’অর নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে। জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, এবার রোনালদোর এই পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু। উত্তরে সরাসরিই তিনি বলেছেন মনের কথাটা, ‘রোনালদোর শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে আমার মধ্যে কোনো সংশয় কোনো দিনই ছিল না। আজ রাতে সে নিজেই এ নিয়ে সব বিতর্কের অবসান ঘটাল।’


অ্যাটলেটিকোর ঘরের মাঠ ভিসেন্তে ক্যালদরনে কালই ছিল শেষ ডার্বি ম্যাচ। অ্যাটলেটিকো দর্শকদের হাতে ছিল নানা ধরনের ব্যানার। যার একটিতে লেখা ছিল, ‘আমাদের উত্তরাধিকারটা চিরদিনের।’ নতুন ঘরের মাঠে যাওয়ার আগে ভিসেন্তে ক্যালদরনের শেষ দৃশ্যটা অবশ্য পুরোপুরি নিজের করে নিয়েছেন পর্তুগিজ তারকা নিজে। শেষ ডার্বিতে হ্যাটট্রিক করে ইতিহাসে নিজের নামটা সোনার হরফেই খোদাই করে রাখলেন রোনালদো।


২৩ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে গোল করে রিয়ালকে এগিয়ে দেন রোনালদো। তাঁর ফ্রি কিক স্টিফান সাভিচের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে বোকা বানায় অ্যাটলেটিকো গোলকিপার ইয়ান ওবলাককে।


রোনালদোর দ্বিতীয় গোলটি আসে পেনাল্টি থেকে। বক্সের মধ্যে তিনি নিজেই সাভিচের ফাউলের শিকার হয়ে পেনাল্টিটি আদায় করে নেন। প্রাপ্ত পেনাল্টি থেকে গোলকিপার ওবলাককে পরাস্ত করেন তিনি সহজেই। হ্যাটট্রিকটি পূরণ করেন গ্যারেথ বেলের ক্রস দারুণভাবে কাজে লাগিয়ে। এই মৌসুমে এটি রোনালদোর দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক।


মৌসুমের শুরুটা একেবারেই ভালো হয়নি রোনালদোর। নির্দিষ্ট করে বললে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর মৌসুমের এত বাজে শুরু এর আগে কখনোই করেননি তিনি। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ফর্মটা খারাপ যাওয়ার পরেও এই মুহূর্তে লা লিগার শীর্ষ গোলদাতাদের সঙ্গেই আছেন তিনি। কালকের হ্যাটট্রিকে ৮ গোল করে তিনি পাশে বসলেন লিওনেল মেসি ও লুইস সুয়ারেজের পাশে।


ম্যাচ শেষে সতীর্থদের প্রশংসাতেও ভেসেছেন রোনালদো। ডিফেন্ডার মার্সেলো বলেছেন, ‘রোনালদোর প্রশংসা করার মতো যথেষ্ট শব্দ আমার জানা নেই। সবারই উচিত আজকের ম্যাচটার রিপ্লে সময় করে দেখে নেওয়া। তাহলেই বোঝা যাবে রোনালদো আসলে কী জিনিস।’


রিয়াল উইঙ্গার লুকাস ভাসকুয়েজের মতে, ‘এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে রোনালদো তাঁর সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দিলেন। রোনালদোর সামর্থ্য নিয়ে যাঁদের মনে সংশয় ছিল, তাঁরাও আজকের পর চুপ হয়ে যাবেন।’

Post A Comment: