সুদূরের তৃষ্ণা মানুষের সহজাত কিন্তু সেই তৃষ্ণা মেটানোর সুযোগ তো সহজলভ্য নয়। তাই আমরা গৃহী মানুষেরা সংসার-শিকড়ে আবদ্ধ হয়ে সারা জীবন সুদূরের পানে চেয়ে থাকি যদি কখনো সুযোগ আসে।



সুদূরের তৃষ্ণা মানুষের সহজাত কিন্তু সেই তৃষ্ণা মেটানোর সুযোগ তো সহজলভ্য নয়। তাই আমরা গৃহী মানুষেরা সংসার-শিকড়ে আবদ্ধ হয়ে সারা জীবন সুদূরের পানে চেয়ে থাকি যদি কখনো সুযোগ আসে। 


নেপাল ভ্রমণ সব সময় বিধেয় নয়। সেখানে রয়েছে আবহাওয়ার আতিশয্য। শীতের সময় (নভেম্বর-মার্চ) নেপালে থাকে কনকনে শীত আর কুয়াশা। আবার মে থেকে আগস্ট বর্ষাকাল। সারা দিন আকাশে মেঘের ঘনঘটা আর মুহুর্মুহু বর্ষণ। এ দুই সময়ে হিমালয় মেঘ আর কুয়াশার চাদরে নিজেকে মুড়িয়ে ধ্যানমগ্ন হয়।

পাহােড় অাঁকা–বঁাকা নদী‘চিতোয়ান’ নেপালের একটি জেলা। চিতোয়ান শব্দের অর্থ ‘জঙ্গলের হৃদয়’। তার মানে চিতোয়ান দেখতে যাওয়ার উদ্দেশ্যই হলো জঙ্গল দেখা।


কাঠমান্ডু থেকে চিতোয়ানের দূরত্ব ১৫০ কিলোমিটার। পোখরা থেকেও প্রায় তাই।  বাহন ট্যুরিস্ট বাসে যাওয়া যায়  চিতোয়ান পার্কল্যান্ড হোটেল।


 নেপালের এই ট্যুরিস্ট বাসগুলো চলে ধীরগতিতে। কারণ প্রথমত, নিরাপত্তা। আর দ্বিতীয়ত, যেতে যেতে পথের দুধারের নেপালকে দেখার জন্য ।  যেদিকে চোখ যায়, পাহাড় আর মেঘের মিলন। চোখ ফেরালেই পাল্টে যায় দৃশ্যপট।

পাহাড়ের পাঁজর কেটে তৈরি হয়েছে পথ। এই পথের পাশ দিয়েই বয়ে চলেছে পাহাড়ি ঝরনা প্রবাহিত তীরছুলি নদী। স্রোতস্বিনী সে নদী যেন আমাদের বাসের গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পথ দেখিয়ে দেখিয়ে এগিয়ে চলেছে।


এভাবে ঘণ্টা দুয়েক চলার পরেই ধীরে ধীরে পাহাড় মিলিয়ে যায়। আসে সমতল। সে সমতলে মাঝে মাঝে ধানখেত, মাঝে মাঝে জঙ্গলের পথ। সাত-আট কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে পৌছাতে হয় চিতোয়ান ফরেস্ট লেকের ধারে। সেখানে সারিবদ্ধ হাতি দাঁড়িয়ে থাকে । প্রতিটি হাতির পিঠে উটের হাওদার মতো চার খুঁটি সংবলিত আসন পাতা। চারজন করে পর্যটক প্রতি হাতির পিঠে চড়ে ওই খুঁটি ধরে বসতে হয়।


হাতির পিঠে চড়ে আমরা গভীর অরণ্যে প্রবেশ করে যাত্রীরা , যেখানে আছে বাঘ-ভাল্লুকের মতো হিংস্র প্রাণী। আছে নানা প্রজাতির বৃক্ষ, লতাপাতা, কীটপতঙ্গ। হাতি লেকের পানিতে নেমে গেলে, কোনো শব্দ না করে সাবধান থাকতে হয়।
হাতির পিঠে চরে এভাবেই উপভোগ করা যায়  চিতোয়ানের চিত্তাকর্ষক হৃদয়পট।

Post A Comment: